Bihar Political Row over Farakka: ফরাক্কা চুক্তি নিয়ে বিহারে তরজা, বাংলাদেশকে জল দিতে গিয়ে ‘নিজেদের গলা শুকোচ্ছে’

ফরাক্কা চুক্তির নবীকরণ নিয়ে মুখোমুখি জেডিইউ এবং আরজেডি। এক দিকে জেডিইউ বলছে, এই চুক্তি বিহার ও দেশের স্বার্থের পক্ষে নয়। অন্য দিকে আরজেডির দাবি, তারা প্রথম থেকেই ফরাক্কার বিরোধিতা করে এসেছে। ফলে বাংলাদেশকে জল দেওয়া নিয়ে এবার বিহারেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ‘জলযুদ্ধ’।

Published on: Aug 24, 2026, 08:10:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Bihar Political Row over Farakka: বাংলাদেশের সঙ্গে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে ফের উত্তপ্ত বিহারের রাজনীতি। ফরাক্কা চুক্তির নবীকরণ নিয়ে মুখোমুখি জেডিইউ এবং আরজেডি। এক দিকে জেডিইউ বলছে, এই চুক্তি বিহার ও দেশের স্বার্থের পক্ষে নয়। অন্য দিকে আরজেডির দাবি, তারা প্রথম থেকেই ফরাক্কার বিরোধিতা করে এসেছে। ফলে বাংলাদেশকে জল দেওয়া নিয়ে এবার বিহারেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ‘জলযুদ্ধ’।বিহারের বক্তব্য, বাংলাদেশকে জল দিতে গিয়ে গলা শুকোচ্ছে আমাদের।

বাংলাদেশের সঙ্গে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে ফের উত্তপ্ত বিহারের রাজনীতি।
বাংলাদেশের সঙ্গে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে ফের উত্তপ্ত বিহারের রাজনীতি।

এই আবহে জেডিইউয়ের জাতীয় কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় ঝা এবং উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় চৌধুরী বার বার ফরাক্কা চুক্তির নবীকরণের বিরোধিতা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, গঙ্গার জল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিহারের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। জেডিইউয়ের অভিযোগের নিশানায় অবশ্য সরাসরি লালু প্রসাদ যাদবও। দলের নেতাদের প্রশ্ন, ১৯৯৬ সালে চুক্তি হওয়ার সময় লালু ছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রের রাজনীতিতেও যথেষ্ট প্রভাবশালী। তা হলে তখন প্রতিবাদ কোথায় ছিল?

সেই অভিযোগের জবাব দিয়েছেন লালু। শনিবার বিবৃতি দিয়ে তিনি দাবি করেন, সংসদে নীতীশ কুমার কখনও ফরাক্কা নিয়ে একটি শব্দও বলেননি। লালুর দাবি, তাঁর দল শুরু থেকেই ফরাক্কা চুক্তির বিরোধিতা করেছে। বিহারের ক্ষতি এবং ভবিষ্যৎ বিপদের কথা তাঁরা আগেই বুঝেছিলেন। এখানেই থামেননি আরজেডি প্রধান। নীতীশের ‘নবীন’ নেতাদের কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, ফরাক্কা নিয়ে কথা বলার আগে তাঁদের ইতিহাস এবং ভূগোল পড়া উচিত। গঙ্গায় জলের প্রাপ্যতা, বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রভাব এবং তৎকালীন সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে নথি খতিয়ে দেখার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

আরজেডি নেতা আলোক মেহতাও জেডিইউকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, ফরাক্কা আজকের বিষয় নয়। কেন্দ্র এবং রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে এনডিএ সরকার রয়েছে। তা হলে এত দিনে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে?বিহারের এই ক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে গঙ্গার জল এবং বন্যার পুরনো সমস্যা। ১৯৯৫ সাল থেকেই গঙ্গার জলে নিজেদের অংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছে বিহার সরকার। ২০১২ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী পবন কুমার বনসল চৌসা থেকে ফরাক্কা পর্যন্ত গঙ্গার জল নিয়ে সমীক্ষার কথা বলেছিলেন। পরে একাধিক বার চিঠি চালাচালি হয়েছে। কিন্তু বিহারের অভিযোগ, কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

ফরাক্কা ব্যারেজে পলি জমে বর্ষায় বন্যার সমস্যা আরও বাড়ে বলেও দাবি বিহারের। বক্সার থেকে ভাগলপুর পর্যন্ত গঙ্গার দুই তীরের বহু এলাকা এর প্রভাবের মুখে পড়ে। এ দিকে গরমের সময়ে জল নিয়েও প্রশ্ন তুলছে জেডিইউ। তাদের দাবি, গঙ্গার জল ভাগের ব্যবস্থায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত জল পাওয়ায় বিহারের একাংশে জলসঙ্কট দেখা দেয়। শুধু তাই নয়, কোশী এবং গণ্ডকের জলও শেষ পর্যন্ত গঙ্গার মাধ্যমে বাংলাদেশের দিকে চলে যায়। ফলে বিহার নিজের প্রাপ্য জলের পুরোটা কাজে লাগাতে পারে না।

১২ ডিসেম্বর ১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নবীকরণ নিয়ে এখনই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির বিহার সভাপতি সঞ্জয় সরাবগের কথাতেও উঠে এসেছে রাজ্যের স্বার্থের প্রশ্ন। তাঁর দাবি, ফরাক্কা শুধু জলবণ্টনের বিষয় নয়। চুক্তি নবীকরণের সময় বিহারের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজন স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরতে হবে। সব মিলিয়ে ফরাক্কা এখন বিহারের ভোটের রাজনীতিতেও বড় হাতিয়ার।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More