Share Market: দালাল স্ট্রিটে বুল রান! একধাক্কায় ১১০০ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স, বিনিয়োগকারীদের আয় ৪ লক্ষ কোটি
Share Market: এদিন দুপুরের দিকে ভারতীয় শেয়ারবাজারে তেজি ভাব আসে। সেনসেক্স ও নিফটি ৫০— দুই বেঞ্চমার্ক সূচক বেড়েছে দেড় শতাংশের বেশি।
Share Market: মঙ্গলবারে 'মঙ্গলময়' শেয়ারবাজার। গত সপ্তাহে আরবিআই রেপো রেট বাড়ানোয় সেনসেক্সের সমূহ পতন হয়েছিল। এবার দেশজুড়ে উৎসবের মরসুমে উলটো চিত্র দেখা গেল। টানা পতনের পর অবশেষে লম্বা লাফ দিল সেনসেক্স। অন্যদিকে, নিফটি৫০-ও বিনিয়োগকারীদের মুখ উজ্জ্বল করল। দালাল স্ট্রিটের বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর ফলে ৪.১২ লক্ষ কোটি টাকা আয় করেছেন অসংখ্য দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।

এদিন দুপুরের দিকে ভারতীয় শেয়ারবাজারে তেজি ভাব আসে। সেনসেক্স ও নিফটি ৫০— দুই বেঞ্চমার্ক সূচক বেড়েছে দেড় শতাংশের বেশি। দিন শেষে ১১০৯ পয়েন্ট বেড়ে সেনসেক্স পৌঁছয় ৭৩,০৩৩.৭৮ পয়েন্টে। অর্থাৎ উত্থান হয় ১.৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে নিফটি থামে ২২,৭২১.৯৫ পয়েন্টে। শতাংশের হিসাবে উঠল ১.৬০ শতাংশ। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের সর্বমোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৪.১২ লক্ষ কোটি টাকা। দু’টি বেঞ্চমার্কে সম্মিলিত বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৯ লক্ষ কোটি টাকা। মনে করা হচ্ছে, দালাল স্ট্রিটের সাম্প্রতিক উত্থানের পিছনে রয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের এলটিসিজি (দীর্ঘমেয়াদী মূলধন লাভ করা) এবং সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) সম্পর্কিত মন্তব্য। যা আস্থা বাড়িয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
এছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে শেয়ার বিক্রি বেড়েছে। নিফটি ৫০ সূচকে সবচেয়ে বেশি লাভের মুখ দেখেছে এইচসিএল টেকনোলজিস, টিসিএস, শ্রীরাম ফাইন্যান্স, টেক মাহিন্দ্রা এবং ইনফোসিসের শেয়ার। অন্যদিকে, ইটার্নাল, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক, ম্যাক্স হেল্থকেয়ার, পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন এবং মারুতি সুজ়ুকির শেয়ারে পতন দেখা গিয়েছে। শক্তি উৎপাদনকারী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা গিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) সূচক প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে সবচেয়ে বেশি লাভের মুখ দেখেছে। এ ছাড়া ধাতু, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থা মতো খাতের প্রতিটি সূচকই প্রায় ১ শতাংশ করে বেড়েছে। বাজারের এই ইতিবাচক প্রবণতার মধ্যে নিফটি মিডক্যাপ সূচক ০.৭ শতাংশ এবং স্মলক্যাপ সূচক ০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
শেয়ার বাজারের উত্থানের নেপথ্যে একাধিক ফ্যাক্টরের কথা জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ (এলটিসিজি) কর এবং সিকিউরিটিজ লেনদেন কর (এসটিটি) নিয়ে অর্থমন্ত্রী মন্তব্য, আয়কর সংস্থাগুলির শেয়ারে তেজি ভাব এবং অন্যান্য কয়েকটি কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে বলে মত বাজার বিশেষজ্ঞদের। দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ (এলটিসিজি) কর তুলে দেওয়ার দাবির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এই ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকে। পাশাপাশি, সিকিউরিটিজ লেনদেন কর (এসটিটি) নিয়েও চলা বিতর্ক নিয়ে অবস্থান জানিয়েছেন নির্মলা সীতারমন। যদিও কর ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তনের ঘোষণা করেননি অর্থমন্ত্রী, তবুও তাঁর এই মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন পুঁজি বিশেষজ্ঞদের অনেকেই। এ ছাড়া মঙ্গলবার শুরুতে ডলারের সাপেক্ষে অনেকটা উত্থানের মুখ দেখেছিল টাকা। এক সময়ে ডলার নেমে যায় ৮০ পয়সারও বেশি। পরে অবশ্য কিছুটা নেমে এসেছে টাকার দাম। প্রতি ডলার দাঁড়িয়েছে ৯৫.৩ টাকায়। সোমবারের থেকে ৪৮ পয়সা কম। এ দিন অবশ্য ভারতীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন নিয়ে ফের আশঙ্কা উড়িয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তাঁর বার্তা, বাইরের নানা কারণে টাকার দাম নামছে। টাকার দরকে বেঁধে দেওয়া শীর্ষ ব্যাঙ্কের লক্ষ্য নয়। তারা চায় দোলাচল কমাতে। ফলে তা আটকাতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সব রকম ব্যবস্থা নিতে থাকবে।
E-Paper

