Bharat Forge, Flying Whales MoU: ভারতে তৈরি হবে অত্যাধুনিক হেভি-লিফট এয়ারশিপ, ভারত ফোর্জের সাথে হাত মেলাল বিদেশি সংস্থা
বুধবার সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্প ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের নিজস্ব এয়ারশিপ শিল্প গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হল। দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী ভারত ফোর্জ (Bharat Forge) ফরাসি-কানাডিয়ান সংস্থা ফ্লাইং হোয়েলস (Flying Whales)-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতে অত্যাধুনিক হেভি-লিফট এয়ারশিপ বা বিশাল মালবাহী উড়োজাহাজ তৈরি করা হবে, যা মূলত ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং কৌশলগত কাজে ব্যবহার করা হবে।

বুধবার সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্প ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের নিজস্ব এয়ারশিপ শিল্প গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত ফার্নবরো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারশো ২০২৬-এ। ভারত ফোর্জের অ্যারোস্পেস বিভাগের সিইও গুরু বিসওয়াল এবং ফ্লাইং হোয়েলসের প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান বুগোঁ এই চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, দুই সংস্থা যৌথভাবে ভারতে এয়ারশিপ তৈরি, সংযোজন এবং উৎপাদনের পরিকাঠামো গড়ে তুলবে। এর ফলে দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একটি নতুন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি হবে এবং বিদেশি সংস্থার উপর নির্ভরতা কমবে।
এই প্রকল্পের মূল আকর্ষণ হল ‘এলসিএ৬০টি’ (LCA60T) নামে একটি অত্যাধুনিক হেভি-লিফট এয়ারশিপ। এই এয়ারশিপ একসঙ্গে প্রায় ৬০ টন মাল বহন করতে সক্ষম। এর বিশেষত্ব হল, এটি উল্লম্বভাবে (Vertical Take-Off and Landing) উড়তে ও নামতে পারে। অর্থাৎ বড় রানওয়ে ছাড়াই এটি কাজ করতে পারবে। পাশাপাশি এতে হাইব্রিড-ইলেকট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা পরিবেশবান্ধব এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী।
এই এয়ারশিপ বিশেষভাবে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চল, সীমান্ত এলাকা বা যেখানে সাধারণ বিমান বা ট্রাক সহজে পৌঁছাতে পারে না, সেখানে দ্রুত সেনা সরঞ্জাম, ভারী যন্ত্রপাতি, খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া যাবে।
ভারত ফোর্জ জানিয়েছে, এই এয়ারশিপ শুধু সামরিক কাজে নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, সীমান্তে দ্রুত সেনা মোতায়েন এবং বড় আকারের সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণের কাজেও এটি ব্যবহার করা হবে।
ভারত ফোর্জের ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমিত কল্যাণী বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধ এবং সামরিক রসদ পরিবহণের পদ্ধতিতে এয়ারশিপ বড় পরিবর্তন আনবে। তাঁর মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই কয়েকটি দেশের তালিকায় জায়গা করে নেবে, যারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে হেভি-লিফট এয়ারশিপ তৈরি করতে সক্ষম।
অন্যদিকে, ফ্লাইং হোয়েলসের প্রধান নির্বাহী টাঙ্গি লেস্তিয়েন বলেন, ভারতের বিশাল ভৌগোলিক বিস্তৃতি, কঠিন পাহাড়ি অঞ্চল এবং কৌশলগত প্রয়োজন এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ভারত ফোর্জের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তারা শুধু ভারতের জন্য নয়, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও এয়ারশিপ তৈরি করতে চায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফল হলে দেশে উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান বাড়বে, নতুন সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে উঠবে এবং ভারত বিশ্বমানের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


