BJP MLA: 'সিংঘম বা পুষ্পার...,' নববর্ষ উদযাপনে গুলি, মহিলার মৃত্যুতে ৪ বছরের জেল বিহারের BJP বিধায়কের

BJP MLA: দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত রাজু কুমার সিংকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ এর ২ ধারা (অনিচ্ছাকৃত খুন) এবং অস্ত্র আইনের ৩০ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছে।

Published on: Jul 5, 2026, 16:27:27 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

BJP MLA: ২০১৮ সালে দক্ষিণ দিল্লির ফতেহপুর বেরির নিজের খামারবাড়িতে নিউ ইয়ার পার্টিতে আনন্দে গুলি ছুড়েছিলেন বিহারের বিজেপি বিধায়ক রাজু কুমার সিং। ওই গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন এক মহিলা। শনিবার সেই শোরগোল ফেলে দেওয়া মামলায় দিল্লির একটি আদালত রাজু সিংকে চার বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে।

৪ বছরের জেল বিহারের BJP বিধায়কের (ANI Video Grab)
৪ বছরের জেল বিহারের BJP বিধায়কের (ANI Video Grab)

শনিবার এই মামলার রায় দিতে গিয়ে রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের বিশেষ বিচারক বিশাল গগনে বলেন, 'আইনের শাসনে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রে আমাদের 'সিংঘম' বা 'পুষ্পা'-কারও প্রয়োজন নেই। তবে রাজু কুমার সিংয়ের এই প্রকাশ্য গুলি চালানোর দুঃসাহসিক ঘটনাটি এই দুই ধরনের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।' সাজা ঘোষণা করে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, রাজু কুমার সিংকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি মৃত ৪৫ বছর বয়সি অর্চনা গুপ্তার পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যদি তিনি এই ক্ষতিপূরণের টাকা না দেন, তবে তাঁকে আরও অতিরিক্ত তিন মাস জেল খাটতে হবে। বিচারক আরও বলেন, 'আদালত এটি বেশ স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারছে যে, একজন বিধায়কের এ ধরনের গুলি চালানোর ঘটনা অন্যদেরও একই রকম বা তার চেয়েও বড় আকারে এই আচরণ অনুকরণ করতে উৎসাহিত করে। বন্দুকের গুলি ছোঁড়ার এই দৃশ্য দিয়ে যারা পুরুষালি তৃপ্তি খোঁজেন, সেই দলে শুধু আইন অমান্যকারীরাই থাকবে না, বরং উর্দিধারী আইন রক্ষকেরাও শামিল হতে পারে।'

দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত রাজু কুমার সিংকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ এর ২ ধারা (অনিচ্ছাকৃত খুন) এবং অস্ত্র আইনের ৩০ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। বিচারক বলেন, 'আদালত এই বিষয়ে সন্তুষ্ট যে, ৩০৪ ধারা (পার্ট ২)-এর অধীনে সংঘটিত অপরাধের জন্য দোষী ব্যক্তিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া একটি উপযুক্ত এবং যথাযথ কঠোর শাস্তি হবে।' তিনি বলেন, আদালতের বিবেচনায় এই চার বছরের কারাদণ্ড এবং দোষী ব্যক্তি নিজেকে আত্মসমালোচনা ও সংশোধনের করার যে সময় পাবেন, তা অপরাধের অনুপাতে একটি দণ্ড হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে সামাজিক অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ বা অন্য যে কারও দ্বারা এ ধরনের বেপরোয়া গুলিবর্ষণের বিরুদ্ধে এটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। বিচারক আরও বলেন, 'আদালত অস্ত্র আইনের ৩০ ধারার অধীনে দোষী ব্যক্তিকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া সমীচীন বলে মনে করছে।' তিনি জানান, এই সাজাগুলো পর পর কার্যকর হবে। রায় দিতে গিয়ে বিচারক বিশাল গগনে বলেন, 'ভারতের কিছু রাজ্যে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রের অবৈধ কারখানা রয়েছে বলে জানা যায়; এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক অনুষ্ঠানেও একজন বিধায়ক যেভাবে অবাধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে বাহুবলীর মতো আচরণ করছেন, তা এই ধরনের অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের সংস্কৃতিকে আরও উৎসাহিত করে।'

জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক যদি দুই বা তার বেশি বছরের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়। যেহেতু রাজু সিংকে চার বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে, তাই তাঁর বিধায়ক পদ খোয়ানো কার্যত সময়ের অপেক্ষা। তবে রাজু সিং যদি উচ্চ আদালতে আপিল করে তাঁর সাজা বা দোষী হওয়ার ওপর স্থগিতাদেশ আনতে পারেন, তবেই একমাত্র তাঁর বিধায়ক পদ বাঁচানো সম্ভব। আর উচ্চ আদালত থেকে তিনি যদি কোনও স্বস্তি না পান, তবে সাহেবগঞ্জ বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন অনিবার্য।