সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজরদারি! মত প্রকাশে রাশ বাড়ানোর প্রস্তাব কেন্দ্রের, বিপাকে ক্রিয়েটররা?
সংবাদ বা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে যাঁরা কন্টেন্ট তৈরি করেন, তাঁদের একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় যাঁরা স্বাধীনভাবে খবর পরিবেশন করেন, এবার তাঁদের উপরে কড়া নজরদারি চালাতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বৈদ্যুতিন এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে চলতি তথ্যপ্রযুক্তি আইনে বদল এনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রককে সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও কড়া নজরদারি এবং সেন্সরশিপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিলের মধ্যে এর পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত জানানো যাবে। তারপরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে বলে সোমবার জানানো হয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা খর্ব হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদ বা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে যাঁরা কন্টেন্ট তৈরি করেন, তাঁদের একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ডিজিটাল মিডিয়া সংক্রান্ত বিধিতে একগুচ্ছ বদল আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলে, কোনও কন্টেন্ট নিয়ে অভিযোগ জমা পড়লে সরকার সরাসরি সেটি বন্ধ বা 'ব্লক' করার নির্দেশ দিতে পারবে। এমনকী সংশ্লিষ্ট কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে ক্ষমা চাইতে বা সেই ভিডিও বা পোস্টে বদল আনতেও বাধ্য করা হতে পারে। এত দিন এই নিয়মগুলি মূলত বড় সংবাদমাধ্যম বা ডিজিটাল নিউজ পোর্টালগুলির জন্য ছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, জনপ্রিয় ইউটিউবার বা সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর পরিবেশনকারীরাও এই নিয়মের আওতায় আসবেন।
শুধু তাই নয়, কোনও কৌতুক শিল্পী বা সাধারণ ব্যবহারকারীও যদি সরকারের কোনও নীতি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কিছু পোস্ট করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, এই নিয়মের মাধ্যমে সরকার সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলোর কাছ থেকে কোনও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের ব্যক্তিগত তথ্য চাইতে পারবে। প্রয়োজনে সরাসরি কন্টেন্ট সরানোর নির্দেশ দেবে। এটাই মূল উদ্দেশ্য। এখনও পর্যন্ত গোটা বিশ্বে এই ধরনের নির্দেশ সরাসরি ক্রিয়েটরকে না পাঠিয়ে প্ল্যাটফর্মকে পাঠানো হয়। এবার ভারত সরকার রাশ টানতে চাইছে। ইকিগাই ল-এর সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট পল্লবী সোনধি বলেছেন, 'এই খসড়া সংশোধনীগুলো এমআইবি-র ক্ষমতার এক সূক্ষ্ম কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ সম্প্রসারণকে চিহ্নিত করে। এগুলো সংবাদ ও সমসাময়িক বিষয় পোস্টকারী স্বতন্ত্র ব্যবহারকারীদের পর্যন্ত প্রসারিত করে, যা কার্যকরভাবে ব্যবহারকারী-সৃষ্ট বিষয়বস্তুর ইকোসিস্টেমে এমআইবি-র এখতিয়ারকে বিস্তৃত করে। এই পরিবর্তনগুলো আইডিসি-র ভূমিকাও প্রসারিত করে। এটি এখন আর শুধু গুরুতর অভিযোগ নিষ্পত্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং এখন এমআইবি দ্বারা প্রেরিত 'যে কোনও বিষয়' পরীক্ষা করতে পারে, যা নির্বাহী বিভাগকে বিষয়বস্তু যাচাই-বাছাই শুরু করার ক্ষেত্রে আরও বেশি বিচক্ষণতা প্রদান করে।'
পাশাপাশি, ফেসবুক বা এক্স-এর মতো সংস্থাগুলোর জন্যও নিয়ম আরও কঠিন করা হচ্ছে। সরকার কোনও পরামর্শ বা 'অ্যাডভাইজরি' দিলে তা মানা এখন থেকে বাধ্যতামূলক হতে পারে। যদি কোনও সংস্থা তা না মানে, তবে তাদের এর জন্য মাশুল গুনতে হবে। সরকারের দাবি, এর আগে এআই দিয়ে তৈরি আপত্তিকর ভিডিও সরাতে বললেও এই সংস্থাগুলি বিশেষ গা করেনি, তাই এই কড়াকড়ি।
E-Paper











