যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের পিছনে বিদেশি শক্তি! ‘ককরোচ’দের নিশানা করে বিজেপি

যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের আবহেই এই মন্তব্য করেছেন নিতিন। তাঁর বক্তব্য, ১৪০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ রয়েছে। সেই পরিস্থিতি নষ্ট করার চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। দেশে এমন এক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে দাবি করেছেন বিজেপি সভাপতি।

Published on: Oct 10, 2026, 12:57:53 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হল। ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির আন্দোলনকে নিশানা করে এ বার সরব হল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। আর সেই পরিকল্পনার পিছনে রয়েছে বিদেশি শক্তির মদত। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়ালকে এক বন্ধনীতে দাঁড় করিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তাঁর দাবি, বিরোধীদের একাংশ এবং ককরোচদের মতো গোষ্ঠী দেশের পরিবেশ অশান্ত করতে চাইছে। তবে বিদেশি শক্তির মদতের অভিযোগের স্বপক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হল। (PTI)
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হল। (PTI)

যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের আবহেই এই মন্তব্য করেছেন নিতিন। তাঁর বক্তব্য, ১৪০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ রয়েছে। সেই পরিস্থিতি নষ্ট করার চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। দেশে এমন এক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে দাবি করেছেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর প্রশ্ন, কারা এই অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে এবং তাদের উদ্দেশ্যই বা কী?

এর পরেই বিরোধীদের নিশানা করেন নিতিন। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির পিছনে রয়েছে দু’টি গোষ্ঠী। এক দিকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডি’ জোট, অন্য দিকে অরবিন্দ কেজরীওয়ালের সহযোগীরা। দ্বিতীয় গোষ্ঠীকে কটাক্ষ করে ‘ককরোচ’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিজেপি সভাপতির দাবি, এই দুই শিবিরের উদ্দেশ্য দেশের মানুষ বুঝে গিয়েছেন। তাই তাদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

যন্তর মন্তরে কেন এই বিক্ষোভ?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি রয়েছে তাদের। দলের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। সেই অভিযোগ সামনে রেখেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছে সিজেপি।

তবে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে আগেই কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। প্রশাসনের তরফে কর্মসূচির অনুমতি না দেওয়ায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে দিল্লি বিমানবন্দরে বিমানের ভিতর থেকে আটক করা হয়। তাঁর সঙ্গে দলের আরও দুই সদস্যকেও আটক করেছে পুলিশ। এর আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও গুরুগ্রামে আটক করা হয়েছিল বলে খবর।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ করার অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রশ্নে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সিজেপির দাবি, ভোটার তালিকা নিয়ে তাদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া উচিত। অন্য দিকে, বিজেপি বিক্ষোভের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং বিদেশি শক্তির মদতের অভিযোগ তুলেছে।

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের চেহারা নিচ্ছে। বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিজেপির আক্রমণ যত তীব্র হচ্ছে, ততই আলোচনায় উঠে আসছে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ এবং তা ঠেকাতে প্রশাসনের পদক্ষেপ।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More