Mallikarjun Kharge BJP: 'শালীনতার সীমা অতিক্রম...,' প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে বিতর্কে খাড়গে, তোপ বিজেপির

Mallikarjun Kharge BJP: কংগ্রেস সভাপতির এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানে হইচই শুরু হয়। পরে বিজেপি নেতারা মল্লিকার্জুন খাড়গের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Published on: Oct 25, 2026, 21:00:46 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Mallikarjun Kharge BJP: বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিং-এর ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পাটনায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আকস্মিক তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়লেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সভাস্থলে উপস্থিত এক দর্শকের মন্তব্যে চরম মেজাজ হারিয়ে মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন কংগ্রেসের শীর্ষনেতা। আর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জাতীয় রাজনীতি। বিজেপির অভিযোগ, এই মন্তব্যের মাধ্যমে শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই নয়, তাঁর প্রয়াত বাবাকেও অসম্মান করেছেন কংগ্রেস সভাপতি।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Hindustan Times)
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Hindustan Times)

এদিন অনুষ্ঠান চলাকালীন দর্শকাসনে থাকা এক ব্যক্তি আচমকা চিৎকার করে উঠে বলেন, ‘মোদী কোত্থাও যাবেন না।’ তাতেই খানিকটা রেগে উঠে আপত্তিকর মন্তব্য করে বসেন খাড়গে। মঞ্চ থেকে মাইক্রোফোনে পাল্টা চিৎকার করে তিনি বলেন, ‘মোদীর বাপও চলে যাবে।’ তিনবার একই কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে। যে ব্যক্তির কথার প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য, সেই সন্তোষ কুমারকে সভাস্থল থেকে বের করে মারধরের অভিযোগও উঠেছে কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে তাঁকে সভাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এদিকে, কংগ্রেস সভাপতির এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানে হইচই শুরু হয়। পরে বিজেপি নেতারা মল্লিকার্জুন খাড়গের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তবে ঘটনার পর সন্তোষ কুমার নামে ওই ব্যক্তি নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সমর্থনে কথা বলছিলেন না। তাঁর দাবি, তিনি আসলে বলছিলেন, ‘বিদ্রোহ না হলে মোদী যাবেন না।’ অর্থাৎ, সরকার পরিবর্তনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক আন্দোলন বা বিদ্রোহের প্রয়োজন হবে এমন কথাই তিনি বলতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন সন্তোষ। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের একটি অংশই সভায় উপস্থিত লোকজনের কানে পৌঁছয় এবং সেখান থেকেই ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। তাঁকে হেনস্থা করে সভা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও তাঁর বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই সময় খাড়গে নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে জেলে পাঠানোর প্রসঙ্গও তুলছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলতি মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও বিতর্কের আবহেই এই মন্তব্য সামনে আসে। সেই সময় সন্তোষ কুমারের কথার সঙ্গে কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্যের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। রাজনৈতিক মঞ্চে বিরোধীদের আক্রমণ এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু কোনও বক্তব্যের আংশিক অংশকে কেন্দ্র করে সভায় এমন উত্তেজনা এবং মারধরের অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিজেপির কড়া প্রতিক্রিয়া

মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই পাল্টা তোপ দেগেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘ভদ্রতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে ফেলেছেন খাড়গে। তবে কংগ্রেস এর আগেও মোদীজির পরিবারের বিরুদ্ধে অপভাষা প্রয়োগ করেছে। তাঁর মাকে অপমান করেছে, তাঁর দারিদ্রকে কটাক্ষ করা হয়েছে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস প্রত্যেক দিনই শালীনতার সীমা অতিক্রম করছে।’ বিজেপির মুখপাত্র তুহিন এ সিনহাও খাড়গের মন্তব্যকে ‘অরুচিকর, অপরিণত ও অসভ্য’ বলে আক্রমণ করেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বলেন, দেশের উন্নয়ন, নীতি এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করার মতো বিষয় না থাকলেই বিরোধীরা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নেয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংও কংগ্রেস সভাপতিকে নিশানা করে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও বহু বছর ক্ষমতায় থাকবেন।