বিজেপির বিক্ষোভে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান! কী বলল কর্নাটক হাই কোর্ট?

ঘটনাটি ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বরের। কর্নাটকের মান্ড্য জেলায় বিজেপির কয়েকজন সমর্থক একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন। অভিযোগ, সেই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন।

Published on: Nov 6, 2026, 11:00:14 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

বিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উঠেছিল ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান! এমনই অভিযোগ ঘিরে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিল কর্নাটক হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিজেপির মতো রাজনৈতিক দলের আয়োজিত বিক্ষোভে কেউ পাকিস্তানের সমর্থনে স্লোগান দেবেন, তা কল্পনা করাও কঠিন। আবেদনকারীর দাবি ছিল, পাকিস্তান মুর্দাবাদ বলতে গিয়ে ভুল করে মুখ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান জিন্দাবাদ। অর্থাৎ, স্লোগান দিতে গিয়ে জিভ ফসকেছিল। সেই যুক্তিও বিবেচনা করেছে আদালত। বিচারপতি ভি শ্রীশানন্দের বেঞ্চ জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যাওয়া আইনের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার ছাড়া অন্য কিছু নয়।

The BJP flag.
The BJP flag.

ঘটনাটি ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বরের। কর্নাটকের মান্ড্য জেলায় বিজেপির কয়েকজন সমর্থক একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন। অভিযোগ, সেই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন। পাকিস্তানের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। তার প্রতিবাদেই ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনার প্রায় দু’বছর পর অভিযোগ দায়ের করেন কন্নাম্বাড়ি কুমার নামে এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি ছিল, বিক্ষোভের একটি ভিডিয়ো দেখার পর তিনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এর পরেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান তিনি। ২০২৪ সালে মান্ড্যর পশ্চিম থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩বি এবং ৫০৫(১)(বি) ধারায় মামলা দায়ের হয়। জাতীয় সংহতির পক্ষে ক্ষতিকর মন্তব্য এবং জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বা অশান্তি ছড়াতে পারে, এমন বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এই মামলায় অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী ডি এস রবি কুমার কর্নাটক হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, ইচ্ছাকৃত ভাবে পাকিস্তানের সমর্থনে কোনও স্লোগান দেওয়া হয়নি। বিক্ষোভের উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তান মুর্দাবাদ বলতে গিয়ে ভুল করে জিন্দাবাদ শব্দটি বেরিয়ে গিয়েছিল। সমাজে অশান্তি ছড়ানো বা কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।

তবে পুলিশের এই মামলা খারিজের আবেদনের বিরোধিতা করে রাজ্য সরকার। তাদের দাবি, অভিযোগকারীর জমা দেওয়া ভিডিয়োতে স্পষ্ট ভাবে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান শোনা যাচ্ছে। ইচ্ছাকৃত ভাবেই ওই স্লোগান দেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও জানানো হয়।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ২৮ অক্টোবর রায় দেন বিচারপতি ভি শ্রীশানন্দ। আদালত জানায়, বিজেপির মতো রাজনৈতিক দলের আয়োজিত বিক্ষোভে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দেওয়া হয়েছে, এমনটা বিশ্বাস করা কঠিন। আবেদনকারীর ভুল করে ওই শব্দ ব্যবহারের যুক্তি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

পাশাপাশি অভিযোগ দায়ের করতে প্রায় দু’বছর দেরি হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরে আদালত। তদন্তকারীরা বিক্ষোভে কারা অংশ নিয়েছিলেন, সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য জোগাড় করতে পারেননি। এমনকি ওই স্লোগানের কারণে সমাজে কোনও অশান্তি বা তার প্রভাব পড়েছিল কি না, তারও প্রমাণ মেলেনি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৫ ধারায় মামলা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি নেওয়া হয়নি। ১৫৩বি ধারার অপরাধের উপাদানও এই ঘটনায় পাওয়া যায়নি বলে জানায় আদালত। সব দিক বিবেচনা করে ডি এস রবি কুমারের বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি প্রক্রিয়া খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট। আদালতের মতে, এই মামলা চালিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More