Chinese on Bangladesh Tank: বাংলাদেশের ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণে পাকিস্তানি গোলার তত্ত্ব, চিনা বিশ্লেষকদের দাবিতে বাড়ল বিতর্ক

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে লাইভ ফায়ারিংয়ের সময় ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল দুই সেনার। গুরুতর জখম হন এক আধিকারিক। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনা। তবে এখনও বিস্ফোরণের নির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি।

Published on: Sep 11, 2026, 10:53:41 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Chinese on Bangladesh Tank: বাংলাদেশ সেনার মহড়ায় ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণ ঘিরে এবার সামনে এল নতুন দাবি। চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে লাইভ ফায়ারিংয়ের সময় ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল দুই সেনার। গুরুতর জখম হন এক আধিকারিক। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনা। তবে এখনও বিস্ফোরণের নির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি। এর মধ্যেই চিনা প্রতিরক্ষা-ব্লগারদের একাংশের দাবি, সমস্যাটি হয়তো চিনা তৈরি ট্যাঙ্কে নয়, বরং পাকিস্তানে তৈরি ট্যাঙ্কের গোলায়।

বাংলাদেশ সেনার মহড়ায় ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণ ঘিরে এবার সামনে এল নতুন দাবি।
বাংলাদেশ সেনার মহড়ায় ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণ ঘিরে এবার সামনে এল নতুন দাবি।

৯ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ ঘটনা

৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনার প্রশিক্ষণ চলছিল। সেই সময় একটি ট্যাঙ্ক থেকে গুলি ছোড়ার পরই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় দুই সেনার মৃত্যু হয় এবং একজন আধিকারিক গুরুতর আহত হন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর বা আইএসপিআর ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানায়, বিস্ফোরণের কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।

চিনা ট্যাঙ্ক, পাকিস্তানি গোলা?

ঘটনার পর থেকেই অস্ত্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চিনা প্রতিরক্ষা-বিশ্লেষকদের একাংশ সামাজিক মাধ্যমে অনুমান করেছেন, বিস্ফোরণের পিছনে পাকিস্তানি তৈরি গোলার ভূমিকা থাকতে পারে। তাঁদের যুক্তি, বাংলাদেশ যে আধুনিকীকরণ করা টাইপ-৫৯ ট্যাঙ্ক ব্যবহার করে, তার কিছু সংস্করণে ১২৫ মিলিমিটার স্মুথবোর কামান রয়েছে।

এই ধরনের কামানের জন্য পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ বা পিওএফ ১২৫ মিলিমিটারের বিভিন্ন ধরনের ট্যাঙ্ক গোলা তৈরি করে। তাদের সরকারি পণ্যের তালিকায় ১২৫ মিলিমিটার উচ্চ-বিস্ফোরক ও ফিন-স্ট্যাবিলাইজড গোলার উল্লেখ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি ট্যাঙ্কে পাকিস্তানি উৎপাদনের গোলা ব্যবহৃত হয়ে থাকলে, সেই গোলার মান বা অবস্থাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

তবে চিনা ট্যাঙ্কের ত্রুটি প্রমাণিত নয়

এই ঘটনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বাংলাদেশ সেনা এখনও চিনা ট্যাঙ্ক কিংবা পাকিস্তানি গোলা—কোনওটিকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়ী করেনি। ফলে চিনা বিশ্লেষকদের এই দাবি এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ট্যাঙ্কের কামান বিস্ফোরণ বা ব্রিচ ভেঙে যাওয়ার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। গোলার ত্রুটি, পুরনো হয়ে যাওয়া বারুদ, ভুল ভাবে সংরক্ষণ, ফিউজ বা ইগনিশনের সমস্যা, অতিরিক্ত চাপ, কামানের নলের ভিতর কোনও বাধা, ভুল ভাবে গোলা লোড করা কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটি—সবকিছুরই সম্ভাবনা রয়েছে।

তদন্তেই মিলবে আসল উত্তর

আসল কারণ জানতে বিস্ফোরিত অস্ত্রাংশ পরীক্ষা করা, গোলার ব্যাচ বা লট নম্বর খতিয়ে দেখা, বারুদের অবস্থা পরীক্ষা করা এবং কামানের নল ও ব্রিচ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আগের ফায়ারিং রেকর্ড, রক্ষণাবেক্ষণের নথি এবং গোলা সংরক্ষণের ইতিহাসও দেখতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

আরও একটি ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশে এর আগেও একটি টাইপ-৫৯জি ট্যাঙ্কের ফায়ারিং-সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে তদন্ত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ঘটনাতেও গোলা-সংক্রান্ত সমস্যা খতিয়ে দেখা হয়েছিল এবং চিনা প্রযুক্তিবিদরা তদন্তে যুক্ত ছিলেন। ফলে নতুন বিস্ফোরণের পরে গোলার মান ও উৎস নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণ এখন শুধু একটি সামরিক দুর্ঘটনার ঘটনা নয়। চিনা অস্ত্রের সঙ্গে পাকিস্তানি গোলার ব্যবহার, গোলার গুণমান এবং পুরনো সামরিক সরঞ্জামের নিরাপত্তা—সবকিছু নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের জন্য পাকিস্তানি গোলাকেই দায়ী করা ঠিক হবে না। চূড়ান্ত উত্তর মিলবে তদন্তের রিপোর্টেই।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More