পুরুলিয়ার কাছেই বড় রেল প্রকল্পে অনুমোদন, কলকাতা-মুম্বই লাইনেও হবে বড় সুবিধা
এই প্রকল্পগুলি প্রধানমন্ত্রী-গতি শক্তি জাতীয় মাস্টার প্ল্যানের উপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হল সমন্বিত পরিকল্পনা এবং অংশীদারদের পরামর্শের মাধ্যমে বহু-মডেল সংযোগ এবং লজিস্টিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা তিনটি মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পের অনুমোদন দিল। মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ৮টি জেলাজুড়ে অনুমোদন হয়েছে এই তিনটি প্রকল্প। এই প্রকল্পের মোট আনুমানিক খরচ ৯,০৭২ কোটি টাকা। আর সেই প্রকল্পের মুম্বই-কলকাতা যোগাযোগ আরও ভালো হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই প্রকল্পগুলি একসঙ্গে ভারতীয় রেলওয়ে নেটওয়ার্ককে প্রায় ৩০৭ কিলোমিটার প্রসারিত করবে, যা মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের আটটি জেলাকে কভার করবে। কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, এই মাল্টি ট্র্যাকিং প্রকল্পগুলির মধ্য দিয়ে, প্রায় ৫,৪০৭টি গ্রামের রেল যোগাযোগ তৈরি হবে। যার মধ্যে দিয়ে প্রায় ৯৮ লক্ষ মানুষ পরিষেবা পাবেন। এই বর্ধিত লাইন ক্ষমতার ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে গতিশীলতা, যার ফলে ভারতীয় রেলের কর্মক্ষম দক্ষতা এবং পরিষেবা নির্ভরযোগ্যতা উন্নত হবে। কাজ আরও সহজ করা এবং যানজট কমানোর জন্য এই তিনটি প্রকল্পের উদ্দেশ্য। এই প্রকল্পগুলি এলাকার ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষকে ‘আত্মনির্ভর’ করে তুলবে, যা তাদের কর্মসংস্থান/স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করবে।
এই তিনটি নতুন লাইন প্রকল্প হল:
১. গোন্দিয়া-জব্বলপুর ডবল লাইন
২. পুনারখ-কিউল তৃতীয়-চতুর্থ লাইন
৩. গামহারিয়া-চান্ডিল তৃতীয়-চতুর্থ লাইন (পুরুলিয়ার কাছে)
চার রাজ্যের মোট ৮টি জেলা জুড়ে এই কাজ হবে, যা বার্ষিক প্রায় ৫২ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহনে সহায়তা করবে। এই প্রকল্পগুলি প্রধানমন্ত্রী-গতি শক্তি জাতীয় মাস্টার প্ল্যানের উপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হল সমন্বিত পরিকল্পনা এবং অংশীদারদের পরামর্শের মাধ্যমে বহু-মডেল সংযোগ এবং লজিস্টিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা। এই প্রকল্পগুলি মানুষ, পণ্য এবং পরিষেবার চলাচলের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ প্রদান করবে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পগুলি জব্বলপুরের কাচনার শিব মন্দির, কানহা এবং পেঞ্চ জাতীয় উদ্যান, ধুঁয়াধার জলপ্রপাত, চান্ডিল বাঁধ এবং দলমা অভয়ারণ্য-সহ বেশ কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ উন্নত করবে। কয়লা, ইস্পাত, আকরিক লোহা, সিমেন্ট, সার, খাদ্যশস্য এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনের জন্য এই রুটগুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। রেলপথ সম্প্রসারণের ফলে বার্ষিক প্রায় ৫২ মিলিয়ন টন অতিরিক্ত মালবাহী পরিবহন পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিবেশগত প্রভাব তুলে ধরে সরকার বলেছে যে, রেল পরিবহন, শক্তি সাশ্রয়ী হওয়ায়, সরবরাহ খরচ কমাতে সাহায্য করবে। তেল আমদানি প্রায় ৬ কোটি লিটার কমাবে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন প্রায় ৩০ কোটি কিলোগ্রাম কমাবে, যা এক কোটি গাছ লাগানোর সমতুল্য।
E-Paper

