Dalai Lama’s reincarnation: দলাই লামার উত্তরাধিকার নিয়ে ফের ভারতকে চাপে রাখার কৌশল চিনের, কী বলল বেজিং?
Dalai Lama’s reincarnation: পঞ্চদশ দলাই লামা মনোনয়ন নিয়ে চিন এবং চতুর্দশ দলাই লামার মধ্যে চাপানউতোর চলছে। গত বছরে নিজের ৯০তম জন্মদিনের আগে দলাই লামা তাঁর উত্তরসূরি মনোনয়নের বার্তা দিয়েছেন।
Dalai Lama’s reincarnation: তিব্বত এবং দলাই লামার উত্তরাধিকার বাছাই নিয়ে ফের ভারতকে চাপে রাখার কৌশল নিল চিন। সেন্ট্রাল তিব্বত অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিটিএ)-এর নতুন রাজনৈতিক নেতা শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়েই বেজিং স্পষ্ট জানিয়েছে যে, পরবর্তী দালাই লামা নির্বাচন সম্পূর্ণ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে ভারতের কোনও ভূমিকা থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে চিনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় আহ্বান জানানো হয়েছে, ভারত যেন এমন কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে আশ্রয় বা মঞ্চ না দেয়, যারা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে 'তিব্বতের স্বাধীনতা' আন্দোলনকে সমর্থন করে।

চিনা দূতাবাস কী বলেছে?
রবিবার ভারতের চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং বলেন, দলাই লামার উত্তরসূরি বাছাই একটি সুদীর্ঘ ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি জানান, এই উত্তরসূরি বাছাই প্রক্রিয়াটি যুগ যুগ ধরে চলে আসা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং ঐতিহাসিক প্রথা অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়ে আসছে, যার জন্য সর্বদাই চিনের কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তাঁর কথায়, 'দলাই লামার উত্তরসূরি বাছাই দীর্ঘকাল ধরে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং ঐতিহাসিক প্রথা মেনেই হয়ে থাকে, যার জন্য শতাব্দী ধরে চিনের কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়ে আসছে।' চিনা মুখপাত্র আরও মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান অর্থাৎ স্বয়ং চতুর্দশ দলাই লামাকেও একসময় ঠিক একই আইনি ও ধর্মীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি সাফ জানিয়েছেন, 'দলাই লামার উত্তরসূরি বাছাইয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে চিনের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে বাইরের কোনও দেশের হস্তক্ষেপ করা একেবারেই উচিত নয়।'
দলাই লামার উত্তরসূরি নিয়ে তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের দাবিকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে বেজিং। চিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তথাকথিত ‘সেন্ট্রাল টিবেটান অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা তিব্বতের নির্বাসিত সরকারকে বিশ্বের কোনও সার্বভৌম দেশই রাজনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে কথা বলার কোনও আইনি অধিকারই তাদের নেই।
তিব্বত ইস্যু নিয়ে চিন
তিব্বত ইস্যুতে ভারতের অবস্থান ঠিক কী, তা মনে করিয়ে দিয়ে চিনা দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বেজিং আশা করে নয়া দিল্লি তার অতীতে দেওয়া কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করে চলবে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি যে, ভারত তার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি রক্ষা করে চলবে। ‘তিব্বতের স্বাধীনতা’র পক্ষে প্রচার বা উস্কানি দেয় এমন কোনও কার্যকলাপের জন্য নিজেদের মাটিকে ব্যবহার করতে দেবে না এবং এই ধরনের শক্তির হাতে কোনও মঞ্চ তুলে দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। একই সঙ্গে, দলাই লামার উত্তরসূরি বাছাই ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ করা থেকেও বিরত থাকবে ভারত।'
পঞ্চদশ দলাই লামা মনোনয়ন নিয়ে চিন এবং চতুর্দশ দলাই লামার মধ্যে চাপানউতোর চলছে। গত বছরে নিজের ৯০তম জন্মদিনের আগে দলাই লামা তাঁর উত্তরসূরি মনোনয়নের বার্তা দিয়েছেন। ভারতে স্বেচ্ছানির্বাসিত সর্বোচ্চ বৌদ্ধ ধর্মগুরু বলেন, ‘পরবর্তী দলাই লামার মনোনয়নের দায়িত্ব গাহদেন ফোড্রাং ট্রাস্টের। এই প্রক্রিয়ায় বাইরের কাউকেই হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না।’ যদিও চুপ থাকেনি চিনও। সেই সময় শি জিনপিংয়ের প্রশাসন জানায়, চিনের অনুমোদন ছাড়া দলাই লামার মনোনয়ন হবে না। উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে তিব্বতে চিনা শাসনের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে আসেন দলাই লামা। তিনি উত্তর ভারতের পার্বত্য শহর ধর্মশালায় একটি নির্বাসিত সরকার প্রতিষ্ঠা করেন।
E-Paper

