'খুব কড়া কোনও...,' বাধ্যতামূলক ভোটদান পদ্ধতি প্রণয়নের পক্ষে দেশের প্রধান বিচারপতি
ভোটদান বাধ্যতামূলক করার পক্ষে প্রধান বিচারপতির অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও বলেন, 'আমার অভিজ্ঞতা বলে, শিক্ষিত এবং স্বচ্ছল ব্যক্তিদের তুলনায় আর্থিক ভাবে দুর্বলরা বেশি ভোট দেন।'
দেশের আমজনতাকে ভোটদানে উৎসাহিত করতে সার্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। এই মর্মেই সুপ্রিম কোর্টের ভাবনা হল, দেশে বাধ্যতামূলক ভোটদান পদ্ধতি প্রণয়ন করা। স্বয়ং শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নিজেই এই পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর কথায়, 'কখনও কখনও মনে হয়, আমাদের কিছু বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। খুব কড়া কোনও ব্যবস্থা নয়। কিন্তু এমন একটা বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা, যেখানে মানুষ আরও বেশি করে ভোটদান করে।'

সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়েছে যেখানে ভোটদানের হার বাড়ানোর লক্ষ্যে নোটা (নান অফ দ্য অ্যাবভ)-এর প্রয়োগ এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে সওয়াল করা হয়েছে। সেন্টার ফর লিগ্যাল পলিসি এবং শিব খেরার তরফে দায়ের করা এই মামলার শুনানি চলাকালীনই এই অবস্থান তুলে ধরেছেন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। শীর্ষ আদালতে দায়ের করা এই মামলার শুনানিতে মামলাকারীদের আইনজীবী অরবিন্দ দাতার এবং প্রশান্ত ভূষণের দাবি ছিল, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৫৩(২) ধারা পরিবর্তন করতে হবে। তাঁদের যুক্তি, যে কোনও ভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোনও প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করা যাবে না। এক্ষেত্রে নোটার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সংস্থা বা সংগঠন বা রাজ্যের ভোটে যদি এক জন প্রার্থীই থাকেন এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁকে জয়ী না করে যদি ভোটের ব্যবস্থা করা হয় এবং সেখানে দেখা যায় যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী নোটার থেকে কম ভোট পেয়েছেন, তা হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নির্বাচনকে বাতিল বলে ঘোষণা করতে হবে।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সওয়ালকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আর বেঙ্কটরামানি এই মামলার আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, 'নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার অধিকার একমাত্র সংসদের। আবেদনকারীরা অনুমানের ভিত্তিতে অনেক যুক্তি পেশ করছেন।' কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেলের এই যুক্তি গ্রহণ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বাগচীর পর্যবেক্ষণ, 'মামলাকারীদের এই আবেদন কাল্পনিক নয়। এটা সম্ভব। এর ফলে অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং নোটার মধ্যে প্রতিযোগিতা হতে পারে।' অন্যদিকে, ভোটদান বাধ্যতামূলক করার পক্ষে প্রধান বিচারপতির অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও বলেন, 'আমার অভিজ্ঞতা বলে, শিক্ষিত এবং স্বচ্ছল ব্যক্তিদের তুলনায় আর্থিক ভাবে দুর্বলরা বেশি ভোট দেন।' এরপরেই বিচারপতি বাগচীর পর্যবেক্ষণের সূত্রেই প্রধান বিচারপতি বলেন, 'গ্রামীণ এলাকায় ভোটের দিনটিকে উত্সবের দিন হিসেবে দেখা হয়। মহিলারা সে দিন তাঁদের অন্যান্য কাজ থেকে অব্যাহতি নেন। তাঁরা গান গেয়ে, দলবদ্ধ ভাবে ভোটদান করতে পোলিং বুথে যান।' এই মামলার পরবর্তী শুনানি করা হবে হোলির ছুটির পরে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশন বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্রে চালু করেছিল নোটা (নান অফ দ্য অ্যাভব)-বিকল্প। অর্থাৎ, অংশগ্রহণকারী কোনও প্রার্থীকে পছন্দ না হলে ভোটাররা ভোটযন্ত্রে ওই বিকল্প বেছে নিতে পারেন। কিন্তু কোনও কেন্দ্রে নোটায় সর্বাধিক ভোট পড়লেও সেখানে ভোট বাতিলের কোনও সংস্থান নেই।
E-Paper

