Bihar Chief Minister: জল্পনাই সত্যি! নীতীশজমানা শেষে প্রথম BJP মুখ্যমন্ত্রী পেল বিহার, কে এই সম্রাট চৌধুরী?

Bihar Chief Minister: ৫৭ বছর বয়সি সম্রাট চৌধুরী নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভায় ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

Published on: Apr 14, 2026 5:32 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Bihar Chief Minister: জল্পনাই সত্যি হল। চৈত্রের শেষ দিনে মগধরাজ্যে নীতীশ কুমারের দু'দশকের শাসনের অবসান ঘটেছে। আর নীতীশ কুমারের ছেড়ে যাওয়া কুর্সিতে বসবেন তাঁরই ডেপুটি সম্রাট চৌধুরী। আগামীকালই অর্থাৎ বুধবার বিহারে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।

সম্রাট চৌধুরী (ANI Video Grab)
সম্রাট চৌধুরী (ANI Video Grab)

মঙ্গলবার বেলায় মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পরই রাজ্যপালের কাছে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন নীতীশ কুমার। তার কিছুক্ষণ পরেই বিহারের শাসকজোট এনডিএ-র তরফ থেকে নীতীশ কুমারের ক্যাবিনেটে উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো সম্রাট চৌধুরীর নাম ঘোষণা করে। এই বদল বিহারের রাজনীতি তো বটেই, এই সন্ধিক্ষণ রাজ্যের ক্ষমতাসীন জোট এনডিএ-এর অভ্যন্তরেও এক উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পরিবর্তন। গত ১০ এপ্রিল নীতীশ কুমার রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। যা রাজ্য সরকারের নেতৃত্বে পুনর্গঠনের পথ প্রশস্ত করেছিল। সামনে চলে আসে বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে নানা জল্পনা। আগেই শোনা যাচ্ছিল যে, নীতীশ কুমার কুর্সি ছাড়লে বিহারে আসন সংখ্যার নিরিখে বিজেপির কেউ মসনদে বসবেন। এক্ষেত্রে তালিকার অগ্রভাগে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ডেপুটি সম্রাট চৌধুরী। তবে অন্য বেশ কয়েকটি নামও শোনা যাচ্ছিল। এসবের মধ্যেই দিন কয়েক আগে সম্রাটকে নীতীশের বাসভবনে গিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। এরপর থেকে ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকে যে, নীতীশের কুর্সিতে সম্রাটকেই পছন্দ পদ্ম শিবিরের নেতাদের।

সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ল। এদিন নীতীশ কুমারের ইস্তফার পর বিহারের বিধায়করা পরিষদীয় নেতা হিসাবে সম্রাট চৌধুরীকে বেছে নেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ চৌহান জানান, 'সম্রাট চৌধুরী সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর কার্যত স্পষ্ট হয়ে য়ায়, তাঁর কুর্সিতে বসার বিষয়টিও। বিজেপি নেতা রাধা মোহন সিং বলেছেন, 'অতীতের মতোই বিহারে এনডিএ-র নেতা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীকেই বেছে নেওয়া হবে।' উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা-হিন্দিভাষী অঞ্চলের বেশিরভাগ রাজ্যেই বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন; কিন্তু বিহার ছিল এর ব্যতিক্রম। অবশেষে সেই রাজ্য বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পেল। অন্যদিকে, এদিন ইস্তফা দেওয়ার পর এক্স হ্যান্ডেলে নীতীশ কুমার লেখেন, 'নতুন সরকার দায়িত্বগুলি এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বিহারের উন্নতির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে থাকবে।'

কে এই সম্রাট চৌধুরী?

৫৭ বছর বয়সি সম্রাট চৌধুরী নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভায় ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি 'কোয়েরি' বা 'কুশওয়াহা' সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এই সম্প্রদায় 'অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী' (ওবিসি) সম্প্রদাভুক্ত। অনগ্রসর জাতিগুলোর মধ্যে, যাদবদের পরেই কুশওয়াহা সম্প্রদায়ের অবস্থান। সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে তারাই দ্বিতীয় বৃহত্তম। সূত্র অনুযায়ী, নীতীশ কুমারের দল জেডি(ইউ) বিজেপির কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল, যেন এই নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী থেকেই কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদে নিয়োগ করা হয়। ১৯৯০ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়া সম্রাট চৌধুরী বহুবার দলবদল করেছেন- লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি থেকে নীতীশের জেডিইউ হয়ে অবশেষে ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। বেশ কয়েক বছর ধরেই সম্রাটকে বিজেপির নতুন প্রজন্মের নেতা হিসাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে আসছে। সুশীল মোদীর মৃত্যুর পরে সম্রাট চৌধুরীকেই বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হয়। নীতীশকুমার মুখ্যমন্ত্রী থাকলেও বিহারের অর্থমন্ত্রক ছিল সম্রাট চৌধুরীর হাতেই। আসলে বিহারের ওবিসি সম্প্রদায়কে সন্তুষ্ট করতেই সম্রাট চৌধুরীই বিজেপির তুরুপের তাস, এমনই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।