চিনের ৫০০০ টনের সুড়ঙ্গ খোঁড়ার যন্ত্রেই ভারতের পরিকাঠামোতে ধাক্কার আশঙ্কা! সীমান্তে নতুন চাপ তৈরির কৌশল বেজিংয়ের?

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের নতুন রফতানি নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসছে টানেল বোরিং মেশিন-সহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক নির্মাণ যন্ত্র। এমনকি উঁচু পাহাড়ি এলাকায় কংক্রিট ছড়ানোর বিশেষ যন্ত্রপাতির উপরেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। চলতি মাসেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা।

Published on: Nov 2, 2026, 13:56:54 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়নের পথে এবার নতুন বাধা হয়ে উঠতে পারে চিন। বিরল খনিজের পর এ বার নির্মাণশিল্পের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়েও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পথে হাঁটছে বেজিং। চিনের নতুন রফতানি বিধির নিশানায় রয়েছে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার বিশাল যন্ত্র বা টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম)। কয়েক হাজার টন ওজনের এই যন্ত্র দিয়েই পাহাড়ের ভিতর দিয়ে রেলপথ, সড়কপথ এবং মেট্রোর সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়। বিশ্ববাজারে এই যন্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে চিনের বড় আধিপত্য রয়েছে। আর ভারতের পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিও অনেকাংশে চিনা যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশের উপর নির্ভরশীল। ফলে বেজিংয়ের নতুন সিদ্ধান্তে দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চিনের ৫০০০ টনের সুড়ঙ্গ খোঁড়ার যন্ত্রেই ভারতের পরিকাঠামোতে ধাক্কার আশঙ্কা! সীমান্তে নতুন চাপ তৈরির কৌশল বেজিংয়ের?
চিনের ৫০০০ টনের সুড়ঙ্গ খোঁড়ার যন্ত্রেই ভারতের পরিকাঠামোতে ধাক্কার আশঙ্কা! সীমান্তে নতুন চাপ তৈরির কৌশল বেজিংয়ের?

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের নতুন রফতানি নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসছে টানেল বোরিং মেশিন-সহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক নির্মাণ যন্ত্র। এমনকি উঁচু পাহাড়ি এলাকায় কংক্রিট ছড়ানোর বিশেষ যন্ত্রপাতির উপরেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। চলতি মাসেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা। চিনের যুক্তি, এই ধরনের যন্ত্রপাতি শুধু বেসামরিক কাজে নয়, সামরিক পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা সম্ভব। অর্থাৎ এগুলির দ্বৈত ব্যবহার বা ডুয়াল ইউজের সম্ভাবনা রয়েছে। যে সব দেশের সঙ্গে চিনের সীমান্ত বিবাদ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ম কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে বেজিং।

এই সিদ্ধান্তের পিছনে ভারতকে লক্ষ্য করার সম্ভাবনা দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। কারণ হিমালয় সীমান্তে ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র। দ্রুত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন রাস্তা, রেলপথ এবং সুড়ঙ্গ। এই প্রকল্পগুলির জন্য বিপুল সংখ্যায় অত্যাধুনিক টানেল বোরিং মেশিন প্রয়োজন। চিনের নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে সেই কাজের গতি কমতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের বাজার-আধিপত্যের কারণে অল্প সময়ের মধ্যে বিকল্প খুঁজে পাওয়া ভারতের পক্ষে সহজ হবে না। টানেল বোরিং মেশিন তৈরির বিশ্ববাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ চিনের দখলে বলে জানিয়েছে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম। শুধু নতুন যন্ত্র কেনাই নয়, পুরনো যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ নতুন বিধিনিষেধের আওতায় যন্ত্রাংশের রফতানিও থাকছে। ফলে কোনও যন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত বিকল্প যন্ত্রাংশ পাওয়া কঠিন হতে পারে।

এর আগে ২০২৪ সালেও চিনের রফতানি নিয়ন্ত্রণের প্রভাব পড়েছিল ভারতের পরিকাঠামো ক্ষেত্রে। জার্মান সংস্থা হেরেনকনেখটের চিনে তৈরি টানেল বোরিং মেশিন ভারতে বিক্রির ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হয়েছিল। মুম্বই-আমদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্প এবং দিল্লি মেট্রোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ওই যন্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।

তবে চিনের এই পদক্ষেপ ভারতের কাছে নতুন সুযোগও তৈরি করতে পারে। দেশীয় প্রযুক্তিতে টানেল বোরিং মেশিন তৈরির উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। আগামী পাঁচ বছরে সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজে প্রায় ৯.৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ভারতের। স্থানীয় নির্মাতাদের উৎসাহ দিতে ১.২ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা চলছে।

লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো সংস্থাও নিজস্ব প্রযুক্তিতে টানেল বোরিং মেশিনের নমুনা তৈরি করছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে নিজেরাই এই যন্ত্র তৈরি করতে পারবে তারা। তবে চিনের বিপুল উৎপাদন ক্ষমতা এবং কম দামের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সহজ হবে না।

সব মিলিয়ে, চিনের নতুন রফতানি বিধি ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় নির্মাণশিল্পকে শক্তিশালী করার তাগিদও বাড়াবে বেজিংয়ের এই পদক্ষেপ।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More