Bangladesh Teesta Project: তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা চিনের, ভারতের উদ্বেগের জবাবে কী বলল বেজিং?

চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, 'চিন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনও তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত হওয়া উচিত।'

Published on: Jun 29, 2026, 14:33:14 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (Teesta River Comprehensive Management and Restoration Project বা TRCMRP) ঘিরে ভারত-চিন কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হল। ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের মধ্যেই বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থনের বার্তা দিল চিন। একইসঙ্গে বেজিং জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা কোনও তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয় এবং এই সহযোগিতায় বাইরের কোনও দেশের প্রভাব থাকা উচিত নয়।

বেজিং জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা কোনও তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয় এবং এই সহযোগিতায় বাইরের কোনও দেশের প্রভাব থাকা উচিত নয়।
বেজিং জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা কোনও তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয় এবং এই সহযোগিতায় বাইরের কোনও দেশের প্রভাব থাকা উচিত নয়।

চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, 'চিন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনও তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত হওয়া উচিত।' তিনি আরও বলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাংলাদেশের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং চিন এই প্রকল্পে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

গুও জিয়াকুনের কথায়, 'বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে আরও সমন্বয় গড়ে তুলতে এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী চিন।' অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা খলিলুর রহমান জানান, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা প্রথমবারের মতো যৌথভাবে একটি কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Technical Feasibility Study) করবেন। তাঁর দাবি, এর আগে বিষয়টি এতটা অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সমীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে চিন এই প্রকল্পে সর্বাত্মক সহায়তা করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ও চিন নদী ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB) এবং চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাওয়ারচায়না (POWERCHINA)-র মধ্যে তিস্তা প্রকল্প সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের (MoU) মেয়াদ বাড়ানো হয়। এর ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে।

এই ঘটনাপ্রবাহের দিকে কড়া নজর রাখছে ভারত। কারণ, তিস্তা অববাহিকার একটি অংশ ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। 'চিকেনস নেক' নামে পরিচিত এই সরু করিডরই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থল সংযোগ। কূটনৈতিক ও কৌশলগত বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলের এত কাছে চিনের বড় ধরনের অবকাঠামোগত উপস্থিতি ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিদেশি প্রভাব বৃদ্ধিকে দিল্লি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

যদিও বেজিং বারবার জোর দিয়ে বলছে, তিস্তা প্রকল্প সম্পূর্ণরূপে একটি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং এর সঙ্গে কোনও ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নয়। তবে প্রকল্পের অগ্রগতি এবং চিনের ভূমিকা আগামী দিনে ভারত-চিন-বাংলাদেশ ত্রিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More