MeitY warning to Meta: 'অবিলম্বে বন্ধ করুন!' ইনস্টাগ্রামে শিশু হেনস্থার কন্টেন্ট দেখে 'মেটা'কে নোটিস কেন্দ্রের

MeitY warning to Meta: সূত্রের খবর, শুধু নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি নরেন্দ্র মোদী সরকার। ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক জানিয়েছে, এই ধরণের আপত্তিকর এবং বেআইনি কন্টেন্ট কীভাবে ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে মেটার কাছে।

Published on: Jul 5, 2026, 17:23:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

MeitY warning to Meta: ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটিকে তলব করার পরেই মেটা-কে কড়া নোটিস পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ইনস্টাগ্রামকে শিশুদেন যৌন নির্যাতন-এ প্রবেশের সুযোগ করে দেয় বা তা প্রচার করে-এমন সব বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট অবিলম্বে নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছে।

ইনস্টাগ্রামে শিশু হেনস্থার কন্টেন্ট দেখে 'মেটা'কে নোটিস কেন্দ্রের (REUTERS)
ইনস্টাগ্রামে শিশু হেনস্থার কন্টেন্ট দেখে 'মেটা'কে নোটিস কেন্দ্রের (REUTERS)

সূত্রের খবর, শুধু নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি নরেন্দ্র মোদী সরকার। ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক জানিয়েছে, এই ধরণের আপত্তিকর এবং বেআইনি কন্টেন্ট কীভাবে ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে মেটার কাছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে মেটাকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। সরকারের এই পদক্ষেপ এসেছে অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্টের প্রচার ও বিস্তার রুখতে চলা অভিযানের অংশ হিসেবে। কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে আরও কঠোর এবং দায়িত্বশীল হতে হবে।

কীভাবে তাদের নজর এড়িয়ে এই ধরণের বিজ্ঞাপন লাইভ হল? অভিযোগ সামনে আসার পর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কী ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর ব্যখ্যা-সহ কেন্দ্রকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মেটাকে। এর আগে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে মেটা আধিকারিকদের তলব করেছিল অশ্বিনী বৈষ্ণবের মন্ত্রক। এই বিতর্কের সূত্রপাত একটি বিবিসি আই-র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর। ওই তদন্তে দাবি করা হয়, ইনস্টাগ্রামে এমন কিছু পেইড বিজ্ঞাপন দেখা গিয়েছিল, যেখানে বিতর্কিত শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছিল। অভিযোগ, এই বিজ্ঞাপনগুলিতে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীরা টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেলে পৌঁছে যাচ্ছিলেন, যেখানে মাত্র ৯৯ টাকা থেকে শিশু যৌন নির্যাতনের ভিডিও বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল। বিবিসি-র দাবি, এই বিজ্ঞাপনগুলি ইনস্টাগ্রামের নিজস্ব কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থা পেরিয়েই প্রকাশিত হয়েছিল। অর্থাৎ প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও এমন গুরুতর কনটেন্ট ধরা পড়েনি।

তদন্তের অংশ হিসেবে বিবিসি ভারতে একটি ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট তৈরি করে। প্রথমে সেই অ্যাকাউন্ট থেকে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কিছু প্রোফাইল অনুসরণ করা হয়, যাতে ইনস্টাগ্রামের রেকমেন্ডেশন সিস্টেম কীভাবে কাজ করে তা বোঝা যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই সেই অ্যাকাউন্টে ভিডিও কল, প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন কনটেন্ট এবং পরে শিশুদের নিয়ে আপত্তিকর বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু হয় বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তে প্রায় ৩০টি আলাদা বিজ্ঞাপন শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলি শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্টের প্রচার করছিল বলে অভিযোগ। এছাড়াও প্রায় ২০টি প্রাপ্তবয়স্ক পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনও দেখা যায়। এই অভিযোগ সামনে আসার পর মেটা জানায়, বিবিসি-র প্রশ্ন পাওয়ার আগেই তারা কিছু বিজ্ঞাপন সরিয়ে দিয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি নিষ্ক্রিয় করেছিল। পরে আরও বিজ্ঞাপন, একাধিক অ্যাকাউন্ট এবং নীতিভঙ্গকারী বিভিন্ন লিঙ্কও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে সংস্থাটি।

এক বিবৃতিতে মেটার তরফে জানানো হয়, 'সিএসএএম সংগ্রহ, শেয়ার বা প্রচারের ক্ষেত্রে, এমনকী বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও, আমাদের নীতি সম্পূর্ণ শূন্য সহনশীলতার। উন্নত এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা নিয়মভঙ্গকারী কনটেন্ট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সক্রিয়ভাবে শনাক্ত করি। তবে ৩.৫ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর মধ্যে অপরাধীরা নিজেদের আড়াল করে এবং আমাদের নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা করে, তাই এই লড়াই চলবে।' বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মেটার বিশেষজ্ঞ দল নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে, নতুন প্রযুক্তি তৈরি করছে, বেআইনি ওয়েবসাইটের লিঙ্ক ব্লক করছে এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে তথ্য ভাগ করে নিয়ে যৌথভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার এখন মেটার আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। সূত্রের দাবি, ৭ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম থেকে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত সমস্ত বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট সম্পূর্ণভাবে অপসারণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির কনটেন্ট নজরদারি ও শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।