'ভারতবন্ধু' হতে মরিয়া! PM কার্নির সফরের আগেই ২৬/১১-র মাস্টারমাইন্ডের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ কানাডার

পাকিস্তানি বংশোদদ্ভূৎত কানাডার নাগরিক তাহাউর রানা বর্তমানে ভারতে রয়েছে। ২০০৮-এর ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে যে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা যে হামলা চালিয়েছিল তাদের অন্যতম মদতদাতা ছিল রানা।

Published on: Feb 24, 2026 1:16 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই ভারতে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। জানা যাচ্ছে, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি পা রাখবেন দিল্লিতে। আর তার আগে ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী তাহাউর রানার নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কানাডা সরকার। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমলে ভারত ও কানাডার মধ্যে কূটনৈতির সংঘাত প্রায় চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। তারপরেই নয়া কানাডা সরকারের এই পদক্ষেপকে ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২৬/১১-র মাস্টারমাইন্ডের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ কানাডার
২৬/১১-র মাস্টারমাইন্ডের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ কানাডার

পাকিস্তানি বংশোদদ্ভূৎত কানাডার নাগরিক তাহাউর রানা বর্তমানে ভারতে রয়েছে। ২০০৮-এর ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে যে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা যে হামলা চালিয়েছিল তাদের অন্যতম মদতদাতা ছিল রানা। এই জঙ্গি হামলার নিহত হয়েছিলেন ১৬৬ জন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ১৮ জন নিরাপত্তা কর্মী। আহত হয়েছিলেন প্রায় ৩০০ জন। মুম্বই তাজ, ছত্রপতি শিবাজি রেল স্টেশন, লিওপোল্ড ক্যাফে, নরিম্যান হাউস, ওবেরয় গ্র্যান্ডে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিদের দল। তছনছ হয়ে গিয়েছিল বাণিজ্য নগরী। এই হামলার অন্যতম ষড়যন্ত্রী ছিল মার্কিন নাগরিক ডেভিল কোলম্যান হেডলি। রানা তাঁর ঘনিষ্ঠ। প্রায় দেড় দশক ধরে চেষ্টা চালিয়ে গত বছরই ভারত রানাকে হাতে পেয়েছে। কানাডিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী রানার কানাডার নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সে দেশের সরকার। ইমিগ্রেশন, রিফিউজি এবং সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে রানাকে জানিয়েছে যে, তারা তার কানাডিয়ান নাগরিকত্ব বাতিল করতে চায়। তবে, এই পদক্ষেপটি সরাসরি সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং নাগরিকত্বের আবেদনের সময় ভুয়ো তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

১৯৯৭ সালে রানা তার ডাক্তার স্ত্রীকে নিয়ে পাকিস্তান ছেড়ে কানাডায় চলে যায়। এবং ২০০১ সালে সে দেশের নাগরিকত্ব পায়। আইআরসিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রানা দাবি করেছে, ২০০০ সালে কানাডার নাগরিকত্ব আবেদনের আগে চার বছর সে অটোয়া ও টরন্টোতে ছিল। এরমধ্যে মাত্র ছয় দিন বাইরে ছিল। কিন্তু রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)-এর তদন্তে দেখা যায়, ওই সময়ে রানা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ছিল। যেখানে রানা বেশ কয়েকটি সম্পত্তির মালিক হয় এবং অভিবাসন কনসালটেন্সির ব্যবসা-সহ একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করেছিল। এই মামলাটি বর্তমানে কানাডার ফেডারেল কোর্টে বিচারাধীন। ইমিগ্রেশন বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেন, কানাডা সরকারের প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার জন্য মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বাতিল করা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।