টানাপোড়েনের মাঝে ঢাকায় CII-এর প্রতিনিধিদল! ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে নয়া সমীকরণ?

ঢাকা সফরে যাচ্ছেন ভারতের শীর্ষ শিল্প-বাণিজ্য সংগঠন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি বা সিআইআই-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। সিআইআই ভারতের অন্যতম শীর্ষ শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠন। ১৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সংগঠন দেশের শিল্প, ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

Published on: Aug 17, 2026, 14:33:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যখন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময় ঢাকা সফরে যাচ্ছেন ভারতের শীর্ষ শিল্প-বাণিজ্য সংগঠন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি বা সিআইআই-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। এই প্রতিনিধিদলের সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দুই দেশের শিল্প ও বাণিজ্য মহল। দু’দিনের এই সফরে বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক বাধা কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ঢাকা সফরে যাচ্ছেন ভারতের শীর্ষ শিল্প-বাণিজ্য সংগঠন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি বা সিআইআই-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা।
ঢাকা সফরে যাচ্ছেন ভারতের শীর্ষ শিল্প-বাণিজ্য সংগঠন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি বা সিআইআই-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

সিআইআই ভারতের অন্যতম শীর্ষ শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠন। প্রায় ১৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সংগঠন দেশের শিল্প, ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভারতের সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয় তৈরির পাশাপাশি শিল্পায়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত নীতি নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করে সিআইআই।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই আলোচনায় প্রতিনিধিত্ব করছে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বা এফবিসিসিআই। সিআইআই-এর প্রতিনিধিদল ঢাকায় পৌঁছনোর আগে সংগঠনের একটি প্রস্তুতি দলও বাংলাদেশে গিয়ে বৈঠক ও আলোচনার পরিকাঠামো তৈরি করেছে বলে জানা গিয়েছে।

দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সফরের তাৎপর্য আরও বেড়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নানা টানাপোড়েনের মধ্যেই ভারতীয় শীর্ষ শিল্পপতিদের ঢাকা সফর নতুন করে অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সফরে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভারতের আরোপ করা কিছু বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। এই বিষয়টি শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

দু’দিনের সফরে ভারতীয় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বিদেশ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এফবিসিসিআই এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে। ভারতীয় দলটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী বলে জানা গিয়েছে। সেই ইচ্ছার কথা বাংলাদেশি বাণিজ্য মহলের মাধ্যমে সরকারকে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকায় ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারেক রহমান। এবার ভারতের শীর্ষ শিল্পপতিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে।

ভারতীয় প্রতিনিধিদলে রয়েছে গোদরেজ ইন্ডাস্ট্রিজ, অরবিন্দ লিমিটেড, মাহিন্দ্রা গ্রুপ, গোদরেজ কনজিউমার প্রোডাক্টস, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, ফোর্বস মার্শাল, নুমালিগড় রিফাইনারি, বেক্সিমকো আইওসি পেট্রোলিয়াম, অ্যাপোলো হসপিটালস-সহ একাধিক সংস্থার প্রতিনিধিরা।

শিল্প মহলের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার বাংলাদেশ। দুই দেশের বাজারে পণ্য প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানো এবং সীমান্ত পরিকাঠামোর উন্নতি করা গেলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তাই রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছেন শিল্পপতিরা।

এই সফর তাই শুধুমাত্র বাণিজ্যিক বৈঠক নয়। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা কতটা রয়েছে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে চলেছে সিআইআই-এর এই ঢাকা সফর।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More