বাবরের নামে ধর্মীয় স্থাপত্য নয়! হুমায়ুনের প্রসঙ্গ টেনে আর্জিতে কর্ণপাত করল না সুপ্রিম কোর্ট

তৃণমূল সাসপেন্ড করার পরই বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরি করবেন বলে জানিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর।

Published on: Feb 20, 2026, 16:20:55 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাবরের নামে কোনও মসজিদ বা স্থাপত্য নির্মাণে যেন অনুমতি না-দেওয়া হয়। সম্প্রতি এই মর্মেই প্রয়োজনীয় নির্দেশের জন্য সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। বাবরের নামের পাশাপাশি, বাবরি মসজিদের নামও যাতে পুনরায় ব্যবহার করতে না-দেওয়া হয়, সেই আবেদনও জানান হয়েছিল সংশ্লিষ্ট মামলায়। কিন্তু শুক্রবার এই আবেদন শুনতেই রাজি হল না শীর্ষ আদালত। তারপরই আবেদনকারীর আইনজীবী মামলাটিকে প্রত্যাহার করে নেন।

হুমায়ুনের প্রসঙ্গ টেনে আর্জিতে কর্ণপাত করল না সুপ্রিম কোর্ট (HT_PRINT)
হুমায়ুনের প্রসঙ্গ টেনে আর্জিতে কর্ণপাত করল না সুপ্রিম কোর্ট (HT_PRINT)

সংশ্লিষ্ট মামলায় তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাবরি মসজিদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মামলাকারী। এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে মামলাটি শোনার জন্য আবেদন জানান সওয়ালকারীর আইনজীবী। কিন্তু এই আর্জিতে কর্ণপাত করল না শীর্ষ আদালত। বাবরের নামে তৈরি হওয়া স্থাপত্যের কাজ বন্ধ এবং কোনও ধর্মীয় স্থাপত্যের নাম বাবর বা বাবরি নামে না-রাখার আর্জি জানানো হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের কাছে। এই বিষয়ে কেন্দ্র, রাজ্য এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়।

এজলাসে মামলাকারীর আইনজীবী মোঘল সম্রাট বাবরকে ‘সাম্রাজবাদী’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর যুক্তি, দেশের অন্দরে বাবরের নামে নতুন করে কোনও মসজিদ বা স্থাপত্যনির্মাণ করা উচিত নয়। এমনকী, বাবর যেহেতু হিন্দুদের দাসে পরিণত করেছিলেন, তাই তাঁকে নতুন করে সম্মান প্রদানের কোনও জায়গা নেই বলেই বিচারপতি বেঞ্চকে জানান সওয়ালকারী। তবে এই যুক্তি শোনার পরেও কোনও বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি বিচারপতি বেঞ্চ। মামলা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। ফলত নিজে থেকেই মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন আইনজীবী। উল্লেখ্য, তৃণমূল সাসপেন্ড করার পরই বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরি করবেন বলে জানিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। সেই মতো গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর করেন জনতা উন্নয়ন পার্টির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর। চলতি মাসের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। হুমায়ুন জানিয়েছেন আগামী ২ বছরের মধ্যে মসজিদ নির্মাণের কাজ শেষ হবে। তারপর থেকেই তুঙ্গে বিতর্ক। একাংশের কাছে হুমায়ুন কবীর হয়ে উঠেছেন চক্ষুশূল। কিন্তু তাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ জুপ-প্রধান।