Brij Bhushan Singh Acquitted: 'সঠিক সময়ে..,' মহিলা কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্থা মামলায় বেকসুর খালাস, পাল্টা জবাব ব্রিজভূষণের

Brij Bhushan Singh Acquitted: আদালতের রায়ের পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ব্রিজভূষণ শরণ সিং। তিনি শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি নিজেই ফাঁসি নেবেন।

Published on: Aug 3, 2026, 22:47:18 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Brij Bhushan Singh Acquitted: স্বস্তি পেলেন 'রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (ডব্লিউএফআই)'-এর প্রাক্তন প্রধান তথা প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিং। সোমবার দিল্লির একটি আদালত ছয়জন মহিলা কুস্তিগীরের দায়ের করা যৌন হেনস্থার মামলায় ব্রিজভূষণ সিংকে বেকসুর খালাস করেছে।

স্বস্তি পেলেন 'রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (ডব্লিউএফআই)'-এর প্রাক্তন প্রধান ব্রিজভূষণ শরণ সিং (HT_PRINT)
স্বস্তি পেলেন 'রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (ডব্লিউএফআই)'-এর প্রাক্তন প্রধান ব্রিজভূষণ শরণ সিং (HT_PRINT)

২০২৩ সালে ভারতের প্রখ্যাত কুস্তিগীররা, যাঁদের মধ্যে ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক এবং বজরং পুনিয়ার মতো অলিম্পিক ও আন্তর্জাতিক পদকজয়ীরাও সামিল ছিলেন, যৌন হেনস্থার বিস্ফোরক অভিযোগ এনে ব্রিজভূষণ সিংয়ের গ্রেফতার ও ফেডারেশন থেকে তাঁকে অপসারণের দাবিতে দিল্লি যন্তর মন্তরে একটানা দীর্ঘ ধরনা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এই আন্দোলন দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলে দেয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামহলেরও নজর কাড়ে। অবশেষে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে সোমবার আদালত তাঁকে এবং ডব্লিউএফআই-এর প্রাক্তন সহকারী সচিব বিনোদ তোমরকে বেকসুর খালাস করার রায় দেয়। আদালতের রায়ের পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ব্রিজভূষণ শরণ সিং। তিনি শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি নিজেই ফাঁসি নেবেন।

সোমবার রায়ের পর ব্রিজভূষণ সিং বলেন, 'আমি প্রথম দিন থেকেই বলেছিলাম অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে আমি আত্মহত্যা করব। আজ আদালত আমাকে সম্মানের সঙ্গে খালাস দেওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমার এবং আমার সমর্থকদের জন্য এটি অত্যন্ত স্বস্তির খবর।' তিনি আরও বলেন, 'আমি বলেছিলাম এটা ষড়যন্ত্র, এবং আমার বিরুদ্ধে আনা কোনও অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে আমি আত্মহত্যা করব। আজ পর্যন্ত আমি সেই বক্তব্যে অটল থেকেছি। আজ, প্রায় তিন বছর পর, আদালত আমাকে ও বিনোদকে সম্মানের সঙ্গে খালাস দিয়েছে।' তিনি ব্রিজভূষণ সিং বলেছেন, তিনি সবসময় অধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং কনিষ্ঠ ক্রীড়াবিদদের অধিকারের লড়াইয়ে আদালতের রায়কে বড় জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, 'আমি সবসময় দুর্বলদের পক্ষে, যারা অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমার পূর্ণ বিশ্বাস ছিল যে আমি ন্যায়বিচার পাব, এবং আমি কখনও কোনও অপরাধবোধে ভুগিনি। আমরা সেইসব কনিষ্ঠ ক্রীড়াবিদদের জন্য লড়ছিলাম যারা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল, এবং আমি আনন্দিত যে আমরা সেই লড়াইয়ে জিতেছি।'

আন্দোলনকারী কুস্তিগীরদের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালে তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশ তৎকালীন ডব্লিউএফআই প্রধানের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছিল। দিল্লি পুলিশের দায়ের করা ওই চার্জশিটে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ৩৫৪ (শ্লীলতাহানি), ৩৫৪এ (যৌন হেনস্থা), ৩৫৪ডি (পিছু নেওয়া বা স্টকিং) এবং ৫০৬(১) (অপরাধমূলক ভয় দেখানো) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল। এই মামলায় সহকারী সচিব বিনোদ তোমরকেও সহ-অভিযুক্ত হিসেবে নাম দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ১৫ জুন দিল্লি পুলিশ প্রায় ১৫০০ পাতার একটি দীর্ঘ চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছিল। তিন বছর আগে কুস্তিগীরদের করা মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্রিজভূষণ বলেন, সঠিক সময় এলে তার জবাব দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, 'আমাকে ফাঁসি দেওয়ার দাবি উঠেছিল, জীবন্ত পুড়িয়ে মারার দাবি উঠেছিল। এখন, সেই মানুষগুলোর আত্মসমালোচনা করা উচিত। সঠিক সময় তাদের জবাব দেওয়া হবে।'

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই হাই-প্রোফাইল মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গত মাসে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ৩ আগস্টের দিনটি ধার্য করেছিল। আদালতের নির্দেশে সমস্ত বিচার প্রক্রিয়া এবং শুনানি ক্লোজড রুমে সম্পন্ন হয়। মামলার চূড়ান্ত শুনানিতে দু'পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে জোরদার সওয়াল-জবাব চলে। অভিযোগকারী মহিলা কুস্তিগীরদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী রেবেকা জন। অন্যদিকে, ব্রিজভূষণ শরণ সিং ও বিনোদ তোমরের পক্ষে অভিজ্ঞ আইনজীবী রাজীব মোহন, রেহান খান এবং রিশভ ভাটি আদালতে তাঁদের যুক্ত পেশ করেন। গত ৩০ জুন আসামিপক্ষের আইনজীবী তাঁদের যাবতীয় বক্তব্য আদালতে জমা দেন। উভয় পক্ষের বিস্তৃত যুক্তিতর্ক শোনার পর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (এসিজেএম) অশ্বিনী পানওয়ার রায় স্থগিত রেখেছিলেন এবং দু'পক্ষের আইনজীবীদের দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তদন্ত চলাকালীন আদালত বিশেষ তদন্তকারী দলের সদস্য এবং তদন্তকারী অফিসারের জবানবন্দিও রেকর্ড করেছিল। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের মহিলা কুস্তিগীরদের আনা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলছিল। কিন্তু সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও যুক্তিতর্ক পর্যালোচনার পর সোমবার রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট ব্রিজভূষণ শরণ সিং এবং বিনোদ তোমরকে সম্পূর্ণ বেকসুর খালাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।