Asim Munir and Mossad:পাক সেনাপ্রধান মুনিরকে গুপ্তহত্যার ছক ইজরায়েলের ‘মোসাদ’র! কোথায়? বিস্ফোরক দাবি সাংবাদিকের
ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক এসকোবারের বিস্ফোরক দাবি ইজরায়েলের মোসাদ ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে নিয়ে।
পাকিস্তানের ক্ষমতার অলিন্দে থাকা পাক সেনার হর্তাকর্তা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে খুনের গুপ্ত ছক ছিল জেনেভায়, বলে দাবি করেছেন এক ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক তথা ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবার। এই গুপ্তত্যার ছক ছিল ইজরায়েলের গুপ্তচর বাহিনী মোসাদের। এসকোবারের এমন দাবি যদিও খারিজ করে দিয়েছেন এক পাকিস্তানি সাংবাদিক।

উল্লেখ্য়, আমেরিকা বনাম ইরান যুদ্ধে, পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় কাজ করছে। ইরান, আমেরিকার মধ্যে প্রাথমিক চুক্তিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’। এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে এক আলোচনা, সদ্য জেনেভায় অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের তরফে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানি সেনাপ্রধান আসিম মুনির, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফরা। উপস্থিত ছিলেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্স, ইরানের মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সহ অনেকে।
এদিকে, মারিও নাউফাল আয়োজিত একটি পডকাস্টে ব্রাজিলের অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবার দাবি করেন, জেনেভাতেই পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের অংশ হিসাবে পৌঁছে যাওয়া আসিম মুনিরকে গোপনে খুনের ছক ছিল ইজরায়েলের। এসকোবার দাবি করছেন, মুনিরকে এই গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা জানতে পেরে যায় পাকিস্তান। শুধু মুনিরই নয়, পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের বাকিদেরও হত্যার ছক ছিল মোসাদের, বলে দাবি এসকোবারের। এই খবর পাকিস্তানি সেনা-গোয়েন্দাদের তরফে ইসলামাবাদ খবর পায়। ওই পডকাস্টে সাংবাদিক এসকোবার বলছেন,'পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি তথ্য পায় যে, নেতানিয়াহুর নির্দেশে মোসাদ আসিফ মুনির এবং সম্ভবত সুইজারল্যান্ডগামী পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের হত্যার একটি ষড়যন্ত্রের প্রস্তুতি নিচ্ছে।' এসকোবারের দাবি, পাকিস্তান এটি জানতে পেরেই কূটনৈতিক সূত্র মারফৎ পাল্টা ইজরায়েলকেও একটি বার্তা পাঠায়। এসকোবার ওই পডকাস্টে বলেন,' পাকিস্তানীরা প্রচলিত মধ্যস্থতাকারীদের..এক্ষেত্রে সম্ভবত ওমানের…মাধ্যমে ইজরায়েলের কাছে সরাসরি একটি বার্তা পাঠায়। বার্তাটি ছিল এমন- 'তোমরা যদি আমাদের প্রতিনিধিদলের গায়ে হাত দাও, তবে আমরা তোমাদের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলব…ব্যাস, এটুকুই।' আমি হুবহু কথাটিই উদ্ধৃত করছি, আমাদের সূত্র এভাবেই বিষয়টি জানিয়েছিল।'
উল্লেখ্য, কূটনৈতিক দিক থেকে দেখলে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী একমাত্র ইসলামি দেশ হল পাকিস্তান। আর এই পাকিস্তান ইরানের প্রতিবেশী। এদিকে, ইরানের সঙ্গে সদ্য সংঘাতে জড়িয়েছিল ইজরায়েল। এদিকে, পাকিস্তান যেমন পারমাণবিক শক্তিধর দেশ, তেমনই ইজরায়েলও পারমাণবিক শক্তিধর দেশ।
তবে পাকিস্তানি মিডিয়া ‘দ্য কারেন্ট’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্ষীয়ান পাক সাংবাদিক সৈয়দ তালাত হুসেন এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘বিকৃত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে এসকোবার কোনও প্রমাণও দিতে পারেননি। প্রসঙ্গত, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ নিরসনের জেনেভার আলোচনায় ইজরায়েল উপস্থিত ছিলনা। এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে এসকোবার দাবি করেছেন, এর জেরেই ইজরায়েল এই শান্তি প্রক্রিয়ায় নিজেদের ব্রাত্য মনে করে। জেনেভার বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল লেবাননে, ইজরায়েলের অপারেশন বন্ধ করা। বৈঠক থেকে সাফল্য পেতে সেই অভিযান ইজরায়লকে বন্ধ করার ডাক আসতে পারে, এমন আঁচ করেই ইজরায়েল এমন ছক করতে পারে বলে সন্দেহ।
ABOUT THE AUTHORSritama Mitraশ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More
E-Paper


