Dharmendra Pradhan resigns: মন্ত্রক বদলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান CJPর, অবশেষে ইস্তফা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের

Dharmendra Pradhan resigns: সূত্রের দাবি, বিক্ষোভকারীদের অন্য দুটি বড় দাবি ইতিমধ্যেই সরকার মেনে নিয়েছিল। প্রতিবাদের সময়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলো তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল (যেহেতু এতে বড় কোনও সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট হয়নি)।

Published on: Jul 28, 2026, 14:51:14 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Dharmendra Pradhan resigns: নিট ও বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। শনিবার ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দীর্ঘ ৩৬ দিন ধরে রাজধানী দিল্লিতে চলা গণআন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রীর এই পদত্যাগের মধ্য দিয়েই আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তবে সূত্রের খবর, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে অন্য একটি মন্ত্রকে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিল।

ধর্মেন্দ্র প্রধান (PTI)
ধর্মেন্দ্র প্রধান (PTI)

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-এর প্রতিবেদন অনুসারে, গত শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে একটি আপস প্রস্তাব বা সমঝোতার রাস্তা খোঁজা হচ্ছিল। আন্দোলনরত ছাত্র নেতা ও সিজেপি নেতৃত্বের কাছে সরকারের দুই প্রতিনিধি মন্ত্রী, জেপি নাড্ডা এবং জীতেন্দ্র সিং একটি মধ্যস্থতার প্রস্তাব রাখেন। তাঁরা সিজেপি-র প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে প্রস্তাব দেন যে, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাতেই রাখা হবে, তবে তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব বা 'পোর্টফোলিও' সরিয়ে নেওয়া হবে। নতুন শিক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত করা হবে এবং আন্দোলনের সমস্ত সম্পূরক দাবি মেনে নেওয়া হবে। তবে সিজেপি সূত্রে খবর, মন্ত্রিসভায় রদবদল প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র অধিকার হলেও তাঁরা এই আপস প্রস্তাবে রাজি হয়নি। আন্দোলনকারীরা শুরু থেকেই একমাত্র দাবি জানিয়ে আসছিল, শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতেই হবে।

সূত্রের দাবি, বিক্ষোভকারীদের অন্য দুটি বড় দাবি ইতিমধ্যেই সরকার মেনে নিয়েছিল। প্রতিবাদের সময়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলো তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল (যেহেতু এতে বড় কোনও সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট হয়নি)। প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের জেরে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি মহলের আশা ছিল, প্রধান দাবিগুলোর ইতিবাচক সমাধানের পর দফতর বদলের প্রস্তাবটি আন্দোলনকারীরা মেনে নেবে। কিন্তু সরকারের সঙ্গে আলোচনার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া দূরত্ব এবং সিজেপি-র অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রকে সম্পূর্ণ নতিস্বীকার করতে হয়। সিজেপির নেতৃত্বের বক্তব্য ছিল, প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা পরিচালনার ব্যর্থতা এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা নষ্ট হওয়ার জন্য যিনি রাজনৈতিকভাবে দায়ী, তাঁকে শুধু অন্য মন্ত্রকে পাঠালে কোনও বার্তা যাবে না। বরং তাতে সরকারের জবাবদিহি নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠবে। তাই তাঁদের একমাত্র দাবি ছিল, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকেই সরে যেতে হবে।

শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, যেখানে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই একমাত্র কার্যকর সমাধান হিসেবে সামনে আসে। শনিবার বিকেলে তাঁর ইস্তফার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করার পরপরই জাতীয় রাজধানীতে চলা ৩৬ দিনের টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের কথা জানিয়ে দেয় ককরোজ জনতা পার্টি। প্রবল জনরোষ ও একের পর এক বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর সরকারের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত ভারতীয় ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আপাতত একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও, পরীক্ষা-ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠন, প্রশ্নফাঁস রোধ, দ্রুত বিচার, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি-এই সব ক্ষেত্রেই সরকারের সামনে এখন কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে ভবিষ্যতের আন্দোলন-রাজনীতির ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে আন্দোলনকারীরা আংশিক সমাধান প্রত্যাখ্যান করে পূর্ণ রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার দাবি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।