Pak Spy Arrested from Assam: পাক গুপ্তচরের কাছে সেনার তথ্য পাচারের অভিযোগ, অসমে গ্রেফতার বিহারের আরও এক যুবক
গুয়াহাটিতে ফের এক পাক গুপ্তচরকে গ্রেফতার করল অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। সোমবার, ৫ অক্টোবর সাতগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে রিতেশ কুমার সিংহ নামে ৩৯ বছরের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি বিহারের বেগুসরাইয়ে।
পাকিস্তানের গুপ্তচরের কাছে নিরাপত্তা বাহিনী সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগ। গুয়াহাটিতে এই ঘটনায় ফের এক জনকে গ্রেফতার করল অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। সোমবার, ৫ অক্টোবর সাতগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে রিতেশ কুমার সিংহ নামে ৩৯ বছরের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি বিহারের বেগুসরাইয়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অসম পুলিশের এসটিএফ থানায় নথিভুক্ত ০৯/২০২৬ নম্বর মামলার তদন্তে রিতেশকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, প্রাথমিক জেরায় এমন কিছু তথ্য সামনে এসেছে, যা থেকে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানের এক গোয়েন্দা আধিকারিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। সেই তথ্য পাচারের ঘটনায় রিতেশের ভূমিকা কী ছিল, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এই মামলায় রিতেশই দ্বিতীয় গ্রেফতার। এর আগে ৩ অক্টোবর রাত থেকে ৪ অক্টোবর ভোরের মধ্যে সাতগাঁও থানার অধীনে গান্ধীনগর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে অভিষেক কুমার সিংহ নামে ৩১ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। তাঁরও বাড়ি বিহারে।
অভিষেকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানি এক গোয়েন্দা আধিকারিকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাঁর। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত গোপন তথ্য সেই ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। অভিষেককে গ্রেফতারের সময় একটি মোবাইল ফোন, কয়েকটি সিম কার্ড এবং কিছু নথি উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বার তদন্তকারীদের নজরে রিতেশ এবং অভিষেকের মধ্যে সম্পর্ক। রিতেশ কি অভিষেককে সাহায্য করতেন? তিনি নিজে সরাসরি পাকিস্তানি গোয়েন্দার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন কি না? ঠিক কী ধরনের তথ্য বাইরে পাঠানো হয়েছে? কত দিন ধরে এই যোগাযোগ চলছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের দাবি, এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে, ঘটনাটি কোনও বিচ্ছিন্ন যোগাযোগের বিষয় নাও হতে পারে। এর পিছনে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তাঁদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
অসম পুলিশের বক্তব্য, তেজপুরে থাকা গজরাজ কোরের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মেলে। সেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। পরে একে একে অভিযুক্তদের হদিশ মেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধি সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ হ্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী, যিনি চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করতেন বলেও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
ফলে গুয়াহাটির এই গুপ্তচরকাণ্ড এখন আরও জটিল চেহারা নিচ্ছে। পাকিস্তানি গোয়েন্দা চক্রের সঙ্গে অসমের এই যোগাযোগ কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়েছে, সেটাই এখন তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। রিতেশকে জেরা করে সেই জালের আরও কোনও মাথার সন্ধান মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


