BJP slams Sonia on Bangladeshi Hindus: 'যাঁরা গাজা নিয়ে নিবন্ধ লেখেন, তাঁরা ঢাকার হিন্দুদের দুর্দশা নিয়ে মুখ খোলেন না'
শনিবার বিজেপি কংগ্রেস নেত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়ে অভিযোগ করেছে, তিনি ভারতের বিদেশনীতিকে ‘ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি’-র সঙ্গে মিশিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, সোনিয়া গান্ধী দাবি করেছেন, গাজা সংঘাতের বিষয়ে ভারতের বর্তমান অবস্থান দেশের নৈতিকতা ও কৌশলগত স্বার্থ—উভয়েরই পরিপন্থী।
গাজা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতার সমালোচনা করে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীর লেখা নিবন্ধকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। শনিবার বিজেপি কংগ্রেস নেত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়ে অভিযোগ করেছে, তিনি ভারতের বিদেশনীতিকে ‘ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি’-র সঙ্গে মিশিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, সোনিয়া গান্ধী দাবি করেছেন, গাজা সংঘাতের বিষয়ে ভারতের বর্তমান অবস্থান দেশের নৈতিকতা ও কৌশলগত স্বার্থ—উভয়েরই পরিপন্থী।

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের বিদেশনীতি এখন আর কোনও একপাক্ষিক অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত একইসঙ্গে ইজরায়েল ও ফিলিস্তিন—উভয় দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মানও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে প্রদান করা হয়েছে, যা ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানেরই প্রমাণ।
পুনাওয়ালার অভিযোগ, কংগ্রেস গাজা নিয়ে সরব হলেও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা কিংবা ইজরায়েলে হামাসের সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে কার্যত নীরব থেকেছে। তাঁর বক্তব্য, 'যাঁরা গাজা নিয়ে নিবন্ধ লেখেন, রাফাহ নিয়ে টুইট করেন, তাঁরা ঢাকার হিন্দুদের দুর্দশা নিয়ে মুখ খোলেন না। এতে স্পষ্ট হয় যে, তাঁদের কাছে বিদেশনীতি নয়, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিই আসল।'
তিনি আরও বলেন, অতীতে ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে কংগ্রেস সরকার দীর্ঘদিন ইজরায়েলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখায়নি। বর্তমানে ভারত এমন এক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন, আমেরিকা-ইরান কিংবা ইজরায়েল-ফিলিস্তিন—সব পক্ষের সঙ্গেই সংলাপ চালিয়ে যেতে পারে। পুনাওয়ালার ভাষায়, এটি 'নন-অ্যালাইনমেন্ট' নয়, বরং ‘মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট’ বা সব পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি।
অন্যদিকে, সোনিয়া গান্ধী 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এ প্রকাশিত একটি মতামতমূলক নিবন্ধে অভিযোগ করেন, গাজা ইস্যুতে ভারতের নীরবতা নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। তিনি লেখেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইজরায়েলে হামলা ছিল নিন্দনীয় এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তবে তার পর ইজরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে, তা নির্মমতা ও বর্বরতার পরিচয় বহন করে।
সোনিয়া গান্ধী আরও দাবি করেন, গাজা প্রসঙ্গে ভারত কার্যত "নীরব দর্শক"-এর ভূমিকা পালন করছে, যা দেশের ঐতিহ্যগত পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর অভিযোগ, নৈতিক অবস্থান এবং কৌশলগত স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ভারত এমন একটি অবস্থান নিয়েছে, যার ফলস্বরূপ কেবল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত সম্পর্কই জোরদার হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে নেতানিয়াহু বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও, সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপির এই বাকযুদ্ধ ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে কংগ্রেস সরকারের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি দাবি করছে, বর্তমান সরকার এমন একটি কূটনৈতিক নীতি অনুসরণ করছে, যা ভারতের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও কৌশলগত স্বার্থকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


