গুকেশের ‘রাজা’ ছুড়ে ফেলে দিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী! বিতর্ক দাবার দুনিয়ায়

টেক্সাসের আর্লিংটনে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনী ইভেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হন বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশ এবং ওয়ার্ল্ড র ্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা হিকারু নাকামুরা।

Published on: Oct 6, 2025, 17:18:41 IST
By ,
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দাবা জগতে প্রভাব

ফাইল ছবি (HT_PRINT)
ফাইল ছবি (HT_PRINT)

এই ঘটনাটি ঐতিহ্য এবং বিনোদনের মধ্যে দাবার নতুন সমীকরণকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। এক পক্ষ যেখানে হিকারুর এই আচরণকে খেলার রীতিনীতি বিরোধী বলে সমালোচনা করছে, অন্য পক্ষ এটিকে দাবাকে আরও আকর্ষণীয় এবং যুব সমাজের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ বলে মনে করছে।

এই ইভেন্টের দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচগুলি ভারতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে গুকেশ ও তাঁর টিম ইউএসএ-র বিরুদ্ধে ০-৫ এর হারের বদলা নিতে চাইবে। রাজাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক পরের পর্বের ম্যাচগুলিতে বাড়তি উত্তাপ যোগ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ঘটনার পটভূমি ও বিতর্ক

টেক্সাসের আর্লিংটনে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনী ইভেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হন বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশ এবং ওয়ার্ল্ড র ্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা হিকারু নাকামুরা।

দশ মিনিটের র‍্যাপিড এবং পাঁচ মিনিটের ব্লিটজ গেমে গুকেশ ড্র ধরে রাখলেও, শেষ পর্যন্ত এক মিনিটের বুলেট গেমেই পরাজিত হন।

ম্যাচ জেতার পরই হিকারু নাকামুরা উচ্ছ্বসিত হয়ে গুকেশের বোর্ডের রাজা গুটিটি তুলে নিয়ে সজোরে দর্শকদের দিকে ছুঁড়ে দেন এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, গুকেশ শান্তভাবে সেই সময় বোর্ডের বাকি গুটিগুলি সাজিয়ে নিচ্ছিলেন। তাঁর এই শান্ত ও সংযত আচরণ প্রশংসিত হয়েছে।

নাকামুরার ব্যাখ্যা এবং আয়োজকদের বক্তব্য

দাবার মতো ঐতিহ্যবাহী খেলায় এই ধরনের আচরণ ভালোভাবে নেননি অনেকেই। বিশেষ করে দাবার রাজা গুটিটিকে খেলার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, তাই প্রতিপক্ষের রাজাকে ছুঁড়ে ফেলাকে 'অশালীন' ও 'অশ্রদ্ধার' প্রতীক হিসেবে দেখছেন অনেকে।

প্রতিক্রিয়া: রাশিয়ান দাবা গ্রেট ভ্লাদিমির ক্রামনিক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে এটিকে 'আধুনিক দাবার অবক্ষয়ের' লক্ষণ বলে মন্তব্য করেছেন।

আয়োজকদের সমর্থন: বিতর্কের মুখে পড়ে আয়োজকরা জানিয়েছেন, এটি আসলে আগে থেকে পরিকল্পনা করা একটি 'শোম্যানশিপ' ছিল। ই-স্পোর্টসের মতো করে দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি করার জন্য খেলোয়াড়দের এই ধরনের 'নাটকীয়তা' (Theatrics) করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছিল। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে 'রাজা ভেঙে ফেলার' কথাও বলা হয়েছিল।

নাকামুরার যুক্তি: নাকামুরা নিজেও তাঁর কাজের জন্য অনুতপ্ত হননি। তিনি পরে বলেন, "আমি জিতলে সবসময়ই রাজা ছুঁড়ে ফেলতাম। নাটকীয় বুলেট গেমে জেতার কারণে এটি আরও দারুণ হয়েছে। আমি আশা করি ভক্তরা উপভোগ করেছেন!"

সম্প্রতি আমেরিকায় অনুষ্ঠিত একটি প্রদর্শনীমূলক দাবা প্রতিযোগিতার সময় এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী থাকল দাবা বিশ্ব। 'চেকম্যাট: ইউএসএ ভার্সেস ইন্ডিয়া' (Checkmate: USA vs India) ইভেন্টে ভারতীয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন গ্র্যান্ডমাস্টার ডি গুকেশকে হারানোর পর, আমেরিকান গ্র্যান্ডমাস্টার হিকারু নাকামুরা গুকেশের বোর্ডের 'রাজা' (King) তুলে নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলেন। এই অতি-নাটকীয় অঙ্গভঙ্গিটি দাবা মহলে 'খেলাধুলার প্রতি অশ্রদ্ধা' নাকি নিছকই 'বিনোদনমূলক শোম্যানশিপ' তা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More