BJP MLA on Muslims in Garba Events: ‘মুসলিমরা বোন-মেয়েদের নিয়ে আসুক’, গরবা নিয়ে বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যে বিতর্ক

বিজেপির হুজুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রামেশ্বর শর্মার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও এআইএমআইএম তাঁর সমালোচনা করেছে। একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে শর্মা বলেন, মুসলিম তরুণরা গরবায় এলে শুধু একা না এসে তাঁদের বোন ও মেয়েদেরও সঙ্গে আনুন।

Published on: Sep 22, 2026, 14:13:00 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

BJP MLA on Muslims in Garba Events: মধ্যপ্রদেশের ভোপালে নবরাত্রির আগে গরবা অনুষ্ঠানে মুসলিমদের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপির হুজুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রামেশ্বর শর্মার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও এআইএমআইএম তাঁর সমালোচনা করেছে। একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে শর্মা বলেন, মুসলিম তরুণরা গরবায় এলে শুধু একা না এসে তাঁদের বোন ও মেয়েদেরও সঙ্গে আনুন। এরপর তিনি বলেন, “আমাদের ছেলেরাও প্রস্তুত।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

মধ্যপ্রদেশের ভোপালে নবরাত্রির আগে গরবা অনুষ্ঠানে মুসলিমদের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের ভোপালে নবরাত্রির আগে গরবা অনুষ্ঠানে মুসলিমদের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

শর্মা তাঁর বক্তব্যে মুসলিমদের গরবায় যোগ দেওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মুসলিমরা চাইলে গরবায় আসতে পারেন, কিন্তু শুধু অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বদলে স্থায়ীভাবে এলে তাঁর আপত্তি নেই। এ ক্ষেত্রে কপালে তিলক পরা এবং ‘জয় শ্রী রাম’ বলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে গরবা অনুষ্ঠানে ‘লাভ জিহাদ’-এর চেষ্টা হলে তরুণেরা তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাবে বলেও মন্তব্য করেন।

শর্মার বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। ভোপাল সেন্ট্রালের কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ তাঁর মন্তব্যের ভাষা নিয়ে আপত্তি তোলেন। মাসুদের বক্তব্য, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এই ধরনের মন্তব্য পরিবেশ উত্তপ্ত করতে পারে। তিনি শর্মাকে নিজের বক্তব্যের ধরন বদলানোর পরামর্শও দেন।

এআইএমআইএমের মধ্যপ্রদেশ সভাপতি মোহসিন আলি খানও শর্মার মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক নেতাদের সংবিধানের নীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। মোহসিন আলি খান বিজেপির মুসলিম নেতাদেরও প্রশ্ন করেন, শর্মার কথার সঙ্গে তাঁরা একমত কি না।

এই বিতর্ক অবশ্য শুধু ভোপালেই সীমাবদ্ধ নয়। নবরাত্রি ও গরবা অনুষ্ঠানকে ঘিরে মধ্যপ্রদেশ-সহ দেশের কয়েকটি জায়গায় মুসলিমদের অংশগ্রহণ নিয়ে এর আগেও বিতর্ক হয়েছে। কিছু আয়োজক ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠন অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে পরিচয়পত্র পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, এর সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, কোনও ব্যক্তির ধর্মের ভিত্তিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত।

এবারের বিতর্কের সময়ে আরও একটি রাজনৈতিক বিষয় সামনে এসেছে। মধ্যপ্রদেশের আরেক বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের একটি পৃথক মন্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। ফলে নবরাত্রির আগে রাজ্যে বিজেপি নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে কংগ্রেসের সঙ্গে পাল্টা আক্রমণ আরও জোরালো হয়েছে।

গরবা মূলত নবরাত্রির সঙ্গে যুক্ত একটি জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ফলে এই উৎসবের মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু রাজনীতিতে নয়, সামাজিক পরিসরেও পড়ে। রামেশ্বর শর্মার মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এখন নজর থাকবে বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসে কি না এবং গরবা অনুষ্ঠানগুলিতে প্রবেশ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা আয়োজকেরা কোনও নতুন নির্দেশিকা দেয় কি না। বর্তমানে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে ধর্মীয় অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং উৎসবের পরিবেশ—এই তিনটি বিষয়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More