Chagos Dispute between Maldives & Mauritius: ভারত মহাসাগরে কূটনৈতিক সংকট, ভারতের দুই বন্ধুরাষ্ট্রের মধ্যে বিবাদ চরমে
তাৎক্ষণিকভাবে মলদ্বীপের সাথে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করেছে মরিশাস। চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে মলদ্বীপের মুইজ্জু সরকারের বর্তমান অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে এই দুটি দেশই ভারতের বন্ধুরাষ্ট্র।
চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ভারত মহাসাগরে ক্রমেই বাড়ছে বিবাদ। এই আবহে মরিশাস সরকার ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মলদ্বীপের সাথে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক তারা স্থগিত করেছে। চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে মলদ্বীপের মুইজ্জু সরকারের বর্তমান অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে এই দুটি দেশই ভারতের বন্ধুরাষ্ট্র।

বিতর্কের মূল কারণ কী? মরিশাসের বিদেশ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মলদ্বীপ সরকার সম্প্রতি চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। চাগোস দ্বীপপুঞ্জের উপর মরিশাসের সার্বভৌমত্ব এবং এর আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে আর স্বীকৃতি দেয় না মলদ্বীপ। এছাড়া চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে মরিশাস ও ব্রিটেনের মধ্যে সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়েও আপত্তি জানাতে শুরু করেছে মলদ্বীপ। এই কারণে মরিশাসের মন্ত্রিসভা মালদ্বীপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
মরিশাসের বিদেশ মন্ত্রণালয় বলেছে, 'জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ করেছে মরিশাস। রাষ্ট্রসংঘের সনদ, আন্তর্জাতিক আইন এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার নীতিগুলি সমুন্নত রাখার জন্য মরিশাস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।' এদিকে মলদ্বীপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ছাড়াও চাগোস ও দিয়েগো গার্সিয়ার সঙ্গে জড়িত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও কূটনৈতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে মরিশাসের মন্ত্রিসভায়।
উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি মলদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মুইজ্জুর স্টেট অফ দ্য নেশনের ভাষণের পরে কূটনৈতিক সংকট গভীর হয়েছিল ভারত মহাসাগর অঞ্চলে। সেই ভাষণে মুইজ্জু দাবি করেছিলেন যে অন্য যে কোনও দেশের চেয়ে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের উপর মলদ্বীপের দাবি বেশি শক্তিশালী। ২০২২ সালে মলদ্বীপের পূর্ববর্তী সরকার চাগোসের ওপর মরিশাসের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেই স্বীকৃতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে মুইজ্জু। মলদ্বীপের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় এই সিদ্ধান্তকে প্রয়োজনীয় বলে বর্ণনা করেন তিনি। একই সময়ে মালদ্বীপ সরকার চাগোস দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের বিরোধিতা করেছে।
চাগোস দ্বীপপুঞ্জের পুরো অবস্থা কী? চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিরোধ আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল ভূ-রাজনৈতিক ও মানবাধিকার ইস্যুগুলির মধ্যে একটি। এটি কেবল দুটি দেশের মধ্যে একটি টুকরো জমির লড়াই নয়, এটি ভারত মহাসাগরের কৌশলগত সুরক্ষা এবং হাজার হাজার আদিবাসীর বাস্তুচ্যুতির সাথে জড়িত। চাগোস দ্বীপপুঞ্জ ভারত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত ৬০টিরও বেশি ছোট দ্বীপের একটি গ্রুপ। এটি মরিশাসের প্রায় ২২০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং মালদ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত। এর বৃহত্তম দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়া। ১৯৬৫ সালে মরিশাস এবং চাগোস উভয়ই ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। মরিশাস ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার তিন বছর আগে ১৯৬৫ সালে ব্রিটেন চাগোস দ্বীপপুঞ্জকে মরিশাস থেকে আলাদা করে এবং এটিকে একটি নতুন নাম দেয়- ব্রিটিশ-ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল। ব্রিটেন মরিশাসকে এর ক্ষতিপূরণ হিসাবে মাত্র ৩ মিলিয়ন পাউন্ড প্রদান করেছিল। মরিশাস বরাবরই যুক্তি দিয়ে আসছে যে স্বাধীনতার আগে চাপের মুখে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী ছিল।
এদিকে ব্রিটেন ১৯৬৬ সালে দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ৫০ বছরের জন্য লিজ দেয় (যা পরে বাড়ানো হয়েছিল)। বর্তমানে এটি আমেরিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি সামরিক ঘাঁটিগুলির মধ্যে একটি। এই ঘাঁটি ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধেও ব্যবহৃত হয়েছিল। এই সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের জন্য স্থানীয়দের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই আবহে ১৯৬৭ এবং ১৯৭৩-র মধ্যে ব্রিটেন চাগোস থেকে প্রায় ২ হাজার আদিবাসীকে জোর করে সরিয়ে দেয় এবং তাদের মরিশাস এবং সেশেলসে নির্বাসিত করে। পরে ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত একটি যুগান্তকারী পরামর্শমূলক পর্যবেক্ষণে বলেছিল যে মরিশাস থেকে চাগোসকে আলাদা করা অবৈধ ছিল এবং ব্রিটেনের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দ্বীপটি ছেড়ে যাওয়া উচিত। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদও ভোটাভুটির মাধ্যমে এই দ্বীপটিকে মরিশাসের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব পাশ করিয়েছিল। তবে ব্রিটেন প্রাথমিকভাবে এটি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল। যদিও সম্প্রতি ব্রিটেন চাগোস দ্বীপপুঞ্জের উপর মরিশাসের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিতে সম্মত হয়েছে। যদিও দিয়েগো গার্সিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি হিসেবে থেকে যাবে।
E-Paper











