‘কেয়া বোলতি পাবলিক?’ সাধারণ মানুষের সমস্যা জানতে দেশজুড়ে মেগা ক্যাম্পেইন CJP-র

CJP Campaign: মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে সংগঠনের দু’দিনের কোর কমিটি মিটিংয়ের শেষে বৃহস্পতিবার সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

Published on: Aug 7, 2026, 14:46:54 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

CJP Campaign: শিক্ষা, বেকারত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও সুশীল সমাজ। এই চার ইস্যুকে সামনে রেখে দেশজুড়ে নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলায় নজর দেবে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সেই লক্ষ্যেই আগামী মাসে গোটা দেশে ‘ক্যায়া বোলতি পাবলিক’ কর্মসূচি শুরু করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোই সিজেপি-র মূল লক্ষ্য।

সাধারণ মানুষের সমস্যা জানতে দেশজুড়ে মেগা ক্যাম্পেইন CJP-র (PTI)
সাধারণ মানুষের সমস্যা জানতে দেশজুড়ে মেগা ক্যাম্পেইন CJP-র (PTI)

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে সংগঠনের দু’দিনের কোর কমিটি মিটিংয়ের শেষে বৃহস্পতিবার সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke) এই কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, তাঁদের সমস্যা, মতামত ও প্রত্যাশার কথা শোনা এবং সেই ভিত্তিতে জনমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা। অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘ক্যায়া বোলতি পাবলিক’ অভিযান সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হবে এবং ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পৌঁছবে। তিনি জানিয়েছেন, দেশব্যাপী এই প্রচার অভিযানে তাঁদের দলের প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার হতে চলেছে শিক্ষা সংস্কার। বিশেষত, স্কুল-কলেজ এবং কোচিং সেন্টারের ফি যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে মানসম্মত শিক্ষা কার্যত অধরা হয়ে উঠছে বলে দাবি তাঁর।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তাদের এই আন্দোলন সাংবিধানিক নীতির উপর ভিত্তি করেই চলবে। জওহরলাল নেহরু, বিআর আম্বেদকর এবং মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তারা ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক ন্যায়ের জন্য কাজ করবে। দীপকে বলেন, 'সিজেপি জওহরলাল নেহরু, আম্বেদকর এবং গান্ধীর আদর্শে চলবে। আমরা ধর্মনিরপেক্ষ এবং আমরা সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করব।' শিক্ষার পাশাপাশি দেশে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বকেও অন্যতম বড় হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছে সিজেপি। গত মাসে নিট প্রশ্নফাঁস এবং অন্যান্য পরীক্ষায় বেনিয়মের অভিযোগে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে লাগাতার বিক্ষোভ দেখিয়েছিল তারা। ওই আন্দোলনের জেরেই তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। সেই প্রতিবাদের প্রসঙ্গ টেনে অভিজিৎ জানান, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে কেবল পড়ুয়ারাই নন, সারা দেশের বেকার যুবকেরাও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশেরই বয়স ৩৫ বছরের নীচে। যুব সমাজের এই বিপুল উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়েই বেকারত্ব এবং শিক্ষা সংস্কারের লড়াইকে দেশব্যাপী রূপ দিতে চাইছে তাঁর সংগঠন।

অন্যদিকে শুক্রবার এক্স পোস্টে সিজেপি-র কো-কনভেনর সৌরভ দাস (Saurav Das) বলেন, 'শিক্ষা সংস্কার এবং বেকারত্ব আমাদের অগ্রাধিকারের শীর্ষে রয়েছে। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার জন্যও নিরলসভাবে চাপ দিয়ে যাব, কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো যখন তাদের (অ)কর্মের জন্য জবাবদিহি করা বন্ধ করে দেয়, তখন গণতন্ত্র ঠিকমতো কাজ করতে পারে না।' তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচারের বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ করছে তাঁদের সংগঠন। তাঁরা আন্দোলন ও নাগরিকদেরও একত্রিত করতে চান। কারণ, কোনও একক সংগঠন একা একটি দেশকে রূপান্তরিত করতে পারে না। এই কর্মসূচির পাশাপাশি, সিজেপি দেশব্যাপী সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরুর ঘোষণাও করেছে। ছাত্রছাত্রী, তরুণ চাকুরীজীবি, শ্রমিক ও নাগরিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটিতে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের সফলতার পর এবার দেশজোড়া প্রচারের মাধ্যমে সিজেপি জাতীয় রাজনৈতিক ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।