Ladakh News: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৫০০ মিটার উচ্চতায় আদালত! ইতিহাস গড়ে লেহ-তে চালু লাদাখ বেঞ্চ

Ladakh News: লাদাখে নতুন বেঞ্চ চালু হওয়ায় হাইকোর্টে বিচারাধীন বা উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন এমন মামলার ক্ষেত্রে লাদাখের বাসিন্দাদের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বাইরে যেতে হবে না।

Published on: Oct 19, 2026, 16:39:45 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Ladakh News: ১৯২৮ সালে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠার প্রায় এক শতাব্দী পর অবশেষে স্থায়ী বেঞ্চ পেল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ। রবিবার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত লেহ শহরে এই নতুন বেঞ্চের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। দেশের কোনও হাইকোর্টের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত বেঞ্চ হিসেবে এক ঐতিহাসিক নজির গড়ল।

ইতিহাস গড়ে লেহ-তে চালু লাদাখ বেঞ্চ (@lg_ladakh X)
ইতিহাস গড়ে লেহ-তে চালু লাদাখ বেঞ্চ (@lg_ladakh X)

রবিবার অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, 'আমাকে জানানো হয়েছে যে আমাদের দেশের কোনও হাইকোর্ট এর আগে এত উচ্চতায় বসেনি। তবে আজকের দিনে আদালত কতটা উঁচুতে বসেছে তা আসল বিষয় নয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আদালত সাধারণ মানুষের কতখানি কাছে এসে দাঁড়াল।' লাদাখ একটি বিশাল এবং পার্বত্য এলাকা বিশিষ্ট কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। এখানকার প্রত্যন্ত এলাকাগুলি থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আদালতে হাজির হওয়া বা আইনি সহায়তা নেওয়া অনেক সময়ই অত্যন্ত কঠিন। বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের জন্য একটি অভিন্ন হাইকোর্ট রয়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই হাইকোর্টের প্রধান বেঞ্চ রয়েছে জম্মু ও শ্রীনগরে। লাদাখে নতুন বেঞ্চ চালু হওয়ায় হাইকোর্টে বিচারাধীন বা উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন এমন মামলার ক্ষেত্রে লাদাখের বাসিন্দাদের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বাইরে যেতে হবে না।

১৯২৮ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন প্রধান বিচারপতি লালা কানওয়ার সেন এবং অন্য দুই বিচারপতিকে নিয়ে পথচলা শুরু করেছিল জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্ট। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পুষ্পেন্দ্র কুমার ভাটি এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের উপস্থিতিতে লাদাখের বিচার ব্যবস্থার ঐতিহাসিক বিবর্তন তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি। তিনি জানান, লাদাখের দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং তীব্র শীতের কারণে আদালতে পৌঁছে বিচার চাওয়া সাধারণ মানুষের কাছে মামলার খরচের চেয়েও অনেক বেশি কষ্টসাধ্য ও কঠিন ছিল।২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর জম্মু ও কাশ্মীরের পুনর্গঠনের পর লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে কেন্দ্র। তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়—জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ। এই পুনর্গঠনের পর আগের হাইকোর্টটিই জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের অভিন্ন হাইকোর্ট হিসেবে কাজ করতে থাকে। জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের নাম বদলে 'হাইকোর্ট অব জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর অ্যান্ড লাদাখ' করা হয়। সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আদালতের লেটারহেডে কেবল নাম থাকা আর মানুষের দোরগোড়ায় আদালত থাকা এক বিষয় নয়। আজ হাইকোর্ট নিজেই গিরিপথ পার হয়ে লাদাখের মানুষের কাছে এসে পৌঁছেছে, লাদাখের মানুষকে আর গিরিপথ ডিঙিয়ে আদালতে যেতে হবে না।'

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লাদাখের উপরাজ্যপাল (LG) ভি. কে. সাক্সেনা এবং ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরমানি। তাঁদের উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, শুধুমাত্র লেহ শহরে একটি বেঞ্চ তৈরি করলেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পুরোপুরি বিচার পৌঁছাবে না। এর জন্য প্রযুক্তি ও আইনি সহায়তা পরিষেবাকে (Legal Aid Services) প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। তাঁর কথায়, 'ন্যায়বিচারের সূচনা আদালতের চার দেওয়ালের ভেতর থেকে নয়, শুরু হয় বিচারপ্রার্থীর বাড়ির দরজা থেকে।' লাদাখের আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এক নজিরবিহীন ঘোষণা করে প্রধান বিচারপতি জানান, লাদাখ বেঞ্চের আইনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত ভিডিও কনফারেন্সিং পরিকাঠামো গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সুপ্রিম কোর্ট লাদাখ থেকে আসা সমস্ত মামলার জন্য সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিন বরাদ্দ করবে এবং সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দিনভর সেই শুনানি পরিচালনা করবে।