CJI-Rahul Gandhi Meeting:'সুপ্রিম কোর্টের দরজা সকলের জন্য খোলা!' কেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাতে 'না' প্রধান বিচারপতির?

CJI-Rahul Gandhi Meeting: লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে সোমবার বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তাঁরা একটি স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন।

Published on: Oct 12, 2026, 11:36:51 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

CJI-Rahul Gandhi Meeting: সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট। ঠিক সেই সময় লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। যদিও সেই অনুরোধ খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (HT_PRINT)
দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (HT_PRINT)

লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে সোমবার বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তাঁরা একটি স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন। যদিও প্রধান বিচারপতি তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে চাননি বলেই খবর। বিরোধী নেতারা চাইছেন, ভোট চুরি বন্ধ করা, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটদানে ফিরে যাওয়া। সেই মতো প্রধান বিচাপতির কাছে একটা স্মারক লিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন তাঁরা।

যদিও সূত্রের খবর, প্রধান বিচারপতির তরফে ইমেলের মাধ্যমে দুই নেতাকে তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছে, যে বিষয়গুলি নিয়ে তাঁরা আলোচনা করতে চেয়েছিলেন, সেগুলি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। তাই এই পরিস্থিতিতে এমন বৈঠক করা ঠিক হবে না। আদালত সূত্রে খবর, প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, প্রশাসনিক স্তরে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার এক্তিয়ার আদালতের নেই। আদালতের কাজ হল যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় পিটিশন বা আবেদন শুনে তার ওপর রায়দান করা। পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি আরও উল্লেখ করেছেন যে, দেশের শীর্ষ আদালত হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের দরজা 'সকলের জন্য ২৪ ঘণ্টাই খোলা' রয়েছে এবং প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদালত সর্বদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সূত্রের খবর, বিরোধী শিবিরের পাঠানো চিঠির জবাবে মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।

প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন সংক্রান্ত এই সমস্ত অভিযোগের মামলাগুলি ইতিমধ্যেই দেশের শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাই আদালতের বাইরে এই নিয়ে কোনো প্রশাসনিক আলোচনা করা সম্ভব নয়। দেশের সাংবিধানিক কাঠামো স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযোগ বিবেচনা করা বা তার ভিত্তিতে কোনো নির্বাহী পদক্ষেপ করা আদালতের প্রশাসনিক এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং অন্যান্য আইনি ধারা অনুযায়ী আদালতের বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা রয়েছে। বিরোধীরা যদি এই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আবেদন বা পিটিশন দাখিল করেন, তবে নিয়মানুযায়ী পরবর্তী শুনানির দিন তা বিচার্য হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট সবসময় দায়বদ্ধ এবং আদালতের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন প্রধান বিচারপতি।

প্রধান বিচারপতির এই বার্তার পরেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দিকে বিরোধী দলগুলির মার্চ সংঘটিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিতর্কিত নেতৃত্ব এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে লাগাতার প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং বিরোধী দলগুলি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সোমবারের এই মার্চ কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়, বরং এটি সমগ্র ভারতবাসীর প্রতিবাদ। মোদী সরকারের নীতি এবং নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকা ও 'ভোট চুরির' বিরুদ্ধে দেশের প্রতিটি কোণ থেকে চাপ আরও বাড়াতে চায় বিরোধী জোট।