৫০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ঘুষের অভিযোগ! সিবিআইয়ের জালে মিউনিশনস ইন্ডিয়ার কর্তা, বেসরকারি সংস্থার CEO

সিবিআই সূত্রে খবর, ১২ অক্টোবর এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগ, পুনেতে মিউনিশনস ইন্ডিয়া লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পদে কর্মরত থাকাকালীন অনিল কুমার বেসরকারি ঠিকাদার এবং সরবরাহকারীদের কাছ থেকে বেআইনি ভাবে টাকা চাইছিলেন।

Published on: Oct 15, 2026, 12:51:51 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ। ৫০০ কোটি টাকার গোলাবারুদ সরবরাহের বরাত পেতে ঘুষ দেওয়া হয়েছিল বলে সন্দেহ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের। শুধু আর্থিক লেনদেন নয়, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং কেনাকাটা সংক্রান্ত গোপন তথ্যও হাতবদল হয়েছে বলে অভিযোগ। এই মামলায় সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা মিউনিশনস ইন্ডিয়া লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অনিল কুমার এবং বেসরকারি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা এসএমপিপি লিমিটেডের সিইও তথা ডিরেক্টর প্রোমোটার আশিস কানসালকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। পাশাপাশি অনিলের ভাই বি হর্ষবর্ধনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন শহরে তল্লাশি চালিয়ে মোট ২ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা।

দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ।
দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ।

কী অভিযোগ সিবিআইয়ের?

সিবিআই সূত্রে খবর, ১২ অক্টোবর এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগ, পুনেতে মিউনিশনস ইন্ডিয়া লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পদে কর্মরত থাকাকালীন অনিল কুমার বেসরকারি ঠিকাদার এবং সরবরাহকারীদের কাছ থেকে বেআইনি ভাবে টাকা চাইছিলেন। বিনিময়ে সরকারি কাজে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তদন্তকারীদের দাবি, এসএমপিপি লিমিটেডের সঙ্গে মিউনিশনস ইন্ডিয়ার ৫০০ কোটি টাকার গোলাবারুদ সরবরাহের চুক্তিকে কেন্দ্র করেই এই আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সামনে এসেছে। এক বছরের জন্য ওই চুক্তি হয়েছিল বলে এফআইআরে উল্লেখ রয়েছে।

সিবিআইয়ের অভিযোগ, চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে আশিস কানসালের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল অনিলের। এসএমপিপির কর্মী রবিত কুমার তেওয়াটিয়ার নামও এই মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, চুক্তির সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং গোপন তথ্য পাওয়ার বিনিময়ে ঘুষ দেওয়ার বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

ভাইয়ের মাধ্যমে টাকা সরানোর অভিযোগ

তদন্তে অনিলের পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিবিআইয়ের এফআইআরে দাবি করা হয়েছে, ১২ অক্টোবর আশিসের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ পাওয়ার কথা ছিল অনিলের। সেই টাকা নিরাপদে সরিয়ে রাখা এবং আড়াল করার জন্য পরের দিন সকালে ভাই হর্ষবর্ধনকে পুনেতে যেতে বলেছিলেন তিনি বলে অভিযোগ।

এই সূত্র ধরেই হর্ষবর্ধনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেআইনি ভাবে পাওয়া অর্থ নিজের স্ত্রী, ভাই এবং অন্য আত্মীয়দের মাধ্যমে সরানো বা তাঁদের কাছে গচ্ছিত রাখার চেষ্টাও হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তবে ওই অর্থের প্রকৃত উৎস, লেনদেনের সম্পূর্ণ বিবরণ এবং কারা কত টাকা পেয়েছেন, তা এখনও তদন্তাধীন।

বিভিন্ন শহরে তল্লাশি, উদ্ধার নগদ টাকা

মামলার তদন্তে পুনে, মাইসুরু, বেঙ্গালুরু এবং দিল্লির একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআই। পুনেতে অনিল কুমারের সঙ্গে সম্পর্কিত জায়গা থেকে ১ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। বাকি জায়গাগুলিতে তল্লাশি চালিয়ে আরও প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়া গিয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা।

প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও কেনাকাটা সংক্রান্ত গোপন তথ্য বেআইনি ভাবে বাইরে চলে গেলে দেশের নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা তদন্তকারীদের। তাই আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের অভিযোগকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা এবং বেসরকারি উৎপাদনকারী সংস্থার মধ্যে চুক্তি ঘিরে এমন অভিযোগ সামনে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে দরপত্র এবং সরবরাহ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে দোষী বলে ধরে নেওয়া যায় না।

এসএমপিপি লিমিটেডের তরফে এই গ্রেফতারির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। সিবিআইয়ের তদন্তে আরও কারও নাম উঠে আসে কি না, এবং গোপন প্রতিরক্ষা তথ্য ফাঁসের অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ মেলে, এখন সেদিকেই নজর।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More