China's New AI Model Update: চিনের নতুন AI মডেল GLM-5.2 ঘিরে চর্চা, ভারতের জন্য সতর্কবার্তা নাকি নতুন সুযোগ?

বেজিং-ভিত্তিক স্টার্টআপ Z.AI (আগের নাম Zhipu AI) তাদের নতুন প্রজন্মের AI মডেল GLM-5.2 প্রকাশ্যে এনেছে। ইতিমধ্যেই এই মডেলকে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের এআই মডেলগুলির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Published on: Jul 2, 2026, 11:30:14 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

China's New AI Model Update: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দুনিয়ায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠল। বেজিং-ভিত্তিক স্টার্টআপ Z.AI (আগের নাম Zhipu AI) তাদের নতুন প্রজন্মের AI মডেল GLM-5.2 প্রকাশ্যে এনেছে। ইতিমধ্যেই এই মডেলকে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের এআই মডেলগুলির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে কোডিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং স্বয়ংক্রিয় AI এজেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে GLM-5.2 উল্লেখযোগ্য দক্ষতা দেখিয়েছে। পাশাপাশি এটি পরিচালনার খরচও তুলনামূলকভাবে কম এবং এটি একটি ওপেন-ওয়েট (Open-weight) মডেল হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ডেভেলপাররা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এটি পরিবর্তন ও উন্নত করতে পারবেন।

বেজিং-ভিত্তিক স্টার্টআপ Z.AI (আগের নাম Zhipu AI) তাদের নতুন প্রজন্মের AI মডেল GLM-5.2 প্রকাশ্যে এনেছে। (REUTERS)
বেজিং-ভিত্তিক স্টার্টআপ Z.AI (আগের নাম Zhipu AI) তাদের নতুন প্রজন্মের AI মডেল GLM-5.2 প্রকাশ্যে এনেছে। (REUTERS)

২০১৯ সালে বেজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত Z.AI অল্প সময়ের মধ্যেই চিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এএআই সংস্থায় পরিণত হয়েছে। তাদের নতুন মডেলটি মূলত এজেন্টিক এএআই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সাধারণ চ্যাটবট যেখানে মূলত প্রশ্নের উত্তর দেয়, সেখানে এজেন্টিক এএআই নিজে থেকেই পরিকল্পনা করতে, দীর্ঘমেয়াদি কাজ সম্পন্ন করতে এবং জটিল সফটওয়্যার প্রকল্প পরিচালনা করতে সক্ষম।

GLM-5.2-এর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল এর ১০ লক্ষ টোকেনের কনটেক্সট উইন্ডো। ফলে বিশাল আকারের কোডবেস, দীর্ঘ নথি বা বড় ডেটাসেট বিশ্লেষণের সময়ও এটি প্রাসঙ্গিক তথ্য ধরে রাখতে পারে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক পরীক্ষায় মডেলটি কোডিং ও এএআই এজেন্ট সক্ষমতায় পশ্চিমা বিশ্বের শীর্ষ মডেলগুলির কাছাকাছি ফলাফল দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি চিনের নিজস্ব হার্ডওয়্যারে এটি চালানোর উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, যা প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে ওপেন-ওয়েট মডেল হওয়ার কারণে এর কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেভেলপাররা যেমন নিজেদের সুবিধামতো মডেলটি উন্নত করতে পারবেন, তেমনই অসাধু ব্যক্তিরাও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে ক্ষতিকর কাজে এটি ব্যবহার করতে পারেন। ফলে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

চিনের এই অগ্রগতি ভারতের জন্য কতটা উদ্বেগের বিষয়? বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং এটিকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা Indusface-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আশিস ট্যান্ডনের মতে, ভারতের উচিত শুধুমাত্র একটি বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় এএআই, বাণিজ্যিক উন্নত এএআই এবং ওপেন সোর্স প্রযুক্তি- এই তিনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী এএআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ একটি নির্দিষ্ট এএআই মডেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, বরং নিজস্ব উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এবং শিল্পক্ষেত্রে এএআই-এর বিস্তৃত ব্যবহার নিশ্চিত করা। কারণ ভবিষ্যতে আর্থিক পরিষেবা, স্বাস্থ্য, উৎপাদন শিল্প এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় এএআই-এর ব্যবহার দ্রুত বাড়বে। সেই বাস্তবতায় প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ভারতের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More