Student protest: পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের না করার প্রতিশ্রুতিতে অটল, সুপ্রিম কোর্টে জানাল কেন্দ্র
Student protest: কেন্দ্রীয় সরকারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দেশের সব প্রান্তে বিক্ষোভকারীদের উপর হওয়া সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। এর মধ্যেই সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার ব্যাপারে তারা তাদের প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে।
Student protest: নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের জেরে দায়ের হওয়া এফআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিক্ষোভ চলাকালীন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর সংক্রান্ত পূর্ববর্তী আদেশ স্পষ্ট করে শীর্ষ আদালত বলেছে, ‘দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্য সরকারগুলি আইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর বন্ধ বা প্রত্যাহার করতে স্বাধীন।’
নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর-মন্তরে হওয়া বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল এফআইআর। তবে শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল যারা নির্দোষ এবং যাদের বিরুদ্ধে আগে কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই তাঁদের মুক্তি দিতে হবে। নতুন করে এফআইআর দায়ের করা যাবে না বলেও দেওয়া হয়েছিল নির্দেশ। কেন্দ্রীয় সরকারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দেশের সব প্রান্তে বিক্ষোভকারীদের উপর হওয়া সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। এর মধ্যেই সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার ব্যাপারে তারা তাদের প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে। সেই সঙ্গেই জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হবে না।
এদিন শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, তদন্তের আগে প্রকৃত ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা এবং গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের মামলা আলাদা করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, ‘ক্রিমিনাল হিস্ট্রি’ বলতে খুন বা অন্য গুরুতর অপরাধের মতো অভিযোগকেই বোঝানো হবে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বা ছোটখাটো মামলাকে সেই তালিকায় ফেলা যাবে না।বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়েও এদিন উদ্বেগ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। তার পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের কোনওভাবেই সুরক্ষা দেওয়া হবে-এমন ধারণার সুযোগ নেই। এই অভিযোগের তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন হবে, নাকি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি তৈরি করা হবে, তা নিয়েও আদালত ভাবনাচিন্তা করছে। বলে রাখা প্রয়োজন, বিক্ষোভে সামিল হওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছিল।
এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার শুনানির সময়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরগুলোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি বা যোগাযোগের ঘাটতি ছিল। শিক্ষার্থীদের কাছে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সরকার যে আন্তরিক, সে কথা জানানোর জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ আবেদনকারীদের আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার জানতে চেয়েছিলেন যে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরগুলো প্রত্যাহার বা বাতিল করা হবে কিনা। আদালতে তিনি বলেন, ‘এরা তরুণ, যাদের সামনে গোটা জীবন পড়ে আছে। মামলা খারিজের জন্যও বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লিতে আমাদের কাছে এফআইআর রয়েছে। রাজ্যগুলির সঙ্গে বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেলে আমরা এই আদালতে ফিরে আসব।’ এদিকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেছেন, আইনসম্মতভাবে যেভাবেই এটি করা হোক না কেন, সরকার তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।
শুনানিতে মুখের ছবি শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারির অভিযোগও ওঠে। আবেদনকারীদের দাবি, সম্মতি ছাড়াই বিপুল সংখ্যক মানুষের মুখের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা গোপনীয়তার প্রশ্ন তুলছে। তবে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, শুধু ফেসিয়াল রিকগনিশন নয়, মাঠপর্যায়ে যাচাইও করা হয়েছে। মোট ২,৭৩৮ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রকৃত ছাত্রদের অযথা হয়রানি করা যাবে না। কিন্তু শুধুমাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অজুহাতে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত কেউ আইনি সুরক্ষা দাবি করতে পারবেন না। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৮ অগস্ট।
E-Paper

