BJP MP on Hindu Population: ‘তাড়াতাড়ি বিয়ে, ৫ সন্তান’, হিন্দু যুবকদের পরামর্শ BJP সাংসদের, জনসংখ্যা নিয়ে মন্তব্যে বিতর্ক
বলেন, আগের প্রজন্মে বিয়ের বয়স অনেক কম ছিল। বহু পরিবারে চার, পাঁচ, ছয় এমনকি সাতটি সন্তানও দেখা যেত। তাঁর অভিযোগ, এখন তরুণ প্রজন্ম অনেক বেশি বয়সে বিয়ে করছে এবং পরিবারে সন্তানের সংখ্যাও কমে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, এই কারণেই ‘সনাতনীদের’ জন্মের হার ১.৯ হয়ে গিয়েছে।
হিন্দু যুবকদের তাড়াতাড়ি বিয়ে করে পাঁচটি করে সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিতর্কে বিজেপির খারগোন-বরওয়ানি সাংসদ গজেন্দ্র সিংহ পটেল। শুক্রবার রাতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে গিয়ে জনসংখ্যার ভারসাম্যের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, হিন্দুদের মধ্যে সন্তান জন্মের হার কমছে। অন্য দিকে, তিনি যে ‘অন্য সম্প্রদায়ের’ কথা বলেছেন, তাদের জন্মের হার তুলনায় বেশি। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় হিন্দু তরুণদের বেশি সন্তান নেওয়া উচিত বলেই মত তাঁর।

অনুষ্ঠানে পটেল বলেন, আগের প্রজন্মে বিয়ের বয়স অনেক কম ছিল। বহু পরিবারে চার, পাঁচ, ছয় এমনকি সাতটি সন্তানও দেখা যেত। তাঁর অভিযোগ, এখন তরুণ প্রজন্ম অনেক বেশি বয়সে বিয়ে করছে এবং পরিবারে সন্তানের সংখ্যাও কমে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, এই কারণেই ‘সনাতনীদের’ জন্মের হার ১.৯ হয়ে গিয়েছে। তাই তরুণদের দ্রুত বিয়ে করে পাঁচটি সন্তান নেওয়া উচিত।
এখানেই থামেননি বিজেপি সাংসদ। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের জনসংখ্যার চিত্র বদলেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৭ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের অনেক পার্থক্য রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, এখন চারটি সন্তানের মধ্যে এক জন হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং তিন জন অন্য সম্প্রদায়ের। ২০১১ সালের জনগণনার প্রসঙ্গ তুলে একটি সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার অংশ কমেছে এবং অন্যটির বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও এই দাবির পক্ষে অনুষ্ঠানে তিনি বিস্তারিত পরিসংখ্যান দেননি।
পটেলের এই বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ধর্মের ভিত্তিতে বেশি সন্তান নেওয়ার আহ্বানকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। পাশাপাশি তাঁর দেওয়া জন্মহারের সংখ্যাও আলোচনায় এসেছে। সরকারি ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের ২০১৯-২১ সালের হিসাবে, ভারতে মোট সন্তান জন্মের হার ছিল ২.০। হিন্দু মহিলাদের ক্ষেত্রে তা ১.৯ এবং মুসলিম মহিলাদের ক্ষেত্রে ২.৪। অর্থাৎ পটেল যে ২.৯ সংখ্যার কথা বলেছেন, তা সরকারি সর্বশেষ ওই সমীক্ষার হিসাবের সঙ্গে মেলে না।
জনসংখ্যা নিয়ে বক্তব্যের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জীবনযাপন নিয়েও মন্তব্য করেছেন পটেল। তাঁর অভিযোগ, মাদক, বাড়তি আড়ম্বর এবং যৌতুকের প্রবণতা সমাজের জন্য সমস্যা তৈরি করছে। নিজের কথিত ‘৩ডি’ প্রচারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ডি জে, ড্রাগস এবং ডাউরি বা যৌতুকের বিরুদ্ধে তরুণদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান বিজেপি সাংসদ।
এ ছাড়া সমাজকে শক্তিশালী করতে জিম এবং কুস্তির আখড়া বাড়ানোর পক্ষেও সওয়াল করেন পটেল। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি শারীরিক শক্তির প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে অস্ত্র রাখার প্রয়োজনের কথাও বলেন বিজেপি নেতা।
তবে তাঁর সবচেয়ে বেশি আলোচিত মন্তব্য হয়ে উঠেছে পাঁচ সন্তান নেওয়ার পরামর্শই। কারণ, বিজেপি সাংসদের এই আহ্বান কোনও সরকারি নীতি নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসাবেই সামনে এসেছে। ফলে জনসংখ্যা, ধর্মীয় অনুপাত এবং পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


