'শান্তিতে মরতে দাও...,' ত্বিষাকে নির্যাতন-আত্মহত্যায় প্ররোচনা, বিস্ফোরক চার্জশিট CBIর

Twisha Sharma died: সিবিআইয়ের দাবি, মাত্র পাঁচ মাসের দাম্পত্যে ত্বিষা শর্মা ধারাবাহিকভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। বিয়ের আগে ত্বিষার পুরনো সম্পর্ক নিয়ে কটূক্তি করা থেকে শুরু করে আর্থিক চাপ-একাধিক অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে চার্জশিটে।

Published on: Aug 18, 2026, 14:56:51 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Twisha Sharma died: মাস কয়েক আগের ঘটনা । অভিনেত্রী-মডেল ত্বিষা শর্মার (Twisha Sharma) আকস্মিক মৃত্যুতে তোলপাড় হয়েছিল গোটা দেশ। অভিনেত্রীর ঝাঁ-চকচকে জীবনের আড়ালে অন্ধকার দিকটি ক্রমেই সামনে এসেছে। তদন্তে প্রকাশিত হয়েছে ত্বিষা শর্মার বিবাহিত জীবনের যন্ত্রণার অধ্যায়গুলি। এবার অভিনেত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। গিরিবালা সিং অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। সিবিআই-এর চার্জশিটে স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে ত্বিষা শর্মাকে মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ত্বিষা শর্মাকে নির্যাতন-আত্মহত্যায় প্ররোচনা, বিস্ফোরক চার্জশিট CBIর (Sanjeev Gupta )
ত্বিষা শর্মাকে নির্যাতন-আত্মহত্যায় প্ররোচনা, বিস্ফোরক চার্জশিট CBIর (Sanjeev Gupta )

গত ১২ মে ভোপালে শ্বশুরবাড়িতে ত্বিষার দেহ উদ্ধার হয়েছিল। চার-ছয় মাস আগে সমর্থের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ৩৩ বছরের তরুণীর। মৃতার পরিবারের অভিযোগ ছিল, তাঁদের কন্যাকে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিলেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সেই অভিযোগ জানিয়ে তাঁরা এফআইআর করেছিলেন। পুলিশ তদন্তে নেমে সমর্থের খোঁজ পাচ্ছিল না। ২২ মে জবলপুর থেকে গ্রেফতার করে তাঁকে ভোপালে নিয়ে আসা হয়। পরে গ্রেফতার হন ত্বিষার শাশুড়ি গিরিবালা। ১৪ আগস্ট ভোপালের একটি বিশেষ আদালতে সিবিআই-রের দেওয়া ৬৩৬ পাতার চার্জশিটে সমর্থ এবং গিরিবালার বিরুদ্ধে পণের দাবিতে নির্যাতন, গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ত্বিষার পরিবারের অভিযোগ ছিল, প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কারচুপি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে দিল্লির এইমস (AIIMS)-এর মেডিক্যাল বোর্ড দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করে। সেই রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ফাঁস লাগার ফলে শ্বাসরোধ এবং মৃত্যুর ধরন হিসেবে আত্মহত্যা উল্লেখ করা হয়েছে। শরীরে হামলার কোনও চিহ্নও পাওয়া যায়নি। সিবিআইয়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের জেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন ত্বিষা। তাই সিবিআই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮৫, ১০৮ এবং ৩(৫) ধারায় সমর্থ ও গিরিবালার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে। সিবিআই-এর চার্জশিট অনুযায়ী, ১২ মে রাত ৯টা ৩৬ মিনিটে ত্বিষা তাঁর ননদকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) মেসেজ পাঠান। বার্তাটি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেখানে তিনি তাঁর স্বামীকে পরের দিন তাঁর মৃতদেহের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করতে বলার কথা জানান এবং বলেন, তিনি এই মুহূর্তে শান্তিতে মরতে চান। এর মাত্র চার মিনিট পর, রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে একাই সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে দেখা যায়। এরপর তিনি ছাদের দিকে যান বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। রাত ৯টা ৪১ মিনিটে বাবাকে ফোন করেন। সিবিআই-এর দাবি, ফোনে তিনি কাঁদছিলেন এবং জানান, তাঁর স্বামী সমর্থ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও হিংস্র আচরণ করছেন। তিনি ভয় পাচ্ছেন বলেও জানান এবং বাবা-মাকে যত দ্রুত সম্ভব তাঁর কাছে আসতে বলেন। প্রায় রাত ১০টা ৫ মিনিটে মাকেও ফোন করেন তিনি। সেই ফোনেও তিনি সমর্থের আচরণের কথা জানান। কিছুক্ষণ পর ফোনটি কেটে যায়। এর প্রায় ১৮ মিনিট পর, রাত ১০টা ২৩ মিনিটে সিসিটিভি ফুটেজে সমর্থ সিং এবং তাঁর মা গিরিবালা সিংকে ছাদের দিকে যেতে দেখা যায়। পরে ত্বিষাকে নিচে নিয়ে আসা হয় এবং দ্রুত এইমস ভোপালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১০টা ৫৫ মিনিট নাগাদ তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

সিবিআইয়ের দাবি, মাত্র পাঁচ মাসের দাম্পত্যে ত্বিষা ধারাবাহিকভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। বিয়ের আগে ত্বিষার পুরনো সম্পর্ক নিয়ে কটূক্তি করা থেকে শুরু করে আর্থিক চাপ-একাধিক অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে চার্জশিটে। ত্বিষার প্রায় ২০ লক্ষ টাকা শেয়ারে বিনিয়োগ ছিল। ৭ এপ্রিল খোলা যৌথ অ্যাকাউন্টে সেই টাকা স্থানান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়, যাতে ত্বিষা রাজি হননি। ১৬ এপ্রিল গর্ভাবস্থার কথা জানতে পারেন তিনি। সন্তানটি অনিচ্ছাকৃত হওয়া এবং স্বামীর আচরণ নিয়ে উদ্বেগের কারণে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেন। ৬ মে প্রথম ও ৮ মে দ্বিতীয় এমটিপি-র ওষুধ নেন। সেই সময় মানসিক চাপ, ব্যথা ও রক্তপাতের মধ্যেও স্বামী-শাশুড়ির আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে। তবে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। ত্বিষার আইফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট, বাড়ির সিসিটিভি-এর ডিভিআর পরীক্ষা এবং অভিযুক্তদের কণ্ঠস্বরের ফরেনসিক রিপোর্ট এখনও বাকি। পণের দাবি ও সেই কারণে মৃত্যুর অভিযোগেও আলাদা ভাবে তদন্ত চালিয়ে যেতে চায় সিবিআই।