LPG Price Hike: বিশ্বের তুলনায় এখনও সস্তা ভারতে! LPG সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনায় জবাব কেন্দ্রের

LPG Price Hike: পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতে পেট্রোপণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু সরকার সাধারণ মানুষের জন্য ঘরোয়া এলপিজি-র দাম নিয়ন্ত্রণে রাখছে। যে কোনও পরিবার ৯৪২ টাকায় যতগুলো খুশি সিলিন্ডার কিনতে পারে।

Published on: Jun 7, 2026, 18:54:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

LPG Price Hike: মধ্যবিত্তের পকেটে ছ্যাঁকা দিয়ে এক ধাক্কায় ২৯ টাকা বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। গত তিন মাসে এই নিয়ে দু'বার দাম বাড়ায় স্বভাবতই কপালে ভাঁজ পড়েছে সাধারণ মানুষের। এই পরিস্থিতিতে মূল্যবৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক একটি বিবৃতি জারি করেছে। তাদের কথায়, বিশ্বের বহু দেশ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের তুলনায় ভারতীয় পরিবারগুলি এখনও সবচেয়ে কম দামে রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন।

LPG সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনায় জবাব কেন্দ্রের (HT_PRINT)
LPG সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনায় জবাব কেন্দ্রের (HT_PRINT)

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের দাবি, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার একজন গ্রাহক ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য কার্যকরীভাবে ৬৪২ টাকা দেন। দিল্লির সাধারণ গ্রাহকরা দেন ৯৪২ টাকা। অথচ এই সিলিন্ডার সরবরাহ করতে খরচ হয় ১৬০০ টাকারও বেশি। পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে, যার ফলে রবিবার থেকে ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৯ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে ভারতেও।

ভারতে পেট্রোপণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতে পেট্রোপণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু সরকার সাধারণ মানুষের জন্য ঘরোয়া এলপিজি-র দাম নিয়ন্ত্রণে রাখছে। যে কোনও পরিবার ৯৪২ টাকায় যতগুলো খুশি সিলিন্ডার কিনতে পারে। উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকরা বছরে প্রথম চারটি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা করে ভর্তুকি সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পান। সাধারণত, উজ্জ্বলা গ্রাহকদের বছরে গড় ব্যবহার চারটি সিলিন্ডারই। তাই তারা কার্যকরীভাবে ৬৪২ টাকাতেই গ্যাস পান এবং এই ভর্তুকি অপরিবর্তিত রয়েছে। এমনকী যারা উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় নেই, তারাও বাজারের আসল দামের থেকে প্রায় ৭০০ টাকা কমে সিলিন্ডার পাচ্ছেন। বণ্টনের খরচের জন্য বিভিন্ন জায়গায় দাম সামান্য এদিক-ওদিক হতে পারে।

টাকার বোঝা বহন করছে সরকার

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার বড় ধাক্কাটা সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে দেওয়া হচ্ছে না। সরকার সিলিন্ডার প্রতি কয়েকশো টাকার বোঝা নিজে বহন করছে।' ভারত তার প্রয়োজনের ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে, যার দাম মূলত সৌদি আরামকোর নির্ধারিত সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুসরণ করে। এই দামের ওপর ভারতের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই।

পশ্চিম এশিয়ার সংকটের সময় এই দাম অনেকটাই বেড়ে যায়। ফেব্রুয়ারিতে, সংকটের আগে, ভারতে ব্যবহৃত ৫০:৫০ প্রোপেন-বিউটেন মিশ্রণের এলপিজি-র সৌদি সিপি ছিল প্রতি টনে প্রায় ৫৪৩ ডলার। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, এপ্রিলে দাম বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি টনে ৭৭৫ ডলারে। জুনে তা আরও বেড়ে ৭৯০ ডলারে পৌঁছায়। অর্থাৎ, ফেব্রুয়ারির তুলনায় দাম প্রায় ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলেই আমদানিকৃত গ্যাসের দামও বেড়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, জুনের কন্ট্রাক্ট প্রাইস অনুযায়ী, একটি ১৪.২ কেজি সিলিন্ডার সরবরাহ করার খরচ এখন ১৬০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, প্রতিটি ঘরোয়া সিলিন্ডারে প্রায় ৭০০ টাকার লোকসান বহন করা হচ্ছে। এই বিশাল ফারাকটা বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম দেখলেই বোঝা যায়।

বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি

হোটেল বা ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তিত হয়। কিন্তু ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে তা হয় না। হোটেল-রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম দিল্লিতে এখন ৩১ ১৩.৫০ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজি প্রায় ১৬৪ টাকা। সেখানে সাধারণ মানুষ প্রতি কেজি গ্যাসের জন্য দিচ্ছেন প্রায় ৬৬ টাকা। কেন্দ্রের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় ভর্তুকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এলপিজিকে এখনও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী রাখা হয়েছে।

সরবরাহ বাড়ানোর পদক্ষেপ

আমদানি কমে যাওয়ায় দেশের অভ্যন্তরে এলপিজি উৎপাদন ৬০ শতাংশেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে, প্রায় ৩২ টিএমটি থেকে ৫২ টিএমটি। লাগাতার সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী থেকে এলপিজি বোঝাই জাহাজ বের করে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং আলজেরিয়ার মতো দেশগুলো থেকে, যারা হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে না, তাদের থেকেও গ্যাস কেনা হয়েছে। চাহিদা কমাতে, যেখানে সম্ভব সেখানে গ্রাহকদের পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস (পিএনজি) ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। ভর্তুকির গ্যাস যাতে কালোবাজারে বিক্রি না হয়, তার জন্য রাজ্য সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে মিলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ওটিপি-ভিত্তিক ডেলিভারি ভেরিফিকেশন প্রায় ৯০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যা ভর্তুকির গ্যাস বাণিজ্যিক বাজারে চলে যাওয়া আটকাতে সাহায্য করেছে।