‘বিপ্লব ছাড়া পথ নেই, রক্তপাতও হবে’! প্রশান্ত ভূষণের কথায় ‘ক্ষমতা বদলের ছক’ দেখছে BJP

প্রশান্ত ভূষণকে বলতে শোনা যাচ্ছে বলে দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্য কোনও পথ খোলা নেই। ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের একমাত্র উপায় বিপ্লব। সেই বিপ্লবে অনেক রক্তপাত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি বলে রেকর্ডিংটি ঘিরে দাবি উঠেছে।

Published on: Oct 12, 2026, 14:56:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। তার মধ্যেই নতুন বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ। তাঁর একটি কথিত অডিয়ো রেকর্ডিং প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার একমাত্র পথ হিসাবে ‘বিপ্লবের’ কথা বলতে শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য রক্তপাতের উল্লেখও রয়েছে ওই রেকর্ডিংয়ে। বিষয়টি সামনে আসতেই ভূষণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত সরকারকে অস্থির করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই মন্তব্য। বিরোধীদের আন্দোলনের আড়ালে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও দাবি গেরুয়া শিবিরের। তবে রেকর্ডিংটির সত্যতা এবং সম্পূর্ণ কথোপকথনের প্রেক্ষাপট স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি।

New Delhi, India - Oct. 3, 2026: Senior lawyer Prashant Bhushan  detained by police personnel during a protest against Chief Election Commissioner (CEC) Gyanesh Kumar, demanding his resignation over the alleged irregularities in the Special Intensive Revision (SIR) of electoral rolls and mass deletion of voters, at near Jantar Mantar  in New Delhi, India, on Saturday, October 3, 2026.  (Photo by Arvind Yadav/ Hindustan Times) (Hindustan Times)
New Delhi, India - Oct. 3, 2026: Senior lawyer Prashant Bhushan detained by police personnel during a protest against Chief Election Commissioner (CEC) Gyanesh Kumar, demanding his resignation over the alleged irregularities in the Special Intensive Revision (SIR) of electoral rolls and mass deletion of voters, at near Jantar Mantar in New Delhi, India, on Saturday, October 3, 2026. (Photo by Arvind Yadav/ Hindustan Times) (Hindustan Times)

কী রয়েছে রেকর্ডিংয়ে?

প্রকাশিত অডিয়ো ক্লিপটি এক্স বা টুইটারের একটি অনলাইন আলোচনাসভার অংশ বলে দাবি করা হয়েছে। আলোচনাটি আয়োজন করেছিলেন নিমো যাদব এবং জিতেশ নামে একটি অ্যাকাউন্টের ব্যবহারকারী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভূষণ। আলোচনার এক পর্যায়ে কৌতুকশিল্পী কুণাল কামরা আইনজীবীদের হাতে দেশের শাসনভার থাকা নিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নামে প্রচলিত একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন।

তার জবাবে ভূষণকে বলতে শোনা যাচ্ছে বলে দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্য কোনও পথ খোলা নেই। ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের একমাত্র উপায় বিপ্লব। সেই বিপ্লবে অনেক রক্তপাত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি বলে রেকর্ডিংটি ঘিরে দাবি উঠেছে।

কথোপকথনের অন্য অংশে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর ব্যবহারের প্রসঙ্গও রয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার সেনাবাহিনী নামাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভূষণ, এমনটাই দাবি করা হচ্ছে। তবে বিচ্ছিন্ন অডিয়ো ক্লিপ থেকে সম্পূর্ণ আলোচনার প্রেক্ষাপট বোঝা কঠিন। রেকর্ডিংটির সত্যতা নিয়েও স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজেপির অভিযোগ, সরকার ফেলার পরিকল্পনা

এই ঘটনা নিয়ে বিজেপির বক্তব্য, বিপ্লব এবং রক্তপাতের কথা বলে দেশে অরাজকতা তৈরির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, মোদী-শাহ সরকারকে সরানোর লক্ষ্যে বিরোধী শিবিরের একাংশ রাস্তায় অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সরকার বদলের চেষ্টা হলে তা দেশের স্থিতিশীলতার পক্ষে বিপজ্জনক বলেও দাবি গেরুয়া শিবিরের।

বিজেপি এই ঘটনাকে ‘রেজিম চেঞ্জ প্লট’ বা ক্ষমতার পালাবদলের ছক এবং ‘অ্যানার্কি টুলকিট’ বলে আক্রমণ করেছে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচিত সরকারকে সরানোর লক্ষ্যে আন্দোলনকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে এই অভিযোগ রাজনৈতিক শিবিরের দাবি হিসাবেই রয়েছে। সরকার ফেলার কোনও পরিকল্পনা বাস্তবে রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি।

১০ অক্টোবরেও সরব ছিলেন ভূষণ

এর আগে ১০ অক্টোবর সমাজমাধ্যমে মোদী-শাহ সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন ভূষণ। তাঁর বক্তব্য ছিল, গণতন্ত্র রক্ষা এবং সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে আর কোনও পথ খোলা নেই, বিপ্লবই একমাত্র উপায়। বিচারব্যবস্থা গণতন্ত্র রক্ষা করতে এবং সুশৃঙ্খল ক্ষমতার পরিবর্তন নিশ্চিত করতে যথেষ্ট পদক্ষেপ করছে না বলেও সমালোচনা করেছিলেন তিনি।

এই মন্তব্যের পরেই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পথে নেমেছিলেন বিভিন্ন বিরোধী দল ও সংগঠনের সদস্যেরা। সেই বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে ১০ অক্টোবর দিল্লি পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিলেন ভূষণ।

অন্য দিকে, ১১ অক্টোবর কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে ভূষণ বলেন, সরকার ও প্রশাসনের প্রতিষ্ঠানগুলি আপসকামী হয়ে পড়লে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, অন্যায়ের জন্য দায়ী সরকারি আধিকারিকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় প্রতিবাদের প্রয়োজনীয়তার উপরেই জোর দিয়েছিলেন তিনি।

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলতে থাকা রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে ভূষণের কথিত অডিয়ো নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। বিজেপি যেখানে সরকার ফেলার ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেখছে, সেখানে ভূষণের বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং রেকর্ডিংটির সত্যতা যাচাই করা জরুরি। এই বিতর্কে ভূষণের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে রাজনৈতিক অভিযোগের বাইরে গিয়ে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More