Ram Mandir Trust Scam: রাম মন্দির অনুদান তছরুপ-কাণ্ডে নয়া মোড়, পুলিশি জেরার মুখে চম্পত রাই

Ram Mandir Trust Scam: সিট-এর সুপারিশ মেনে গত বৃহস্পতিবার ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর তরফে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন অন্যতম ট্রাস্টি কৃষ্ণ মোহন। তার ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে রাতেই আট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Published on: Jun 30, 2026, 13:45:50 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Ram Mandir Trust Scam: অযোধ্যার রাম মন্দির অনুদান ও প্রণামী তছরুপের অভিযোগে উত্তাল গোটা দেশ। সোমবার এই মামলায় শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সূত্র মারফত আরও জানা গিয়েছে, চম্পত রাইয়ের সঙ্গে ট্রাস্টের অন্যতম প্রাক্তন প্রধান সদস্য অনিল মিশ্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারী বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)।

রাম মন্দির অনুদান তছরুপ-কাণ্ডে নয়া মোড় (FILE PHOTO) (HT_PRINT)
রাম মন্দির অনুদান তছরুপ-কাণ্ডে নয়া মোড় (FILE PHOTO) (HT_PRINT)

এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ তদন্তকারী দল চম্পত রাইকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং অনুদান ব্যবস্থাপনার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে। গত ২৭ জুন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এবং পুলিশে রাম মন্দিরের অনুদান নয়ছয়ের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর এই প্রথম চম্পত রাইয়ের বয়ান রেকর্ড করা হলো। চম্পত রাই শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, যা মন্দিরটি পরিচালনাকারী একটি স্বাধীন সংস্থা।

সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় চম্পত রাই মন্দিরের অনুদান নয়ছয়ে তাঁর কোনও ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি আরও জানান, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হয়েছে। চম্পত রাই পুলিশকে বলেছেন, অনুদান সংগ্রহে যাতে কোনও অনিয়ম না হয় তা নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব ছিল এবং অনিয়মের খবর পাওয়া মাত্রই তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। তদন্তকারীরা চম্পত রাইয়ের কাছ থেকে অনুদান প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ বিবরণ জানতে চান-যার মধ্যে রয়েছে ভক্তদের দেওয়া নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী গ্রহণ, সেগুলির গণনা, নিরাপদ হেফাজতে রাখা এবং সবশেষে নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করার প্রক্রিয়া। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কঠোর অবস্থান এবং মন্দিরের অনুদান নয়ছয়ে তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্ত দলের (সিট) প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরই চম্পত রাই পদত্যাগ করেন। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৭ থেকে ৭.৫ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে।

এর আগে সিট-এর সুপারিশ মেনে গত বৃহস্পতিবার ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর তরফে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন অন্যতম ট্রাস্টি কৃষ্ণ মোহন। তার ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে রাতেই আট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এঁদের মধ্যে রয়েছেন, রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু, লবকুশ মিশ্র, অনুকল্প মিশ্র, অবিনাশ শুক্ল, মণীশকুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রমাশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব। তাঁদের কয়েক জনের ঠিকানা থেকে ‘হিসাব-বহির্ভূত’ ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে উদ্বোধনের পর থেকেই রাম মন্দির বিপুল পরিমাণ অনুদান পেয়ে আসছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ট্রাস্টের মোট আয় ছিল প্রায় ৩২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনুদান থেকে ১৫৩ কোটি টাকা এবং সুদের বাবদ আয় ১৭৩ কোটি টাকা আয় হয়েছে। মন্দিরে প্রতিদিন গড়ে ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ দর্শনার্থী আসেন। সপ্তাহান্ত এবং উৎসবের দিনগুলিতে এই সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে যায়। নগদ অনুদান গণনার বিষয়টি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া দ্বারা অনুমোদিত, যারা এই কাজের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে নিযুক্ত করেছে। চারটি দানবাক্সে আসা নগদ টাকা গণনা করার জন্য ১৪ জনের একটি দল রয়েছে, যার মধ্যে ১১ জন ব্যাঙ্ক কর্মী এবং ৩ জন মন্দির ট্রাস্টের সদস্য।