JNU harassment case: JNU অধ্যাপকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, থানায় হাজিরা কংগ্রেস সাংসদের
JNU harassment case: জেএনইউ-র ১১ জন ছাত্রী অঙ্গোমচা বিমল আকোইজামের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনার পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যাপককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন।
JNU harassment case: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) নিরাপত্তা আধিকারিকের দায়ের করা এফআইআরের তদন্তের জন্য দিল্লির বসন্ত কুঞ্জ থানায় হাজিরা দিলেন ইনার মণিপুরের কংগ্রেস সাংসদ অঙ্গোমচা বিমল আকোইজাম। জীবনের এক দীর্ঘ সময় যে শহরে কাটিয়েছেন, সেখানেই এসে নিজেকে অত্যন্ত 'অচেনা' মনে হচ্ছে বলে সাংবাদিকদের কাছে আক্ষেপ প্রকাশ করেন অধ্যাপক তথা সাংসদ।

থানার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অঙ্গোমচা বিমল আকোইজাম বলেন, 'দিল্লিতে এসে মনে হচ্ছে যেন কোনও অচেনা এক জায়গায় এসেছি। অথচ আমি এখানেই চাকরি করেছি, জীবনের বড় অংশ এখানেই কাটিয়েছি। কিন্তু আজ কোনও কারণে মনে হচ্ছে যেন সম্পূর্ণ এক শত্রুভাবাপন্ন জায়গায় এসেছি। এই শহরের সঙ্গে কোনও আত্মিক টান বা আপন অনুভূতি এখন আর খুঁজে পাচ্ছি না।' কংগ্রেস সাংসদ জানান, দিল্লি পুলিশের সমন পাওয়ার পরই তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে রাজধানীতে এসেছেন। তিনি বলেন, 'দিল্লি পুলিশ আমাকে তদন্তে যোগ দিতে ডেকেছে বলেই আমি এখানে এসেছি, যাতে তদন্তে সহযোগিতা করা যায়। আমার অত্যন্ত ব্যস্ত সময়সূচি রয়েছে। তা সত্ত্বেও এসেছি, কারণ না এলে লোকজন হয়তো বলতে শুরু করত যে 'প্রফেসর সহযোগিতা করছেন না' ইত্যাদি। আমি সেই ধরনের অযাচিত বিতর্ক এড়াতে চেয়েছি।'
মামলার এই সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে নিজের রাজ্য মণিপুরের প্রতি তাঁর টান আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আকোইজামের কথায়, 'যা কিছু ঘটছে, তার সুবাদে এখন আমি মণিপুরের সঙ্গে অনেক বেশি টান অনুভব করছি।' বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রক্রিয়াকে আগে 'খাপ পঞ্চায়েত'-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন আকোইজাম। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে দিল্লি পুলিশের আইনি পদক্ষেপ অন্তত সেই ধরনের খাপ পঞ্চায়েতের মতো পক্ষপাতদুষ্ট হবে না। তিনি বলেন, 'আইন ও ঈশ্বরকে তাঁর নিজস্ব পথে চলতে দিন। খাপ পঞ্চায়েত যা করেছে, আশা করছি এখানে সেই ধরনের কিছুর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। এটাই আমার একমাত্র প্রত্যাশা।'
জেএনইউ-র ১১ জন ছাত্রী বিমলের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনার পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যাপককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। জেএনইউয়ের উপাচার্য শান্তিশ্রী ডি পণ্ডিতের ৯ অক্টোবরের নির্দেশে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটি আকোইজামের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত করেছে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রযোজ্য চাকরির বিধি অনুযায়ী তাঁকে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা আধিকারিকের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এফআইআর রুজু করে দিল্লি পুলিশ এবং আকোইজামকে তদন্তে যোগ দেওয়ার জন্য তলব করে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আকোইজাম।
E-Paper

