জ্ঞানেশ কুমারের জন্যই বিজেপির নেতারা হেরেছেন, দাবি অভিজিৎ দীপকের
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন দীপকে। তাঁর দলের দাবি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদ না ছাড়লে দেশ জুড়ে আন্দোলনে নামবে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া।
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে সরব হল ককরোচ জনতা পার্টি। দলের নেতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছেন, শুধু বিরোধী দলের নেতারা নন, বিজেপির বেশ কিছু নেতাও নাকি জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার কারণে নির্বাচনে হেরেছেন। যদিও কোন কোন বিজেপি নেতা এই কারণে হেরেছেন, তার নাম প্রকাশ্যে জানাননি তিনি। তাঁর বক্তব্যের ভিত্তি নিয়ে অবশ্য কোনো স্বাধীন প্রমাণও সামনে আসেনি।

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন দীপকে। তাঁর দলের দাবি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদ না ছাড়লে দেশ জুড়ে আন্দোলনে নামবে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া।
সাংবাদিক বৈঠকে দীপকেকে প্রশ্ন করা হয়, ভোটে কারচুপির আশঙ্কা থাকলে বিরোধী দলগুলির কি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত? জবাবে তিনি বলেন, কোনও পক্ষের যদি মনে হয় নির্বাচন অবাধ এবং সুষ্ঠু হচ্ছে না, তা হলে সেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিজেপির যে নেতারা আগের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, তাঁদেরও এই বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত।
জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়েই কেন এত অভিযোগ, তার ব্যাখ্যাও দেন দীপকে। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটার তালিকায় হস্তক্ষেপ নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এসআইআর বন্ধ করা, আগের ভোটার তালিকা ফিরিয়ে আনা এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বাধীন তদন্তের দাবিও তুলেছে তাঁর দল। পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত নথি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্বাধীন তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত একটি সংবাদ প্রতিবেদনের পর। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক যোশী এসআইআর এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে এমন ১৪টি আপত্তির কথা উল্লেখ করা হয়। ভোটার নাম বাদ দেওয়া, নতুন ভোটার যুক্ত করা এবং ভোটার সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলার কথা বলা হয়েছিল।
তবে এই দাবির জবাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, বিভিন্ন বিষয়ে সদস্যদের মতামত আলাদা হতে পারে। কিন্তু কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি তিন সদস্যের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে। এসআইআর নিয়েও সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ছিল বলে জানিয়েছে কমিশন। ফলে জ্ঞানেশ কুমার একক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন অভিযোগ কমিশন মানেনি।
অন্য দিকে, দীপকের দাবি শুধু নির্বাচন কমিশনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আসন্ন উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। বিরোধী দলগুলি তাঁর আহ্বানে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে কি না, সে প্রসঙ্গে তিনি জানান, কোন দল কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি তাদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক অধিকার।
সব মিলিয়ে এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। এক দিকে কমিশন নিজেদের সিদ্ধান্তকে সর্বসম্মত বলে দাবি করছে, অন্য দিকে দীপকের দল স্বাধীন তদন্ত এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলছে। বিজেপির কয়েক জন নেতার পরাজয়ের পিছনে জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা ছিল বলে দীপকের যে দাবি, সেটিও আপাতত তাঁর রাজনৈতিক অভিযোগ হিসাবেই রয়েছে; এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা পরাজিত নেতাদের তালিকা সামনে আসেনি।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


