CJP Protest in Assam: অসমে বৈঠকের আগেই আটক CJP নেতারা, পুলিশের বিরুদ্ধে খাবার না দেওয়ার অভিযোগ

রবিবার গুয়াহাটিতে দলের প্রথম ভলান্টিয়ার বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার সময় দলের একাধিক নেতা এবং কর্মীকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ। আটক হওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন দলের কো কনভেনর আশুতোষ রাঙ্কা, উত্তর ও উত্তরপূর্ব ভারতের দায়িত্বপ্রাপ্ত অঙ্কিত ভরদ্বাজ, যুগ্ম সম্পাদক প্রেমকাশ গোলু এবং অসমের সমন্বয়ক সাহিল।

Published on: Sep 28, 2026, 10:56:24 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

অসমে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই পুলিশের হাতে আটক হওয়ার অভিযোগ তুলল ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। রবিবার গুয়াহাটিতে দলের প্রথম ভলান্টিয়ার বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার সময় দলের একাধিক নেতা এবং কর্মীকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ। পরে অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আটক হওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন দলের কো কনভেনর আশুতোষ রাঙ্কা, উত্তর ও উত্তরপূর্ব ভারতের দায়িত্বপ্রাপ্ত অঙ্কিত ভরদ্বাজ, যুগ্ম সম্পাদক প্রেমকাশ গোলু এবং অসমের সমন্বয়ক সাহিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটক হওয়া কর্মীর সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ জনের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অসমে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই পুলিশের হাতে আটক হওয়ার অভিযোগ তুলল ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি (PTI)
অসমে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই পুলিশের হাতে আটক হওয়ার অভিযোগ তুলল ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি (PTI)

সিজেপির অভিযোগ, গুয়াহাটিতে নির্ধারিত বৈঠক শুরুর আগেই পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। দলের দাবি, বৈঠকটি ছিল শান্তিপূর্ণ এবং একটি বেসরকারি জায়গায় আয়োজন করা হয়েছিল। মূল জায়গায় অনুষ্ঠান করা সম্ভব না হওয়ায় পরে সচিবালয়ের সামনের চৌধুরি টিলায় জায়গা বদল করা হয়। সেখান থেকেও নেতা কর্মীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে দল।

আটক অবস্থায় থাকা কর্মীদের খাবার দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। সিজেপির এক নেতার দাবি, দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পরও ঠিক মতো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়নি। তবে পুলিশের তরফে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। প্রথম দিকে পুলিশের বক্তব্যও প্রকাশ্যে আসেনি। পরে অবশ্য কয়েক ঘণ্টা আটক রাখার পর আশুতোষ রাঙ্কা এবং অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধেও সরাসরি অভিযোগ এনেছে সিজেপি। দলের দাবি, সরকারের সমালোচনা এবং স্থানীয় নানা সমস্যা তুলে ধরার কর্মসূচি বন্ধ করতেই পুলিশি পদক্ষেপ করা হয়েছে। আশুতোষ রাঙ্কার অভিযোগ, অসমের সরকারি স্কুলের অবস্থা, বন্যা, জমি এবং কাজিরাঙা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সামনে আনতে শুরু করেছিল সিজেপি। সেই কারণেই তাঁদের আটক করা হয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর তরফে এই অভিযোগের কোনও নিশ্চিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।

গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের সামনে রাঙ্কা দলের পরবর্তী কর্মসূচির কথাও জানান। তাঁর বক্তব্য, শুধু রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলাই নয়, সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলিও সরাসরি নথিভুক্ত করবে সিজেপি। বিশেষ করে সরকারি স্কুলগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখতে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি চালানো হবে। দলের কর্মীরা স্কুলে গিয়ে পরিকাঠামো, শিক্ষক উপস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন বলে জানানো হয়েছে।

ভোটার তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিজেপি। রাঙ্কার দাবি, অসমে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় অনেক মানুষের মধ্যে নানা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের বিধানসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু এলাকায় একই গ্রামের বাসিন্দাদের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থাকে তিনি রাজনৈতিক ভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তবে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিধানসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস দুটি আলাদা বিষয়। সিজেপির এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এখনও হয়নি।

এ দিকে, অসমে সংগঠন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছে সিজেপি। রাজ্যের পাশাপাশি উত্তরপূর্ব ভারতের অন্য রাজ্যগুলিতেও ভলান্টিয়ার দল তৈরি করা হবে। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ সংগ্রহ, ভোটার তালিকা নিয়ে তথ্য খতিয়ে দেখা এবং স্কুল পরিদর্শনের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠন বিস্তারের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

দিনভর টানাপোড়েনের পর শেষ পর্যন্ত আটক নেতা কর্মীদের মুক্তি দেওয়া হলেও, ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিজেপি এবং অসম সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও প্রকাশ্যে এল। পুলিশের পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি এবং আটক হওয়ার কারণ নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। সেই সঙ্গে সিজেপির তোলা অভিযোগের সত্যতা কতটা, তার উত্তরও মিলবে তদন্ত এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপেই।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More