মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাসে বড় পদক্ষেপ! চলতি মাসেই সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে মোদী সরকার

সূত্রের খবর, সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে বিজেপি। এমনকি তামিলনাড়ুর শাসক দল ডিএমকে এবং কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তবে এখনও বিশেষ অধিবেশনের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

Published on: Oct 16, 2026, 11:29:39 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা এবং লোকসভা ও বিধানসভায় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে ফের উদ্যোগী কেন্দ্র। এই দুই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে চলতি মাসেই সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সূত্রের খবর, সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে বিজেপি। এমনকি তামিলনাড়ুর শাসক দল ডিএমকে এবং কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তবে এখনও বিশেষ অধিবেশনের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাসে বড় পদক্ষেপ! চলতি মাসেই সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে মোদী সরকার
মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাসে বড় পদক্ষেপ! চলতি মাসেই সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে মোদী সরকার

এপ্রিলে ধাক্কা খেয়েছিল সরকার

চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্র। মহিলা সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়েছিল। বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ২৩০ জন সাংসদ। কিন্তু সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না মেলায় বিলটি আটকে যায়। মোদী সরকারের কাছে যা ছিল বড় ধাক্কা।

২০২৩ সালে সংসদে মহিলা সংরক্ষণ আইন পাশ হয়েছিল। সেই আইনে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আইন কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া জনগণনা এবং আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কবে থেকে এই সংরক্ষণ বাস্তবে চালু হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এবার সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতেই নতুন করে উদ্যোগী কেন্দ্র। বিশেষ অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিলগুলি নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটি হতে পারে।

ডিএমকের সঙ্গে আলোচনা, লক্ষ্য দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ডিএমকের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে কেন্দ্র। লোকসভায় এই দলের ২২ জন সাংসদ রয়েছেন। আসন পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতায় আগে সরব হয়েছিল ডিএমকে। তবে তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়াও কয়েকটি ছোট দলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে। বর্তমান লোকসভার সদস্যসংখ্যা ৫৪০। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে উভয় কক্ষেই উপস্থিত থেকে ভোট দেওয়া সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। তাই সংখ্যার হিসাব মেলানোই সরকারের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশেষ অধিবেশনের দিন ঠিক করার ক্ষেত্রে ২৬ ও ২৭ অক্টোবর সংসদ ভবনে আয়োজিত ব্রিকসের দ্বাদশ সংসদীয় ফোরামের বৈঠকের বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, অধিবেশন শুরুর আগে সাংসদদের এক সপ্তাহের নোটিস দেওয়া হতে পারে।

আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে কেন আপত্তি?

এই প্রস্তাব ঘিরে বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস। কোন রাজ্যে কতগুলি লোকসভা আসন থাকবে, তা নতুন করে নির্ধারণের প্রস্তাব ঘিরে উদ্বেগ রয়েছে দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে। বিরোধীদের আশঙ্কা, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলির তুলনায় উত্তর ভারতের বেশি জনসংখ্যার রাজ্যগুলির রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে। মহিলা সংরক্ষণের সঙ্গে এই বিষয়টিকে জুড়ে দেওয়ারও সমালোচনা করেছে বিরোধীরা।

কেন্দ্রের বক্তব্য অবশ্য আলাদা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর আগে দাবি করেছিলেন, আসন বৃদ্ধির প্রস্তাবে দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব কমবে না। বরং লোকসভার মোট আসন বাড়লে ওই রাজ্যগুলিও বেশি আসন পাবে। সব মিলিয়ে, বিশেষ অধিবেশন ডাকলে মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে সংসদে ফের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াই শুরু হতে পারে। তবে বিল পাশ করাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারবে কি না কেন্দ্র, এখন সেটাই দেখার।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More