BJP MP on Kargil & Sir Creek: কার্গিল, স্যার ক্রিক পাকিস্তানকে দিয়ে দিতে চলেছিল ভারত, বিস্ফোরক দাবি বিজেপি সাংসদের
২০০৬ সালে দু’দেশের সরকারি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, মুম্বই বিস্ফোরণের পরও শান্তি প্রক্রিয়া চালু রাখা হবে এবং সন্ত্রাস দমনে ভারত-পাকিস্তান একটি যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে কাশ্মীর-সহ দুই দেশের সব বিষয় নিয়ে আলোচনাও চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
২০০৬ সালের মুম্বই লোকাল ট্রেন বিস্ফোরণ থেকে ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলা—ভারতের পাকিস্তান নীতি নিয়ে ফের পুরনো বিতর্ক সামনে আনলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। বুধবার এক্স-এ একাধিক পোস্ট করে তিনি তৎকালীন ইউপিএ সরকারের কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান সরকারের প্রতিক্রিয়ার তুলনা টানেন। বিশেষ করে ২০০৬ সালের হাভানা বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, সন্ত্রাসের জবাবে সামরিক পদক্ষেপের বদলে তৎকালীন সরকার আলোচনার পথ বেছে নিয়েছিল।

জুলাই ২০০৬-এ মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেনে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর কিছুদিন পর, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৬-এ কিউবার হাভানায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশারফ বৈঠকে বসেন। দু’দেশের সরকারি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, মুম্বই বিস্ফোরণের পরও শান্তি প্রক্রিয়া চালু রাখা হবে এবং সন্ত্রাস দমনে ভারত-পাকিস্তান একটি যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে কাশ্মীর-সহ দুই দেশের সব বিষয় নিয়ে আলোচনাও চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
এই হাভানা বৈঠককেই নিশিকান্ত দুবে বুধবারের রাজনৈতিক আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্ব আমেরিকার কূটনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছিল। তিনি আরও দাবি করেছেন, কার্গিল, পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং স্যার ক্রিক নিয়ে পাকিস্তানকে ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছিল। এই দাবির সমর্থনে তিনি উইকিলিকসের নথির কথাও উল্লেখ করেছেন।
তবে সরকারি নথিতে যে তথ্য পাওয়া যায়, তার সঙ্গে ‘ভারত কার্গিল বা পাক অধিকৃত কাশ্মীর পাকিস্তানকে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল’—এই দাবির সরাসরি মিল পাওয়া যায় না। হাভানা যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীর সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। একইসঙ্গে সিয়াচেন ও স্যার ক্রিক নিয়েও পরবর্তী বৈঠকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। স্যার ক্রিকের ক্ষেত্রে যৌথ সমীক্ষার জন্য স্থানাঙ্ক নির্ধারণের কথাও বলা হয়, তবে তা কোনও চূড়ান্ত ভূখণ্ড হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি।
নিশিকান্ত দুবে আরও দাবি করেছেন, হাভানা বৈঠকের পর আমেরিকার সঙ্গে ভারতের আলোচনাতেও পাকিস্তান-সংক্রান্ত কৌশল নিয়ে তথ্য ভাগ করে নেওয়া হয়েছিল। এই প্রসঙ্গ তুলে তিনি কংগ্রেসের তৎকালীন নীতির সমালোচনা করেছেন এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কাছে ২০০৬ ও ২০২৫ সালের প্রতিক্রিয়ার পার্থক্য ব্যাখ্যা করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত এলাকায় সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়। নিশিকান্ত দুবে এই পদক্ষেপকেই বর্তমান সরকারের নীতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, ২০০৬ সালে আলোচনার উপর জোর দেওয়া হয়েছিল, আর ২০২৫ সালে সন্ত্রাসের জবাব দেওয়া হয়েছে সামরিক শক্তি দিয়ে।
এই বিতর্কে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—২০০৬ ও ২০২৫ সালের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এক ছিল না, দুই সরকারের আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত পরিবেশও আলাদা ছিল। হাভানা বৈঠকের সরকারি নথিতে মুম্বই বিস্ফোরণের পর সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা তৈরির সিদ্ধান্ত যেমন ছিল, তেমনই শান্তি প্রক্রিয়াও বজায় রাখার কথা বলা হয়েছিল।
ফলে নিশিকান্ত দুবের মন্তব্যকে মূলত বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তাঁর আক্রমণের লক্ষ্য কংগ্রেসের অতীত পাকিস্তান নীতি, আর তুলনার কেন্দ্রবিন্দু ২০০৬-এর মুম্বই বিস্ফোরণ ও হাভানা কূটনীতি বনাম ২০২৫-এর পহেলগাঁও হামলার পর ‘অপারেশন সিঁদুর’। পুরনো সিদ্ধান্ত ও বর্তমান নীতির এই তুলনা এখন জাতীয় নিরাপত্তা ও পাকিস্তান নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


