অবশেষে মুক্তি! ৬ মাস পর সোনম ওয়াংচুকের ডিটেনশন প্রত্যাহার, কী বলছে কেন্দ্র?
গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর লাদাখে অশান্তির ঘটনায় আটক করা হয়েছিল সোনম ওয়াংচুককে। সেই থেকে এখনও জেলেই বন্দি রয়েছেন লাদাখের পরিবেশকর্মী।
লাদাখের গণবিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। আর সেই কারণে গত বছরের সেপ্টেম্বরে পরিবেশকর্মী তথা শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুককে আটক করা হয়। অবশেষে ৬ মাস পর তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে জারি করা ডিটেনশন প্রত্যাহার করল কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, অবিলম্বে সোনম ওয়াংচুককে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর লাদাখে অশান্তির ঘটনায় আটক করা হয়েছিল সোনম ওয়াংচুককে। সেই থেকে এখনও জেলেই বন্দি রয়েছেন লাদাখের পরিবেশকর্মী। তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা আইন বা এনএসএ-এর আওতায় আটক করে রাখা হয়েছিল রাজস্থানের যোধপুরের জেলে। যা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসাবে দাবি করেছিল সরকার। এদিন এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক মন্ত্রক জানিয়েছে, লাদাখে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাতে সকল পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক ও অর্থবহ আলোচনা সহজতর হবে। সেই উদ্দেশ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথাযথ বিবেচনার পর, সরকার জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে ক্ষমতা প্রয়োগ করে সোনম ওয়াংচুকের আটকের আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।'
অমিত শাহের মন্ত্রক আরও বলেছে, লাদাখের মানুষের প্রয়োজনে সেখানকার সমস্ত পক্ষ এবং সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরকার যোগাযোগ রাখছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বনধ, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ সমাজের পক্ষে ক্ষতিকর। লাদাখের পর্যটন, শিক্ষা, চাকরি সব ক্ষেত্রেই তা বিরূপ প্রভাব ফেলছে।’ এর আগে সোনমের আটককে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁর স্ত্রী তথা ‘হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভস’-এর সিইও, গীতাঞ্জলি জে আংমো।তিনি অভিযোগ করেন, বেআইনি ভাবে তাঁর স্বামীকে আটক করা হয়েছে। সোনমের বক্তৃতার ভুল ব্যাখ্যা কেন্দ্র করেছে বলেও দাবি করেন তাঁর স্ত্রী। বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল তাঁদের হয়ে মামলাটি লড়েছেন। কিন্তু শীর্ষ আদালতে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, নেপাল এবং বাংলাদেশের মতো ভারতেও তরুণ প্রজন্ম বা জেন জি-দের সর্বাত্মক বিক্ষোভ গড়ে তোলার চেষ্টায় ছিলেন সোনম। তাতে মদত দিচ্ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর সোনমকে আটকের দু’দিন আগে লাদাখে বিক্ষোভের সময় চারজনের মৃত্যু হয়। আহত হন ৯০ জন। তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তা কর্মীরাও ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে সোনমকে আটক করা হয় লেহ-র জেলাশাসকের নির্দেশে। জানানো হয় এলাকার আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। পরে তাঁকে যোধপুরের জেলে পাঠানো হয়। সেই থেকে সেখানেই আটক ছিলেন সোনম।
E-Paper











