‘হ্যাঁ, সরকার বদল চাই’, প্রশান্ত ভূষণের মন্তব্যে নতুন করে আক্রমণে বিজেপি

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, তাঁরা সরকার বদল চান। তাঁর এই বক্তব্যকে হাতিয়ার করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও জোরদার করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে আপত্তি আসলে বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আড়াল করার কৌশল।

Published on: Oct 16, 2026, 12:49:11 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন কি এ বার সরাসরি সরকার বদলের লড়াইয়ে পরিণত হচ্ছে? প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, তাঁরা সরকার বদল চান। তাঁর এই বক্তব্যকে হাতিয়ার করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও জোরদার করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে আপত্তি আসলে বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আড়াল করার কৌশল। অন্য দিকে, প্রতিবাদীদের দাবি, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইকে সরকার বদলের ষড়যন্ত্র বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, তাঁরা সরকার বদল চান। (Naveen Sharma)
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, তাঁরা সরকার বদল চান। (Naveen Sharma)

কী বললেন প্রশান্ত ভূষণ?

বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক বৈঠকে প্রশান্ত ভূষণের পাশে ছিলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) নেত্রী নেহা বোরা এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সেখানে প্রশান্ত বলেন, “হ্যাঁ, আমরা সরকার বদল চাই।” তাঁর বক্তব্য, সরকারের অভিযোগ বিরোধীরা সরকার বদল করতে চায়। কিন্তু তাঁদের লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। তবে আন্দোলনকারীদের উপর এই ধরনের দমন-পীড়ন চলতে থাকলে সরকার বদল হবেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রশান্তের যুক্তি, গণতন্ত্রে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছড়ানো কোনও অপরাধ নয়। বিজেপিও অতীতে একাধিক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার বদলের দাবি তুলেছে। তা হলে বিরোধীরা একই দাবি জানালে তাকে ষড়যন্ত্র বলা হবে কেন? তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে এবং প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। প্রশাসন যত বেশি আন্দোলন দমনের চেষ্টা করবে, রাস্তায় মানুষের জমায়েত তত বাড়বে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিজেপির নিশানায় রাহুল গান্ধী

প্রশান্তের মন্তব্যের পরেই কংগ্রেস এবং আন্দোলনকারীদের আক্রমণ করেছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র সিআর কেশবনের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী এবং তাঁর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের আসল উদ্দেশ্য ভারতীয় গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করা। তাঁর দাবি, এসআইআর নিয়ে প্রতিবাদ আসলে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার আড়াল মাত্র।

প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যের পাশাপাশি নেহা বোরার একটি ভিডিয়োকেও হাতিয়ার করেছে বিজেপি। ওই ভিডিয়োয় বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকে অনুপ্রেরণা হিসেবে তুলে ধরতে শোনা যায় তাঁকে। বিজেপির অভিযোগ, ভারতে একই ধরনের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার বদলের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন প্রতিবাদীরা। তবে এটি বিজেপির অভিযোগ, এর পিছনে কোনও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ প্রকাশ্যে এসেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।

রাজনাথের কড়া বার্তা

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও বিরোধীদের আক্রমণ করেছেন। শুক্রবার লখনউয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে দেশের যুবসমাজকে অস্থিরতার রাজনীতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো ঘটনা ঘটিয়ে সরকার বদলের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাহুল গান্ধী এবং তাঁর সহযোগীদের উদ্দেশে রাজনাথের বার্তা, গণতন্ত্রের অর্থ অরাজকতা ছড়ানো বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা নয়।

আন্দোলনের কেন্দ্রে এখনও এসআইআর

এই রাজনৈতিক সংঘাতের সূত্রপাত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে সিজেপি, বিরোধী দল এবং একাধিক ছাত্র সংগঠন। অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ভুল করে কোনও ভোটারের নাম বাদ পড়লে পুনরায় নাম তোলার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে কমিশন।

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা নিয়ে শুরু হওয়া প্রতিবাদ এখন গণতন্ত্র, সরকার বদল এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশান্ত ভূষণের মন্তব্য আন্দোলনের রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বাড়িয়েছে। তবে সরকার বদলের দাবি তোলা এবং অসাংবিধানিক পথে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা এক বিষয় নয়। বর্তমান সংঘাতের কেন্দ্রে সেই পার্থক্য নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক লড়াই।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More