US Senator Warning to India and China: 'চিন ও ভারত, অন্য কোথাও থেকে তেল ও গ্যাস কেনাই ভালো', হুমকি উড়ে এল ওয়াশিংটন থেকে
বিলটি পাশ হওয়ার পরই ভারত ও চিনকে সরাসরি সতর্ক করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “চিন ও ভারত, অন্য কোথাও থেকে তেল ও গ্যাস কেনাই ভালো।”
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর বড় শুল্ক চাপানোর পথ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আমেরিকায়। বুধবার মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ বিলটি ২৬২-১৫৯ ভোটে পাশ হয়েছে। এর ফলে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়ার বড় জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই বিল নিজে থেকে ভারত বা চিনের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাচ্ছে না। আইন কার্যকর হওয়ার পরে ট্রাম্প সেই ক্ষমতা ব্যবহার করবেন কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

বিলটি পাশ হওয়ার পরই ভারত ও চিনকে সরাসরি সতর্ক করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “চিন ও ভারত, অন্য কোথাও থেকে তেল ও গ্যাস কেনাই ভালো।” তাঁর বক্তব্য, রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে মস্কোকে শক্তি জোগানো বন্ধ করা প্রয়োজন। রাশিয়ার উপর চাপ বাড়ানোই এই আইনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।
মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হওয়া এই বিলটি মূলত রাশিয়ার অর্থনৈতিক ক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যে তৈরি। রাশিয়ার নেতৃত্ব, ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি ক্ষেত্রের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে। আমেরিকার অভিযোগ, এই ধরনের জাহাজের মাধ্যমে রাশিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল বিক্রি করে চলেছে।
বিল অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল বা গ্যাসের পাঁচ বড় ক্রেতা দেশের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে। ভারত ও চিন সেই তালিকার গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশ। এছাড়াও আজারবাইজান, হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়ার মতো দেশগুলিও সম্ভাব্য ভাবে এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।
বিলটি আমেরিকার সেনেটেও আগেই পাশ হয়েছিল। সেখানে ৮৬-১১ ভোটে অনুমোদন পাওয়ার পর বুধবার হাউসে ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। হাউসে ২০৩ জন রিপাবলিকান, ৫৮ জন ডেমোক্র্যাট এবং এক জন নির্দল সদস্য বিলের পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ছিলেন সাত রিপাবলিকান এবং ১৫২ ডেমোক্র্যাট। অর্থাৎ দুই দলেরই একাংশ বিলটিকে সমর্থন করেছে, যদিও শুল্ক সংক্রান্ত প্রেসিডেন্টের অতিরিক্ত ক্ষমতা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ আপত্তি তুলেছে।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য রিচার্ড নিলের বক্তব্য, তাঁদের আপত্তির মূল জায়গা হল প্রেসিডেন্টকে আরও বেশি শুল্ক ক্ষমতা দেওয়া। হাউস ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের একাংশও মনে করছে, অতিরিক্ত শুল্কের ক্ষমতা দিলে আমেরিকার ভোক্তা ও অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সমর্থন থাকলেও বিলের কাঠামো নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে মতভেদ রয়েছে।
সেনেটর জিন শাহিনও রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর প্রসঙ্গ তুলে ভারত ও চিনের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাশিয়ার তেল কম দামে বিভিন্ন দেশে পৌঁছচ্ছে এবং রাশিয়া সেই আয় থেকে লাভবান হচ্ছে। তাই শুধু রাশিয়ার উপর নয়, রাশিয়ার তেল কিনছে এমন দেশগুলির উপরও চাপ বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।
অন্য দিকে, ভারতের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। এই তেলের দাম, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা—সবকিছু বিবেচনা করেই নয়াদিল্লি আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হলে ভারতীয় রফতানি ও বাণিজ্যের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
এই মুহূর্তে অবশ্যই ট্রাম্প ভারত বা চিনের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এমন কোনও ঘোষণা হয়নি। বিলটি এখন তাঁর অনুমোদনের অপেক্ষায়। ফলে আগামী দিনে ট্রাম্প এই ক্ষমতা কী ভাবে ব্যবহার করেন, ভারত ও চিনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলানোর কোনও পথ তৈরি হয় কি না এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর কী প্রভাব পড়ে, সেটাই নজরে থাকবে।
এদিকে বিলটি এমন সময় হাউসে পাশ হল, যখন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নির্ধারিত আমেরিকা সফরও সামনে রয়েছে। ফলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা, বাণিজ্য এবং শুল্কনীতি নিয়ে ওয়াশিংটন-বেজিং সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও এখন মূল বিষয়—রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য বজায় রেখে আমেরিকার সম্ভাব্য শুল্কচাপ কী ভাবে সামলানো হবে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


