অমিত মালব্য আউট, দুরন্ত কামব্যাক স্মৃতি ইরানির! বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় টিমে বড় চমক, বাংলা থেকে...
Team Nitin Nabin: গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, নিতিন নবীন এবং দলের সংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলে। তারপরই নতুন কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের নামে সিলমোহর দেওয়া হয়।
Team Nitin Nabin: সামনেই উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব-সহ একাধিক রাজ্যে নির্বাচন। তার আগে দলের নতুন সর্বভারতীয় টিম ঘোষণা করলেন বিজেপির (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। এই রদবদলে যাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি (Smriti Irani)। তবে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে অমিত মালব্যর নাম। বিজেপির নতুন সোশ্যাল মিডিয়া কনভেনরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দীপক মাহাস্কে-কে। গেরুয়া শিবিরের আইটি সেলের প্রধান এখন থেকে তিনি। এর আগে মাহাস্কে রসায়নের অধ্যাপক ছিলেন বলে জানা যায়।

বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনে জায়গা পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্কের দু'জন। বিজেপির সর্বভারতীয় জাতীয় সহসভাপতি হয়েছেন মধুছন্দা কর ও জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে মনোজ টিগ্গাকে। যুবমোর্চার সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়েছে লোকসভার সাংসদ তেজস্বী সূর্যকে। সর্বভারতী সহসভাপতি করা হয়েছে রাম মাধবকে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে বিজেপির নতুন কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে (সাধারণ সম্পাদক, সংগঠন) রেখে দেওয়া হয়েছে কর্ণাটকের নেতা বিএল সন্তোষকে।
বিজেপির কেন্দ্রীয় আট সাধারণ সম্পাদক কারা?
নিতিন নবীনের নতুন টিমে একাধিক প্রবীণ নেতার পাশাপাশি তরুণ নেতাদেরও রাখা হয়েছে। নতুন জাতীয় সাধারণ সম্পাদকদের তালিকায় রয়েছেন-বিনোদ তাওড়ে, সুনীল বনসল, বিপ্লব কুমার দেব, স্মৃতি ইরানি, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র প্যাটেল, হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়া।
বিজেপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কারা?
শিবপ্রকাশ এবং সৌদান সিংকে জাতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) করা হয়েছে।
বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কারা?
বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি করা হয়েছে ১৩ জনকে। বিজেপির নতুন জাতীয় সহ-সভাপতিদের তালিকাতেও মহিলা প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্য। বসুন্ধরা রাজে ছাড়াও রয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের ডি পুরন্দেশ্বরী, উত্তরপ্রদেশের রেখা বর্মা, গুজরাটের বর্ষাবেন নরেন্দ্রভাই দোশি এবং মহারাষ্ট্রের ডা. ভারতী প্রবীণ পাওয়ার। পশ্চিমবঙ্গ থেকে মধুচ্ছন্দা করও জাতীয় সহ-সভাপতি হয়েছেন। পুরুষদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নামগুলির মধ্যে রয়েছেন উত্তরাখণ্ডের তীরথ সিং রাওয়াত, দিল্লির রাম মাধব, ওড়িশার বৈজয়ন্ত পাণ্ডা এবং পঞ্জাবের সরদার মনপ্রীত সিং বাদল। উত্তরপ্রদেশের তারিক মনসুর, মধ্যপ্রদেশের লাল সিং আর্য এবং কর্নাটকের এম নাগরাজও জাতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন।
কোষাধক্ষ কারা?
তালিকায় সবচেয়ে বড় চমকগুলির একটি হল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল-এর (Piyush Goyal) নাম। মহারাষ্ট্র থেকে আসা এই বর্ষীয়ান বিজেপি নেতাকে দলের জাতীয় কোষাধ্যক্ষ (National Treasurer) নির্বাচিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁর সহ-কোষাধ্যক্ষ (National Joint Treasurer) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাজস্থানের শ্রী রাজেশ মঙ্গল।
যুব মোর্চার সভাপতি, মহিলা মোর্চা, সংখ্যালঘু মোর্চার দায়িত্বে কে?
বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি হয়েছেন ডঃ হেমাঙ্গ জোশী। অন্যদিকে, মহিলা মোর্চার দায়িত্ব পেয়েছেন রূপ কুমারী চৌধুরি এবং সংখ্যালঘু মোর্চার দায়িত্বে আনা হয়েছে কুঁওয়ার বাসিত আলিকে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, নিতিন নবীন এবং দলের সংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলে। তারপরই নতুন কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের নামে সিলমোহর দেওয়া হয়। সংগঠনে রদবদলের পর নতুন এই নতুন কমিটি দ্রুত তাঁদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ২০২৯ সালে লোকসভা ভোট রয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর উত্তর প্রদেশ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। তা মাথায় রেখে নয়া কমিটিতে অভিজ্ঞদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের নেতাদের রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী ও ভারসাম্যমূলক করাই মূল লক্ষ্য। বলাই যায়, বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনে এই বদল তাই ভবিষ্যতে রাজনৈতিক রণকৌশলের প্রস্তুতি।
E-Paper

