Cockroach Janta Party Funding: বিদেশি অর্থ, পাকিস্তানি-যোগ! সিজেপি-র নেপথ্যে ভারত বিরোধী তহবিল? বিস্ফোরক কেন্দ্র

Cockroach Janta Party Funding: বিজেপি-র মুখপাত্র তুহিন সিনহা আবার দাবি করেছেন, উৎসবের মরশুমে রাজধানীর বুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পরিকল্পিত ভাবে নিজেদের কর্মসূচি সাজায় সিজেপি। গত একমাসে তারা যে কাজকর্ম চালাচ্ছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল বিদ্রোহ উস্কে দেওয়া, নৈরাজ্য সৃষ্টি করা।

Published on: Nov 5, 2026, 17:00:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Cockroach Janta Party Funding: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কার্যকলাপের পিছনে ভারত বিরোধী শক্তি এবং বিদেশি তহবিল রয়েছে বলে এবার সরাসরি অভিযোগ করল বিজেপি। পকিস্তান এবং দেশি-বিদেশি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) ভূমিকার অভিযোগও তুলেছে শাসক দল।

সিজেপি-র নেপথ্যে ভারত বিরোধী তহবিল? বিস্ফোরক কেন্দ্র (HT_PRINT)
সিজেপি-র নেপথ্যে ভারত বিরোধী তহবিল? বিস্ফোরক কেন্দ্র (HT_PRINT)

বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে যে বিদেশি শক্তি রয়েছে, সে ব্যাপারে শক্তিশালী তথ্য সরকারের কাছে আছে। তাঁদের লক্ষ্য, দীপাবলির আগে দেশে অশান্তি তৈরি করা। রাজধানীতে সিজেপির শেষ বিক্ষোভ কর্মসূচি সেই লক্ষ্যেই হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, ‘সিজেপি যে অনুমোদনহীন উৎস, ভারত বিরোধী এনজিও এবং দেশের ভিতর ও বাইরের ভারত বিরোধী সংগঠনগুলির থেকে অর্থ সাহায্য পাচ্ছে, তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য শক্তিশালী তথ্য সরকারের কাছে আছে। বিদেশি টাকায় চালিত এনজিও, ডিপ স্টেট এবং ভারত বিরোধী শক্তিগুলি সরকার বিরোধী একটি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির চেষ্টা করছে। অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তহবিল পাচ্ছেন। আশুতোষ রাঙ্কা অর্থ পাচ্ছেন পাকিস্তানি রাজনীতিবিদদের থেকে।’

বিজেপি-র মুখপাত্র তুহিন সিনহা আবার দাবি করেছেন, উৎসবের মরশুমে রাজধানীর বুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পরিকল্পিত ভাবে নিজেদের কর্মসূচি সাজায় সিজেপি। গত একমাসে তারা যে কাজকর্ম চালাচ্ছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল বিদ্রোহ উস্কে দেওয়া, নৈরাজ্য সৃষ্টি করা। অসৎ উদ্দেশ্য ছিল তাদের। দেশের ক্ষতি করাই লক্ষ্য ছিল। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে তুহিন সিনহা বলেন, 'সিজেপি হোক বা কংগ্রেস, এবার বিচারবিভাগের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করেছে। শুনানি চলাকালীন রাহুল গান্ধী যেভাবে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে যান, এটা করা যায় না। গুরুত্বপূর্ণ রায়ের আগে মক পার্লামেন্ট করার প্রয়োজন ছিল না একেবারেই। আসলে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে বদনাম করাই লক্ষ্য।'

এমন সময় কেন্দ্র এবং বিজেপি-র তরফে সিজেপি-র বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হল, সেই সময়ই ফের অভিজিৎ, আশুতোষ এবং সৌরভকে তলব করেছে দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরে প্রবেশ এবং অন্য একটি দলের জায়গায় অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গত ১০ অক্টোবর সৌরভ ও আশুতোষকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকার শান্তিরক্ষার মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। এক বছর শান্তিভঙ্গের কোনও কাজে যুক্ত না থাকার অঙ্গীকারও করেছিলেন তাঁরা। পুলিশের অভিযোগ, তার ৭২ ঘন্টার মধ্যেই সেই শর্ত ভাঙেন দু’জন। ১৩ অক্টোবর সিজেপির আর এক সদস্য অজিঙ্ক্য শিন্ডেকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা ব্যারিকেড পেরিয়ে যন্তর মন্তরের বন্ধ গেট টপকান। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন।

মে মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন সিজেপির ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন অভিজিৎ দীপকে। বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ নিয়ে পড়াশোনা করা দীপকে উদ্যোগটিকে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। রিপোর্ট অনুসারে, ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। দলের সোশ্যাল মিডিয়া টিমেও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন।

বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা তথা কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে। তাঁর প্রশ্ন, বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে বিরোধীরা টাকা পাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হলে তার প্রমাণ সামনে আনা হচ্ছে না কেন? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কংগ্রেস, বিজেপি ও আরএসএসের অর্থের উৎস নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্কের প্রস্তাবও দিয়েছেন খাড়গে। বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগ এবং দিল্লি পুলিশের তলব—দু’টি বিষয় ঘিরেই এখন চাপ বাড়ছে সিজেপির উপর। এখন দেখার জল কতদূর গড়ায়।