Gurgaon Waterlogging: '২০৪৭ সালের মধ্যে...,' একটানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন গুরুগ্রাম, বিস্ফোরক বিজেপি সাংসদ

Gurgaon Waterlogging: বিজেপি সাংসদের কথায়, ‘নির্মাণকাজের ফলে পুরনো ড্রেনগুলোর পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়েছে; তাই এখন সেগুলোকে আর চওড়া করা যাচ্ছে না।’

Published on: Aug 26, 2026, 21:14:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Gurgaon Waterlogging: অধিকাংশ রাস্তা যেন পুকুর! একটানা ভারী বৃষ্টিতে ভাসছে হরিয়ানার গুরুগ্রাম। জলযন্ত্রণায় অফিস-স্কুলে যাওয়া মাথায় উঠেছে সাধারণ মানুষের। তুলনায় কম জল জমা রাস্তায় বিরাট ট্র্যাফিক জ্যাম। এমনকী বহু এলাকায় বাড়িতেও জল ঢুকেছে। সোমবারই ‘মিলেনিয়াম সিটি’ এলাকায় জলমগ্ন রাস্তায় শিশু পড়ুয়াদের নিয়ে বেশ কয়েকটি স্কুল বাস আটকে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। এমন পরিস্থিতিতে একটি সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-এর সাক্ষাৎকারে অবাক করা মন্তব্য করলেন বিজেপি সাংসদ ধরমবীর সিং।

একটানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন গুরুগ্রাম, বিস্ফোরক বিজেপি সাংসদ (সৌজন্যে টুইটার)
একটানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন গুরুগ্রাম, বিস্ফোরক বিজেপি সাংসদ (সৌজন্যে টুইটার)

বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, ২০৪৭ সালের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।’ পাশাপাশি, ‘মিলেনিয়াম সিটি’-র ভেঙে পড়া পরিকাঠামোর জন্য ধরমবীর সরকার ছাড়া আর সব কিছুকে দায়ী করেছেন ভিওয়ানি-মহেন্দ্রগড়ের সাংসদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যানজট ও জলমগ্নতা রোধে কর্তৃপক্ষ 'কঠোর পরিশ্রম করছে, তবে সব কিছু তো আর করা সম্ভব নয়।' ধরমবীর সিংয়ের মতে, সমস্যার মূলে ৬০ বছর আগের ভুল পরিকল্পনা। সেই সময়ের পরিকল্পকরা আন্দাজ করতে পারেননি যে শহরটি এত দ্রুতগতিতে বেড়ে উঠবে। 'এনডিটিভি'-কে তিনি বলেন, 'আমরা জানতাম না যে গুরুগ্রামে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ থাকবেন, বাড়িঘর হবে এবং যানবাহন চলবে।'

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরের বেপরোয়া নির্মাণের কারণে পুরনো নর্দমাগুলো সংকুচিত হয়ে গিয়েছে। বিজেপি সাংসদের কথায়, ‘নির্মাণকাজের ফলে পুরনো ড্রেনগুলোর পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়েছে; তাই এখন সেগুলোকে আর চওড়া করা যাচ্ছে না।’ পাশাপাশি, আবহাওয়ার পরিবর্তনকে দায়ী করে তিনি বলেন, 'আজকাল হঠাৎ করেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। জল জমলে তা নামতে তো কিছুটা সময় লাগবেই।' চলতি বর্ষাতেও হাঁটু জলে ডুবেছে শহরের রাস্তাঘাট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকেছে স্কুল বাস। এমন চরম অব্যবস্থার মধ্যেও সরকারের গাফিলতি মানতে নারাজ সাংসদ। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কবে মিটবে-এই প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, ২০৪৭ সালের নতুন মাস্টারপ্ল্যান গুরগ্রামের ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হবে। সেই পরিকল্পনায় নিকাশি ব্যবস্থা-সহ শহরের পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলির সমাধান করা হবে। আপাতত যে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তার তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, গুরুগ্রামের বিজেপি সাংসদ রাও ইন্দ্রজিৎ সিং এই অচলাবস্থার জন্য কংগ্রেস জমানার ভুল নীতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, 'গুরুগ্রামে বছরের পর বছর ধরে জল জমে থাকছে। এর প্রধান কারণ হলো, পাহাড় থেকে যমুনা নদীতে জল বয়ে নিয়ে যাওয়া পুরোনো, ঐতিহ্যবাহী নর্দমাগুলোর ওপর দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। কংগ্রেস আমলে হওয়া এই উন্নয়নের ফল আমরা আজও ভোগ করছি।' তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রশাসন যে ব্যবস্থা নিচ্ছে তা স্রেফ সাময়িক 'ব্যান্ড-এইড' সমাধানের মতো। মেট্রোর মতো মাটির নিচ দিয়ে দীর্ঘ টানেল তৈরি করে জল নিষ্কাশন করাই গুরুগ্রামকে জলযন্ত্রণা থেকে বাঁচানোর একমাত্র স্থায়ী পথ। সরকার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কাজ করছে বলেও জানান তিনি।