আরও বাড়বে বিমান ভাড়া! ঘরোয়া বিমানের সর্বোচ্চসীমা তুলে নিল কেন্দ্র
যদিও ফেয়ারক্যাপ উঠে গেছে, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান মন্ত্রক সতর্ক করেছে যে বিমানের ভাড়া নিয়মিত, যুক্তিসঙ্গত ও স্বচ্ছ থাকতে হবে।
আগামী সপ্তাহ থেকেই বৃদ্ধি পেতে পারে বিমান ভাড়া। সোমবার থেকে অন্তর্দেশীয় বিমান ভাড়ার ওপর থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র টিকিটের মূল্যের ওপর আরোপিত সাময়িক সর্বোচ্চ সীমা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে, যা বিমান সংস্থাগুলোকে ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়ের মুখে স্বাধীনভাবে ভাড়া নির্ধারণের সুযোগ করে দেবে। ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বরে, ইন্ডিগো’র পরপর বিমান বাতিলের কারণে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ কমাতে এই ফেয়ারক্যাপ চালু করা হয়েছিল। একাধিক রুটে টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকার হস্তক্ষেপ করেছিল কেন্দ্র।

যদিও ফেয়ারক্যাপ উঠে গেছে, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান মন্ত্রক সতর্ক করেছে যে বিমানের ভাড়া নিয়মিত, যুক্তিসঙ্গত ও স্বচ্ছ থাকতে হবে। মন্ত্রক জানিয়েছে যে, 'চাহিদার সর্বোচ্চ সময়ে, বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে ভাড়ার অত্যধিক বা অযৌক্তিক বৃদ্ধিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।' মন্ত্রক আরও উল্লেখ করেছে যে 'জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে' ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা বা অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হতে পারে। এই ফেয়ারক্যাপ প্রত্যাহারের বিষয়টি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (এটিএফ)-এর মূল্যবৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিমান চলাচল কার্যক্রম প্রভাবিত হচ্ছে, আর এই উভয় ঘটনাই বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হল বিমান চলাচল খাতে বাজারের স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা।
বিমান সংস্থাগুলোর সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স’ পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার দাম কমে যাওয়া-সহ বিভিন্ন কারণে উড়ান সংস্থাগুলো মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি ওই সংগঠনের। এ অবস্থায় বিমান ভাড়ার সর্বোচ্চসীমা তুলে নেওয়ার জন্য তারাই দরবার করেছিল কেন্দ্রের কাছে। এরপরেই অন্তর্দেশীয় বিমান ভাড়ার ওপর সর্বোচ্চসীমা প্রত্যাহার করে নিয়েছে কেন্দ্র। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে উড়ান সংস্থাগুলোকে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ক্যাপিং তুলে দেওয়া হলেও এয়ারলায়েন্সগুলি যেন ভাড়ার ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলে। বিমানের টিকিটের দাম যেন যৌক্তিক হয়, দামের ক্ষেত্রে যেন স্বচ্ছতা বজায় থাকে। বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য পূর্ণও যেন হয়, সেটাও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এরই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি ফের বিমান ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তাহলে সেটাও নজরদারির আওতায় পড়বে। বিমান মন্ত্রক নিয়মিত বিমানের টিকিটের দামে নজরদারি চালাবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন শুক্রবার কর্মীদের উদ্দেশে এক বার্তায় বলেন, 'এই সংকটের আর্থিক প্রভাব এখনও পুরোপুরি আঁচ পাওয়া যায়নি, কারণ জেট ফুয়েলের স্পট দাম দ্বিগুণেরও বেশি হলেও, এর বেশিরভাগ প্রভাব আমাদের ওপর পড়বে আগামী মাস থেকে। অন্যান্য ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর মতো আমরাও এই আসন্ন খরচ বৃদ্ধি সামাল দিতে নতুন টিকিটের ওপর ইতিমধ্যে জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করেছি। কিন্তু কোনও গ্রাহকই বেশি ভাড়া দিতে রাজি নন, তাই চাহিদা কমে যাওয়ার আগে আমরা কতটা দাম বাড়াতে পারি তার একটি সীমা আছে।'
E-Paper

